Main Menu

বন্দিদের হাতকে কর্মীর হাতিয়ারে রূপান্তর করতে হবে’——স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গাজীপুর প্রতিনিধি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অপরাধীদের সহজে শনাক্ত করার জন্য ক্রিমিনাল ডাটাবেজ তৈরি অপরিহার্য। এ কারণে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের তথ্য প্রবাহের সাথে সংযুক্ত করে কারাগারে আগত বন্দিদের ডাটাবেজ তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, কারাগারের ধারণা এখন সংশোধনাগারে রূপান্তরিত হচ্ছে। আমাদেরও সময় এসেছে এ বিষয়ে ভাবার। ইতোমধ্যে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ তে পুনর্বাসন প্রশিক্ষণ স্কুল স্থাপন করা হয়েছে এবং বন্দিদের বিভিন্ন মেয়াদী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া অন্যান্য কারাগারগুলোতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এ ধরনের কর্মকান্ড সম্প্রসারিত করে সকল কারাগারে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে বন্দিদের হাতকে কর্মীর হাতিয়ারে রূপান্তর করতে হবে। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বন্দিদের উপদেশ প্রদানের মাধ্যমে পুনঃঅপরাধকরণ রোধের ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে। বুধবার সকালে গাজীপুরে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার প্রঙ্গণে কারা সপ্তাহ-২০১৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এবারের অঙ্গীকার, কারাগার হোক সংশোধানাগার এই ভাবাদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আগামী কারা ব্যবস্থাপনা ক্রমান্বয়ে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, দেশে ও জাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করণার্থে জঙ্গি, শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং মাদক ব্যবসায়ীরা যাতে কারাগারের ভেতরে বসে অভিনব কায়দায় মোবাইল ফোন ও অন্যান্য নিষিদ্ধ দ্রব্য নিয়ে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য লাগেজ স্ক্যানার, বডিস্ক্যানারসহ অত্যাধুনিক নিরাপত্তা যন্ত্রপাতি সংযোজনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এ সকল যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে কারা প্রশাসন ও এর নিরাপত্তাকে আরো সুদৃঢ় ও সমৃদ্ধশালী হবে। তিনি বলেন, দেশর আইনশৃঙ্খলা নিরন্ত্রণের স্বার্থে অপরাধীদের সহজে শনাক্তকরণের উদ্দেশ্যে ক্রিমিনাল ডাটাবেজ তৈরি করা অপরিহার্য। এ কারণে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পাসপোর্ট অধিদফতরের তথ্য প্রবাহের সঙ্গে সংযুক্ত করে কারাগারে আগত বন্দিদের ডাটাবেজ তৈরির প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, যুদ্ধপরাধীদের রায় বাস্তবায়নে কারা বিভাগের কার্যক্রম প্রসংশনীয়। অপরাধীদের নিরাপদে আটক রেখে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় যে গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। তার জন্য কারা বিভাগের সকল সদস্যদেরকে ধন্যবাদ জানাই। শীর্ষ সন্ত্রাসী, জঙ্গি এবং মাদকপাচারকারীদের কোন প্রলোভনেই সহয়তা করবেন না। এদের প্রতি জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করতে হবে।
প্রধান অতিথি সেখানে রাষ্ট্রীয় সালাম গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরে পায়রা উড়িয়ে কারা সাপ্তাহের উদ্বোধন করেন। মন্ত্রী কারা কর্মকর্তাবৃন্দকে র‌্যাংক ব্যাজ এবং সেরা জেল ও বিভাগকে ক্রেস্ট প্রদান করেন এবং কারারক্ষীদের অস্ত্রবিহীন যুদ্ধ মহড়া প্রদর্শন অবলোকন করেন। তিনি কারা সপ্তাহ উপলক্ষে কারাগার প্রাঙ্গণে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন। মন্ত্রী কেন্দ্রীয় প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র উদ্বোধন এবং সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও দিনাজপুর কারাগার উদ্বোধনের ফলক উন্মোচন করেন। এসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন, অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. ফজলুল কবীর, কারা উপ মহাপরিদর্শক মো. তৌহিদুল ইসলাম, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম আলম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ পিপিএম, গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক প্রাক্তন এমপি আখতারউজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান ও কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন তাকে স্বাগত জানান।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.