Main Menu

টঙ্গীতে মন্নু টেক্সটাইল মিলস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক পলাতক, ১৪৬ পরীক্ষার্থী পায়নি প্রবেশপত্র : বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র ভাংচুর অগ্নিসংযোগ

শনিবার সন্ধ্যায় টঙ্গীর মিলগেট এলাকার মুন্নু টেক্স্রটাইলস মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের ১শ’ ৪৬ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র না পেয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এসময় শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগসহ প্রধান শিক্ষকের আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা চালায়। ঘটনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল হাই কৌশলে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে টঙ্গী মডেল থানার পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এরিপোর্ট পাঠানো পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলচিল।

শিক্ষার্থীরা জানায়, আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র টঙ্গীর বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে গত ২৩ জানুয়ারি থেকে বিতরণ শুরু হয়েছে। মুন্নু টেক্স্রটাইলস মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের ১শ ৪৬ জন শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষক আবদুল হাইয়ের কাছে প্রবেশপত্র আনতে গেলে আজ না কাল দেয়া হবে বলে কালক্ষেপন করতে থাকে। গতকাল তাদের প্রবেশপত্র দেয়ার নির্ধারিত দিন থাকায় বিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে জড়ো হয়। বিকেল ঘনিয়ে সন্ধ্যা নেমে এলে প্রধান শিক্ষক আবদুল হাইয়ের দেখা না পেয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।

এব্যাপারে পরীক্ষার্থী মোর্শেদা আক্তার কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আজ (শনিবার) এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র দেয়ার শেষ দিন, কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে গেলেও প্রধান শিক্ষক আবদুল হাই স্যারের দেখা না পেয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

অপর পরীক্ষার্থী রনি জানায়, গত ১০ বছর যাবত আমি এই স্কুলে পড়া লেখা করছি। সরকারি ভাবে ফরম ফিলাপের জন্য ১হাজার ৭৫০ টাকা নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও আমার কাছ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা নিয়েছে। তারপরও আমার রেজিষ্ট্রেশন হয়নি। এদিকে বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী রিপন ও শাহিন ক্ষোভের সাথে জানায়, প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির কারনে আমাদের জীবন আজ অনিশ্চয়তার পথে। আমরা কি করবো বুঝে উঠতে পারছিনা। এমুহুর্তে আমাদের আত্বহত্যা ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই।

এদিকে বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক আবদুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল হাইয়ের একক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও চরিত্রগত ত্র“টির কারনে আজ এই দশা। তিনি ক্ষোভের সাথে আরো বলেন, তিনি শুধু একাধিক বিয়ে করেই খান্ত হননি। স্কুলে মহিলা কেরানীর সাথে অবৈধ সর্ম্পক গড়ে তোলার বিষয়টি একটি ছাত্র বলে দেয়ায় তার রেজিষ্টেশন বাতিল করে দেন। তার কারণে স্কুলের রেজিষ্টেশন বাতিল হয়ে যায়। ফলে এসব ছাত্র/ছাত্রীদের আজ স্থানীয় ধুমকেতু স্কুল থেকে পরিক্ষা দেয়ার কথা রয়েছে। প্রবেশ পত্র না পেলে এসব ছাত্র/ছাত্রীরা কি করবে ভেবে পাচ্ছি না। প্রধান শিক্ষক পালিয়ে গিয়ে আমাদের বিপদে ফেলে গেছেন।

এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুল হাই মুঠোফোনে প্রবেশপত্রের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আমি এখন বকশিবাজার শিক্ষা বোর্ডে আছি। এসে কথা বলবো বলেই মুঠো ফোনের লাইনটি কেটে দেন।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.