Main Menu

অপারেশন রেল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে আনসার বাহিনী –প্রধানমন্ত্রী

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সরকার আনসার বাহিনীর সদস্যদের জন্য কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে পাঁচ লাখ টাকার অনুদানের ব্যবস্থা করেছে। আহতদের জন্যও অনুদানের ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যাটালিয়ন আনসারদের পারিবারিক রেশনের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। মহিলা থানা প্রশিক্ষিকাদের চাকরি স্থায়ী করা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে বিএনপি জামায়াতের তান্ডবের সময় এ বাহিনীর সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময়ে অপারেশন ‘রেল রক্ষা’ দায়িত্ব পালন করে এ বাহিনীর সদস্যরা সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেছে। মানুষের জানমাল রক্ষা করা পবিত্র দায়িত্ব। এসময় তৃণমুল বাহিনী হিসেবে বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই বাহিনীর কর্মকর্তারা সেনাবাহিনীর ট্রেনিং সেন্টার ছাড়াও বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩৬তম জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি গাজীপুরের সফিপুরে আনসার ভিডিপি একাডেমিতে আনসার বাহিনীর সমাবেশের প্রধান অতিথি হিসেবে কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। এসময় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাহিনীর বেশ কিছু সদস্যদের পদক পরিয়ে দেন। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হওয়ার পর একটি খোলা জিপে করে প্যারেড পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর আনসার বাহিনীর সদস্যরা কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করেন। কুচকাওয়াজের পর কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে আনসার সদস্যদের পদক পরিয়ে দেন তিনি । এরপর এ বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিক-নির্দেশনামুলক বক্তব্য দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, গত পৌরসভা নির্বাচনে আনসার বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে আনসার বাহিনীর সদস্যদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তিনি এ বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনে আনসার বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ বাহিনীর ৬৭০ জন সদস্য মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। একাত্তরে তারা মুক্তিকামী জনগণের মধ্যে ৪০ হাজার অস্ত্র বিতরণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, এ বাহিনীর ২০ জন বীর সদস্য বাংলাদেশের প্রথম সরকার মুজিবনগর সরকারের শপথের দিনে গার্ড অব অনার দিয়েছিলেন। আমরা গভীর শ্রদ্ধাভরে তাদের স্মরণ করি।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের আমলের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, সরকার পহেলা জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই তুলে দিয়েছে। দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে ৩০ প্রকার ওষুধ বিনা মূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। সারাদেশে ডিজিটাল সেন্টার চালু করা হয়েছে। পোস্ট অফিগুলোকে ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত দেশে রুপান্তর করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশে আজ মাথাপিছু আয় বেড়ে ১৩২৬ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। দারির্দ্র্যরে হার কমেছে। বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। এর আগে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে আনসার-ভিডিপি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী । এ সময় তাকে অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সচিব মোজ্জামেল হক খান, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নাজিম উদ্দীন,মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশ আনসারের পদস্থ কর্মকর্তাগণসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী আনসার সদস্যদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।এ উপলক্ষে পুরো একাডেমিকে বর্ণিল সাজে সুসজ্জিত করা হয়েছে। সারা দেশে ১৮ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার, ৩ লাখ অঙ্গিভূত আনসার এবং ৫৯ লাখ গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ হাজার আনসার সরকারিভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে চাকরি করছেন। বাকিরা সরকারি প্রয়োজনে নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে কাজ করে থাকেন। এবারের কুচকাওয়াজে ৬ শতাধিক আনসার ভিডিপি অংশ নিয়েছেন। এছাড়াও দরবারসহ বিভিন্ন পর্বে আড়াই হাজার আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা অংশ নেন। এছাড়াও কুটিরশিল্প প্রদর্শণী, গ্যালারী ডিসপ্লে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দরবারসহ বিভিন্ন পর্বে আড়াই হাজার আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা যোগদান করেন। অনুষ্ঠানে তিন জনকে বাংলাদেশ আনসার পদক (সাহসিকতা), সাতজনকে প্রেসিডেন্ট আনসার পদক (সাহসিকতা), একজনকে মরনোত্তর বাংলাদেশ গ্রাম প্রতিরক্ষা দল পদক (সাহসিকতা), ছয়জনকে বাংলাদেশ গ্রাম প্রতিরক্ষা দল ( সেবা) পদক, ৩৭ জনকে প্রেসিডেন্ট আনসার ( সেবা) পদক, ১৯ জনকে প্রেসিডেন্ট গ্রাম প্রতিরক্ষা দল ( সেবা) পদক প্রদান করা হয়। এছাড়া ২০১৪-১৫ কার্যকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অস্ত্র উদ্ধারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ১৭ জনকে স্বর্ণপদক, দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ২৫ জনকে রৌপ্যপদক, তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ২১ জনকে ব্রোাঞ্জ পদক ও ৪০ জনকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।






Related News

Comments are Closed