Main Menu

আম বয়ানের মাধ্যমে টঙ্গীতে আজ বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু

আজ ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে টঙ্গীর তুরাগতীরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাবলীগ জামাতের সর্ববৃহৎ মহাসমাবেশ বিশ্ব ইজতেমা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে বাস-ট্রাক, ট্রেন ও লঞ্চযোগে ও পায়ে হেঁটে মুসল্ল¬ীরা ইজতেমা ময়দানে এসে সমবেত হচ্ছেন। পুরো মাঠের জেলাওয়ারী খিত্তায় তাবলীগ জামাতের মুসল্লীরা বুধবার থেকে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার সারাদিনই দলে দলে মুসলল্ল¬¬ীদের কাফেলা বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। সারা দেশ থেকে মানুষের স্রোত এখন টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠের অভিমুখে। মানুষের এ স্রোত আগামী ১০ জানুয়ারী প্রথম পর্বের শেষ দিনে আখেরী মোনাজাতের আগ মূহুর্ত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
এদিকে মুসল্লীদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় ৫স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে। নিরাপত্তার চাদরে ডাকা রয়েছে ইজতেমা ময়দান। যাতে ইজতেমা ময়দানে কোন ধরনের জঙ্গী কার্যক্রম চালিয়ে নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যে কোন জঙ্গী কার্যক্রম প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে।
আগামী ১০ জানুয়ারি রোববার আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমার এ সমাবেশ। মাঝে ৪ দিন বিরতি দিয়ে ১৫জানুয়ারী থেকে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। আগামী ১৭ জানুয়ারী আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দু’পর্বের বিশ্ব ইজতেমা। এ সমাবেশে আগত মুসল্লীদের জন্য টঙ্গীর তুরাগ তীরে ১৬০ একর খোলা জমিনের ওপর পাটের চট দিয়ে মুসল্লীরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সুবিশাল প্যান্ডেল তৈরী করেছেন। তাবলীগ জামাতের এ মিলন মেলায় বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের শতাধিক দেশ থেকে ৩০/৩৫ হাজার বিদেশী মেহমানসহ প্রায় ২০/২৫ লাখ মুসল্ল¬¬¬ীর সমাবেশ ঘটবে বলে আয়োজক কমিটির মুরব্বিরা আশা করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিশ্বের  অর্ধ শত দেশের প্রায় ১০/১২ হাজার তাবলীগ অনুসারী মুসল্লী ইজতেমাস্থলে এসে পৌছেছেন বলে ইজতেমা সূত্রে জানা গেছে। লাখো মুসল্লীর অংশগ্রহণে আজ শুক্রবার দেশের বৃহত্তম জুম্মার জামাত অনুষ্ঠিত হবে এ ইজতেমা ময়দানে।
১৯৬৬ সাল থেকে টঙ্গীর এই তুরাগ নদের তীরে নিয়মিত ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তাবলীগ অনুসারী মুসল্লীর সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় মুসল্লীদের চাপ কমাতে ২০১১ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ইজতেমা মাঠে জায়গা সংকুলান না হয়ায় এ বছর থেকে ৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে মুল ইজতেমার কার্যক্রম। বিশ্ব ইজতেমার শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বীদের সিদ্ধান্তক্রমে প্রথম পর্বে ১৭ জেলা, দ্বিতীয় পর্বে ১৬ জেলার মুসল্লীরা ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবেন। বাকি ৩২ জেলার মুসল্ল¬ীরা আগামী ২০১৭ সালের ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবেন।
