Main Menu

আজ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কময় পিলখানা হত্যা দিবস

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। পূর্ণ হলো পিলখানা বিদ্রোহ আর হত্যাযজ্ঞের সাত বছর, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কময় দিন। ২০০৯ সালের এই দিনে তৎকালিন বাংলাদেশ রাইফেলস বা বিডিআরের জওয়ানরা সশস্ত্র বিদ্রোহে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা করে। নৃশংস এই ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো বাংলাদেশ।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। বুধবার সকাল ৯টা ২৭ মিনিট। পিলখানার ভেতর থেকে ভেসে আসে লাগাতার গুলির শব্দ। অনেকেই ভেবেছিলেন, নিয়মিত মহড়া। কিন্তু ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই জানা যায় বিদ্রোহের ঘটনা।

সেদিন বিডিআর সদর দফতরে ছিল বার্ষিক দরবার। দরবার চলাকালে একদল বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিক ঢুকে পড়ে। তাঁদের একজন বিডিআর মহাপরিচালকের বুকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেন। বিডিআরের বিদ্রোহী সৈনিকরা সেনা কর্মকর্তাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মুখে লাল কাপড় বেঁধে, বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে বিডিআর জওয়ানরা ছড়িয়ে পড়েন পুরো পিলখানায়। তাঁরা সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করে তাঁদের পরিবারকে জিম্মি করে ফেলেন। চারটি প্রবেশ গেট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আশপাশের এলাকায় গুলি ছুড়তে থাকেন বিদ্রোহী সৈনিকরা। তাঁদের গুলিতে একে একে লুটিয়ে পড়তে থাকেন মেধাবী সেনা কর্মকর্তারা।

সকাল পৌনে ১১টার দিকে সেনাবাহিনীর প্রথম আর্মড পার্সোনাল ক্যারিয়ার (এপিসি) পৌঁছে ধানমন্ডিতে। বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীসহ দুজন সংসদ সদস্য শান্তির পতাকা নিয়ে পিলখানায় ঢোকেন। বিদ্রোহী সদস্যরা তাঁদের দাবির কথা জানাতে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে যান। চলে বৈঠক। রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে কিছু বিডিআর সদস্য। জিম্মি দশা থেকে মুক্ত হয়ে আসেন কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা। পরদিন রাতে রেডিও-টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে বিদ্রোহের পথ থেকে সরে আসার জন্য বিডিআর সদস্যদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বিদ্রোহী জওয়ানরা অস্ত্র সমর্পণে সাড়া দেওয়ার পর ২৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পিলখানার ভেতরে ঢোকে পুলিশ। উদ্ধার করে সেনা কর্মকর্তাসহ অন্যদের মৃতদেহ। পাওয়া যায় গণকবর। একটি রক্তাক্ত অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শ্বাসরুদ্ধকর তিনটি দিন।

এই হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তা, একজন সৈনিক, দুজন সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী, ৯ বিডিআর সদস্য এবং ৫ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিডিআরের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে যায়।

বিডিআরের নাম, পোশাক, লোগো, সাংগঠনিক কাঠামো, পদোন্নতি ইত্যাদি পুনর্গঠন করা হয়। নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পরিবর্তন করা হয় বিডিআর বিদ্রোহের আইন। বর্ডার গার্ড আইনে বিদ্রোহের সর্বোচ্চ সাজা রাখা হয় মৃত্যুদন্ড। বিদ্রোহের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় বিশেষ আদালত ১৫২ জনকে ফাঁসি, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন।

সরকার বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাকে ‘পিলখানা হত্যা দিবস’ হিসেবে প্রতি বছর পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় বনানী সামরিক কবরস্থানে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন প্রতিনিধি ওই পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, তিন বাহিনীর প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং বিজিবির মহাপরিচালক সেনা কর্মকর্তাদের কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

শোকাবহ দিনটিতে নিহতদের স্মরণে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে নিহতদের প্রতি রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রদ্ধা জানান।

Share Button





Related News

Comments are Closed