Main Menu

মশার কয়েল ব্যবহারে ভয়ানক স্বাস্থ্য ঝুঁকি হৃদরোগ, ক্যান্সার ও বিকলাঙ্গ হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা

কাজী মোসাদ্দেক হোসেন : সাধারণ মানুষের অবৈধ ও অনুমোদনহীন মশার কয়েল ব্যবহার না করারও পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। গতকাল মঙ্গলবার সিরডাপ মিলনায়তনে স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি সংগঠনের ‘অনুমোদনহীন মশার কয়েল জনস্বাস্থ্যের বিপর্যয় ডেকে আনছে’ –  শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, স্বাস্থ্য রক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যহানি রোধ করতে দেশের অবৈধ মশার কয়েল উতপাদনকারী কারখানাগুলো বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, মশার উৎপাদনস্থলগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। আমরা যেমন ভাবে ম্যালেরিয়া, ডেক্সগু দমন করেছি তেমনিভাবে সদিচ্ছা থাকলে মশাও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো এবং একটি মশামুক্ত দেশ গড়তে পারবো। তথ্যমন্ত্রী বলেন, মশার কয়েল একটা কীটনাশক, তাই মশার কয়েল উৎপাদন করতে অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিএসটিআই কিংবা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন নিয়ে কয়েল তৈরি করা দরকার। মশা একদিকে যেমন জটিল রোগের কারণ তেমনিভাবে মশা নিধনের কয়েল আবার শিশু ও মায়ের জন্যে অনেক বেশি ক্ষতিকর। প্যারাসাইটোলজি নিপসন এর বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, মশার কয়েল নিরাপদ হওয়ার পরও এতে ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। কয়েলের ধোঁয়াতে নাক, গলা, ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মশার কয়েল ব্যবহারের পরিবর্তে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে যদি মশা নিধন করা যায়, তাহলে মশার কয়েল ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হবে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ওয়ানাইজা। তিনি বলেন, মশা তাড়াতে কয়েল, ¯েপ্র, ইনসেকটিসাইডস ব্যবহারের বিকল্প নেই। কিন্তু সেই কয়েলে যদি রাসায়নিক ব্যবহারের পরিমাণ বেশি হয়, তাহলে নানা ধরনের রোগ হতে পারে।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষিত মাত্রার চেয়ে ভিন্ন বা বেশি মাত্রার এসব কয়েল আমাদের দেশে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনছে। দীর্ঘদিন এসব কয়েল ব্যবহারের ফলে মানব শরীরে বাসা বাঁধছে ভয়ঙ্কর সব রোগ। বক্তারা বলেন, অনুমোদনহীন কয়েলে একটিভ ইনগ্রেডিয়েন্ট (ক্যামিকেল) যথেষ্ট ব্যবহারের ফলে ক্যান্সার, শ্বাসনালীতে প্রদাহসহ বিকলঙ্গতার মতো ভয়াবহ রোগ হতে পারে। এমনকি গর্বের শিশুও এসব ক্ষতির শিকার হতে পারে। খাদ্যের ফরমালিন ও পানির আর্সেনিকের প্রভাব যেমন দীর্ঘমেয়াদী, তেমনি এসব কয়েলের বিষাক্ত উপাদান মানুষের শরীরে দীর্ঘ মেয়াদী জটিল রোগের বাসা তৈরি করছে। আমারহেলথ ডটকম এর স¤পাদক ডা. অপূর্ব পন্ডিতের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন বিএসটিআই এর পরিচালক আখতারুজ্জামান, হেলথ এন্ড হোপ হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিলকিস বেগম চৌধুরী, মালয়েশিয়ার ইনভায়রনমেন্টাল হেলথ টেকনোলজি সেন্টারের ডিরেক্টর ড. মুনি সেরিট, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কীটনাশক উইং এর মো. আরমান হায়দার, এসিআই কনজ্যুমার র্ব্যান্ডের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আলমগীর প্রমুখ।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.