ইজতেমা উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ধর্ম মন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এমপি টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ পরিদর্শন করেন। এসময় ধর্মমন্ত্রী হামর্দদের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন করে বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় আগত লাখ লাখ মুসল্লীদের সেবাদানে হামর্দদ আর্তপীড়িত দুঃস্থ্য মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত রয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস.এম আলম, হামর্দদ ল্যাবরেটরীজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশ বোর্ড অব ট্রাষ্টিজের চেয়ারম্যান জাতীয় অধ্যাপক ডাঃ এম আর খাঁন, গাজীপুর পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এড. আজমত উল্লাহ খান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান খান কিরণ, গাজীপুর সিভিল সার্জন মোঃ আলী হায়দার, পরিচালক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লে.কর্ণেল মাহবুবুল আলম চৌধুরী (অব), সহকারী পরিচালক আব্দুল হক, ওয়াকফ প্রশাসক ফয়েজ আহমেদ ভূইয়া, বাংলাদেশের চীফ মোতাওয়াল্লী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. হাকীম মোঃ ইউছুফ হারুন ভূইয়া প্রমুখ।
এদিকে টঙ্গী রেলওয়ে জংশনে ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের সেবাদানে রেলওয়ের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনে আসেন রেল মন্ত্রী মজিবুল হক এমপি। তিনি এসময় রেলওয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মুসল্লীদের সার্বিক সেবাদানে নিয়োজিত থাকার নির্দেশ দেন।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের ২৪ঘন্টা সেবাদানে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। গাজীপুর সিটি মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুর রহমান কিরণ জানান, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রশাসনের নজরদারির জন্য ৫টি কন্ট্রোল রুম নির্মাণ করা হয়েছে। ইজতেমায় আগত দেশী-বিদেশী মুসল্লীদের স্বাগত জানিয়ে ৮টি তোরণ, ইজতেমার নিরাপত্তার জন্য র‌্যাবের ৯টি ও পুলিশের ৫টিসহ মোট ১৪টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ, ইজতেমায় নিয়োজিত নিরাপত্তা সদস্যদের জন্য ১৫০টি অস্থায়ী টয়লেট নিমাণ, ২০টি ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম গ্রহণ, ইজতেমা কর্তৃপক্ষের চাহিদা মোতাবেক ৭০ ড্রাম ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা, ইজতেমা চলাকালীন সময় ২০টি গার্বেজ ট্রাকের মাধ্যমে দিন-রাত বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিশ্চিত করণ, কন্ট্রোল রুম সমূহ ও অন্যান্য অস্থায়ী ভাবে খুটি স্থাপনের মাধ্যমে ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা করণ, তুরাগ নদীতে নিরাপত্তার জন্য টঙ্গী ব্রীজ ও কামারপাড়া ব্রীজের নীচে দুই পার্শ্বে বাঁশ দ্বারা ২টি বেষ্টনী নির্মাণ, ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের চৌরাস্তা পর্যন্ত দুই পার্শ্বে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও রাস্তায় পার্কিং করা গাড়ী সমূহ অপসারণ, ধূলাবালি নিয়ন্ত্রণের জন্য সার্বক্ষণিক পানি ছিটানোর ব্যবস্থা, রাস্তার দুই পাশে দেয়ালের অশ্লীল পোষ্টার অপসারণ ও সিনেমা হলসমূহ সম্পূর্ণ বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ৬টি টেলিফোন লাইন ও ২টি হট লাইন স্থাপন, বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য কন্ট্রোল রুমের সামনে ৫৪টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র স্থাপন, বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আগত বিদেশী মেহমানদের রান্নার কাজের জন্য ১২৫টি গ্যাসের চুলা স্থাপনসহ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটর করা হচ্ছে। ১২টি