Main Menu

এটিএম কার্ড জালিয়াতির মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ৪

রাজধানীতে ব্যাংকের ডেবিট কার্ড জালিয়াতি চক্রের অন্যতম হোতা পোলিশ নাগরিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পোলিশ নাগরিক পিটার স্কেজেফান মাজুরেক, মোকসেদ আল ওরফে মাকসুদ, রেজাউল করিম ওরফে শাহিন ও রেফাজ আহমেদ ওরফে রনি।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, গত রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান থানা এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে একটি পাসপোর্ট ও জার্মান নাগরিক আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত পিটারের বরাত দিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, তিনি ইউক্রেনে জন্মগ্রহণ করলেও মূলত সে জার্মান নাগরিক। অন্যের পাসপোর্ট চুরি করে থমাস থেকে পিটার হয়ে যায়। মিথ্যা নাম পরিচয় দিয়ে এক বছর আগে জনশক্তি রপ্তানীর ব্যবসার কথা বলে বাংলাদেশে আসে। এরপর কিছু লোক সে বিভিন্ন দেশে পাঠালেও মূলত তার উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংকের টাকা জালিয়াতি করে আত্মসাৎ করা। তিনি একটি বাংলাদেশী মেয়েকে বিয়েও করেন। তার দুই সপ্তাহ বয়সী একটি সন্তানও রয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত। পূর্ব ইউরোপের রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, ইউক্রেন ও পোল্যান্ড ভিত্তিক এই আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র ইউরোপসহ আফ্রিকা এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তৎপর রয়েছে।

এক লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশী, বুলগেরিয়ান ও ইউক্রেনের নাগরিককে নিয়ে গ্রেপ্তারকৃত পিটার এই ঘটনার পরিকল্পনা করে। এছাড়াও গ্রেপ্তারকৃত তিন বাংলাদেশী কার্ড স্ক্যামিংয়ের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। এরা সিটি ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের কর্মকর্তা। এই ঘটনায় জড়িত অপর দুইজন বিদেশী ও একজন প্রবাসী বাংলাদেশী টাকা জালিয়াতির পরপরই বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যায়।

গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আরো বলেন, বিদেশী নাগরিকদের দ্বারা সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত অপরাধ বাংলাদেশে এটাই প্রথম। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংকের এটিএম বুথের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে কার্ড স্কিমিং পদ্ধতিতে কার্ডের তথ্য চুরি করে অবিকল নকল কার্ড তৈরি করে জালিয়াতিতে অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে এই অপরাধী চক্র।

তারা ইতোপূর্বে শত কোটি টাকা ব্যাংক থেকে চুরি করেছে তবে তা বিদেশী হিসাব থেকে নেওয়ার কারণে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল ছিলনা। গত ৭/৮ দিন আগে ইউসিবিএল, সিটি ও ইস্টার্ন ব্যাংক থেকে টাকা নেওয়ার কারণে বাংলাদেশী ব্যাংকগুলোর টনক নড়ে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম, দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার মাশরুকুর রহমান খালেদ, পূর্ব বিভাগের উপ-কমিশনার মাহবুবুল আলম, গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার মো. মারুফ হাসান সরদার, উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ শাহজাহান ও গণমাধ্যম শাখার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার।






Related News

Comments are Closed