Main Menu

মৌলভীবাজারের শিশু পার্ক যেনো অপরাধিদের স্বর্গরাজ্য

মোঃ আব্দুল কাইয়ুম,মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন শিশু পার্ক,তবে এটি এখন উঠতি বয়সি বখাটে অপরাধিদের অভয়ারন্যে পরিনত হয়েছে, যেন দেখার কেউ নেই। আর এেেত্র এখানকার প্রশাসনও সম্পূর্ন নির্বিকার।স্কুল/কলেজ ফাঁকি দিয়ে উঠতি বয়সী তরুন তরুনীরা কাস টাইমে এখানে এসে জরিয়ে পরছে নানা অসামাজিক কর্মকান্ডে,গাছের ঝোপ,পার্কের ভিতরের পরিত্যাক্ত ভবনের বিভিন্ন রুমে, কিংবা বাতরুমে বসে প্রেম নিবদনের নাম করে দিনে দুপুরেই লিপ্ত হচ্ছে অবাদ যৌনাচারে। অনেক অভিবাবকরা হয়তো ভাবছেন তাদের আদরের সন্তান স্কুল,কলেজের সুশিতল ছায়াতলে অথবা শ্রেনী কে পাঠদান শেষে বাড়ি ফিরবে, কিন্তু না, তারাতো তার পরিবর্তে নানা অপরাধে জরিয়ে নিজেকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। তাদের এহেন কর্মকান্ডে অভিবাবকরাও সংকিত।গত কাল দুপুরে সরেজমিনে জেলা প্রশাসন শিশু পার্কে গিয়ে দেখা গেছে শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিার্থীরা স্কুল ড্রেস ও কলেজের নির্ধারিত ড্রেস পরেই এখানে এসে বিভিন্ন অপ্রিতিকর কর্মকান্ডে জরাচ্ছে। সাংবাদিক প্রবেশ করেছে একথা শুনা মাত্রই পালানোর চেষ্ট করতে দেখা গেছে অনেক তরুন তরুনিকে। পার্কের পরিত্যাক্ত দু তলা ভবনটির ছাদে উঠে দেখা গেছে এক প্রান্তে হাফিজা খাতুন স্কুলের কয়েক শিার্থী কিশোরী অপ্রিতিকর অবস্থায় আর অন্য প্রান্তে দেখা গেছে শহরের উঠতি বয়সি বখাটে তরুনদের ১৫ থেকে ২০ জনের একটি অসৃংখল দল। কেউ বসে সিগারেট খাচ্ছে আবার কেউ হিরইনের মতো মরন নেশায় হাবু ডুবু খেতে দেখা গেছে। জানা গেছে এখানে ঘুরতে আসা তরুন তরুনীদের এরা বিভিন্ন সময়ে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা পয়সা,মোবাইল ছিনিয়েই ান্ত হয়নি,গাছে বেঁেধ মারপিট ও মেয়েদের জোর পূর্বক দর্ষনের অভিযোগও পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে। ঐ পার্কটিতে সার্বনিক তদারকির জন্য কেয়ারটেকার থাকার কথা থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে তাদের দেখা পাওয়া যায়নি।এমন অবস্থায় সচেতন অভিবাবক বা শিশু-কিশোররা ভয়ে ঐ পার্কে এখন আর আগের মতো যেতে সাহস পাননা। সূত্রে জানা গেছে সন্ধ্যার সূর্য ডোবার পর পরই এখানে শহরের মাদক সেবীদের আনাগোনা আসংখা জনক হারে বেড়ে যায়,আর তা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল হাসানের সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুকুর রহমান সিকদারের সাথে তিনি এ বিষয়ে বলেন, এই পার্কটিকে কেন্দ্র করে এখানে যারা এসে বিভিন্ন অপরাধে জরিয়ে পড়ছে তারাতো এখানকার ছেলে মেয়ে,তাই আপনারা সাংবাদিক সহ এলাকার সচেতন মহল এ ব্যাপারে এগিয়ে আসলে এ বিষয় গুলো প্রতিরুধ করা সম্ভব । আর আমি পার্কটিতে কেয়ারটেকার হিসেবে যারা আছেন তাদের বলে দেব তারা যেন সঠিক ভাবে তদারকি করে। জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন মাসুদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আসলে এখানে শিশুদের বিনোদনের জন্য কোন জায়গা ছিলনা,তাই সাংবাদিক,সাংস্কৃকি কর্মি সহ বিভিন্ন সূধী মহলের দাবীর প্রেেিত তৎকালিন জেলা প্রশাসনের সাথে সম্বন্নয় করে এ পার্কটি চালু করা হয়। তবে পার্কটির বিষয়ে জেলা প্রশাসনই ভালো বলতে পারবেন।তিনি আরো জানান জেলা প্রশাসন নতুন করে পার্কটিতে বিভিন্ন ধরনের রাইড ক্রয় করে নতুন ভাবে এটাকে সংস্কারের উদ্যেগ নিয়েছেন, আশা করি অল্প দিনের মধ্যেই এই পার্কটি নতুন রুপে ভিন্ন আঙ্গিকে দেখতে পারবে শহর বাসী।