উৎপাদক নলকূপ দ্বারা ১১ কিঃমিঃ পাইপ লাইন স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিদিন ঘন্টায় ৩ কোটি ৫০ লক্ষ গ্যালন সুপেয় পানি মুসল্লীদের মাঝে সরবরাহ করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানান, ইজতেমাস্থলে তাদের একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে সার্বক্ষণিক কর্মকর্তাসহ ফায়ারম্যানরা অবস্থান করবেন। ময়দানের প্রতি খিত্তায় ফায়ার এক্সস্টিংগুইসারসহ ফায়ারম্যান, গুদাম ঘর ও বিদেশি মেহমান খানা এলাকায় ৩টি পানিবাহী গাড়ি, ৩সদস্যের ডুবুরী ইউনিট, ১টি স্ট্যান্ডবাই লাইটিং ইউনিট এবং ৫টি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। সূত্র আরো জানায়, ইজতেমা মাঠের ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে ইজতেমা মাঠের আশেপাশের এলাকায় পানি ছিটানো হচ্ছে।
ডেসকো’ কর্তৃপক্ষ জানান, ইজতেমা এলাকায় সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উত্তরা, টঙ্গী সুপার গ্রীড ও টঙ্গী নিউ গ্রীডকে মূল ১৩২ কেভি সোর্স হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। যে কোন একটি গ্রীড নষ্ট হলেও সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘিœত হবে না বলে জানায় ডেসকো কর্তৃপক্ষ।  ইজতেমা এলাকায় ৪টি ষ্ট্যান্ডবাই জেনারেটর এবং ৫টি ট্রলি-মাউন্টেড ট্রান্সফরমারও সংরক্ষণ করা হয়েছে মুসল্লীদের সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করার লক্ষ্যে।
নিরাপত্তা বব্যস্থাঃ গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ জানান, ইজতেমা ময়দানে মুসল্লী¬দের নিরাপত্তায় ৫ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলা হয়েছে। গতকাল থেকেই ১২হাজার পুলিশ সদস্য ২৪ঘন্টা মুসল্লীদের নিরাপত্তাদানে নিয়োজিত থাকবে। এছাড়াও ৯টি ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে র‌্যাবের সদস্যরা পুরো ময়দানে মুসল্লীদের নিরাপত্তা কার্যে নজরদারী করবে। এদিকে সাদা পোষাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
মুসল্লীদের জন্য ফ্রি চিকিৎসা কার্যক্রম ঃ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ইজতেমা ময়দানের উত্তর পাশে মন্নু টেক্্রটাইল মিলের মাঠে হামদর্দ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন করেন। এছাড়াও ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্প এলাকায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামী ফাউন্ডেশন, ইবনেসিনা এবং টঙ্গী ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতিসহ ৫৪টি সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের ফ্রি চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করেছে।
গাজীপুর জেলার সিভিল সার্জন ডা: আলী হায়দার খান বলেন, ইজতেমায় আগত মুসল্লীদের চিকিৎসা কার্যক্রমে সকল প্রস্তুতি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের রয়েছে। টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়মিত শয্যা ছাড়াও অতিরিক্ত ৫০টি শয্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। হাসপাতালে একটি নিজস্ব কন্ট্রোল রুম, কার্ডিয়াক, বার্ণ, অ্যাজমা, ট্রমাসহ বিভিন্ন ইউনিট খোলা হয়েছে। এছাড়াও টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের উদ্যোগে টঙ্গীর মন্নুগেট, বাটা গেট ও হোন্ডা রোডে মুসল্লীদের তাৎক্ষণিক সেবা দেওয়ার জন্য ৪টি ফ্রি মেডিকেল সেন্টার খোলা হয়েছে। মুসল্লী¬দের সেবা প্রদানের জন্য টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল সেন্টারগুলোতে ১২টি এ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হোটেলে খাবারের মান ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিষ্ট্রেটসহ  ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভেজাল খাদ্যদ্রব বিক্রিতে তদারকি করা হচ্ছে।
ইজতেমায় বিদেশী মেহমান ঃ  প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে প্রায় শতাধিক দেশের বিদেশী মুসল্লী আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এব্যাপারে টঙ্গীর ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরুব্বীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইজতেমায় আগত বিদেশী মুসল্লী¬দের সঠিক সংখ্যা জানাতে না পারলেও বিশ্বের অন্তত শতাধিক দেশের প্রায় ৩০/৩৫ হাজার বিদেশী মেহমান এবারের ইজতেমায় অংশগ্রহণ করবেন বলে জানান। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের প্রায় কয়েক হাজার বিদেশী মুসল্লী ঢাকার কাকরাইল মসজিদ, উত্তরা, টঙ্গী ও আশপাশের এলাকার মসজিদে মসজিদে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্য থেকে প্রায় ৫/৬ হাজার বিদেশী মুসল্লী¬ ইতিমধ্যে ইজতেমা ময়দানের নির্ধারিত তাঁবুতে অবস্থান নিয়েছেন।
ইজতেমায় বিশেষ ট্রেন ও বাস সার্ভিসঃ ইজতেমা ময়দানে মুসল্লীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ইজতেমা শুরুর আগের দিন থেকে বিআরটিসির ২২৮টি স্পেশাল বাস সার্ভিস আগামী ১৯ জানুয়ারী পর্যন্ত চলাচল করবে। বিআরটিসির একটি সূত্র জানায়, আজ থেকে ১৯ জানুয়ারী পর্যন্ত চলাচলকারী স্পেশাল বাসের মধ্যে ৩টি বাস বিদেশী মুসল্ল¬ীদের জন্য রিজার্ভ থাকবে। আব্দুল¬াহপুর-মতিঝিল ভায়া ইজতেমাস্থল ২৯টি বাস, শিববাড়ী-মতিঝিল ভায়া ইজতেমাস্থল ১৩টি, টঙ্গী-মতিঝিল ভায়া ইজতেমাস্থল ১৭টি, গাজীপুর-চৌরাস্তা, মতিঝিল-ভায়া ইজতেমাস্থল ৬টি, গাবতলী-গাজীপুর ভায়া ইজতেমাস্থল ৫টি, গাবতলী-মহাখালী ভায়া ইজতেমাস্থল ৩৫টি, গাজীপুর-মতিঝিল ভায়া ইজতেমাস্থল ২৫টি, মতিঝিল-বাইপাল ভায়া ইজতেমাস্থল আরো ২০টি বাস চলবে। এছাড়া ঢাকা-নরসিংদী ভায়া ইজতেমাস্থল ২০টি, চট্টগ্রাম রোড-সাভার রোড ২০টি, ঢাকা-কুমিল¬া রোডে চলবে আরো ১৫টি বাস।
অপরদিকে বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লী¬দের যাতায়াতে সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে ২৮টি বিশেষ ট্রেন সার্ভিস পরিচালনা করবে। এ ছাড়াও সকল আন্তঃনগর, মেইল এক্সপ্রেস ও লোকাল ট্রেনে অতিরিক্ত ২০টি কোচ সংযোজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দুই ধাপের ইজতেমার প্রথম ধাপের আজ শুক্রবার ঢাকা-টঙ্গী-ঢাকা দুটি জুম্মা স্পেশাল, আখেরি মোনাজাতের আগের দু’দিন জামালপুর ও আখাউড়া থেকে দুটি করে চারটি অতিরিক্ত ট্রেন পরিচালনা করা হবে। আখেরি মোনাজাতের আগের দিন লাকসাম-টঙ্গী একটি, আখেরি মোনাজাতের দিন ঢাকা-টঙ্গী-ঢাকা সাতটি, টঙ্গী-ঢাকা সাতটি, টঙ্গী-লাকসাম একটি, টঙ্গী-আখাউড়া দুটি, টঙ্গী-ময়মনসিংহ চারটিসহ মোট ২১টি আখেরি মোনাজাত স্পেশাল ট্রেন চালু থাকবে। মুসল¬ীদের সুবিধার্থে ১০ থেকে ১৭ জানুয়ারী ৭২৯/৭২২ মহানগর প্রভাতী/গোধুলী, ১১-১৮ জানুয়ারী সোমবার ৭০৭/৭০৮ তিস্তা এক্সপ্রেস এবং ৮-১৫ জানুয়ারী শুক্রবার ৭০১/৭০২ সুর্বন এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো সাপ্তাহিক বন্ধের দিনগুলোতেও চলাচল করবে। বিশেষ ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে সুর্বন এক্সপ্রেস, তিস্তা এক্সপ্রেস, কালনী এক্সপ্রেস, মহুয়া এক্সপ্রেস, তুরাগ এক্সপ্রেস, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ কমিউটার, ঢাকা-টঙ্গী কমিউটার, ঢাকা-জয়দেবপুর কমিউটার, ঢাকা-কুমিল¬া কমিউডার ট্রেন আখেরী মোনাজাতের দিন বন্ধ থাকবে।

Share Button





Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.