প্রবাসী অধ্যুসিত প্রথম শ্রেনী স্বীকৃতি প্রাপ্ত মৌলভীবাজার জেলা শহরে শিশুদের বিনোদনের জন্য খুব একটা সুযোগ সুবিধা নেই বললেই চলে। বিভিন্ন দেশে থাকা এখানকার প্রবাসীরা প্রতি শীত মৌসুম শুরু হলেই নারীর টানে চলে আসেন নিজ শহরে।দেশে এসে নিজের আতœীয় স্বজনের খোজ খবরের পাশা পাশি বিকেল বেলা সন্তানদের নিয়ে একটু ঘুরে বেড়াতে চান, কিন্তু এখানে প্রবাসীদের সন্তানদের বিনোদনের জন্য নেই কোন পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা।এ নিয়েও প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের ােভ বিরাজমান। প্রবাসী ছাড়াও জেলা শহর মৌলভীবাজারে রয়েছেন সরকারী/বেসরকারী চাকুরীজিবী,ব্যাবসায়ী সহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। বিগত চার দলীয় জোট সরকারের শাসনামলে মৌলভীবাজার শহরের অবকাটামো খাতের অভুতপুর্ব উন্নয়ন হলেও তার ছিটা ফোটাও লাগেনি বিনোদন কিংবা পর্যটন খাতে । এখানে ঐ সময় যত উন্নয়ন হয়েছে তার সবই হয়েছে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহম নের হাত ধরে। স্কুল,কলেজের শিার্থী,অভিবাবক ও শিশুদের অবসর সময়ের বিনোদনের জন্য এখানে এখনো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি কোন বিনোদনের ব্যাবস্থা।বিগত ২০১২ সালে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের দাবীর প্রেেিত তৎকালিন জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমানের উদ্যেগে জেলা প্রশাসন শিশু পার্ক করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে,অবশেষে জেলা প্রশাসনের উদ্যেগে শহরের প্রাইমারী ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের পাশে সরকারী পরিত্যাক্ত জায়গায় গড়ে তোলা হয় জেলা প্রশাসন শিশু পার্ক।বছর তিনেক পূর্বে এই পার্কটিতেই পহেলা বৈশাখ উপল্েয শিশু সংগঠন সবুজকুঁড়ি আসর সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনকে নিয়ে দিন ব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৈশাখী পিঠা মেলার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের এমন উদ্যেগকে ঐ সময় সাধুবাদ জানায় বিভিন্ন মহল। শিশু-কিশোর অভিবাবক ও প্রকৃতি প্রেমীরা খুজে পায় অবসর সময়ে বেড়ানো কিংবা সময় কাটানোর নত’ন ঠিকানা। তাদের এমন আশার প্রেেিত পার্কটিতে বসানো হয় দোলনা,বসার জায়গা সহ নিশ্চিত করা হয় বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা। তবে দুঃখজনক হলে সত্য এই পার্কটিতে ঘোরতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার নুন্যতম ব্যাবস্থা এখানে নেই বললেই চলে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.