Main Menu

কালীগঞ্জে খ্রীস্টান ক্রেডিক ইউনিয়নে ডাকাতি, নৈশ প্রহরী আহত

কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালীগঞ্জে আবারো দুর্ধর্ষ এক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এবার উপজেলার নাগরী খ্রীস্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নে দুর্ধর্ষ এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সংগঠিত ওই ডাকাতির ঘটনায় নগদ টাকাসহ প্রায় ১৫/১৬ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ওই ক্রেডিট ইউনিয়নের লোকজন। বুধবার দিবাগত আনুমানিক রাত ২টার দিকে উপজেলার নাগরী বাজার সংলগ্ন ক্রেডিট ইউনিয়নের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ক্রেডিট ইউনিয়নের দুই নৈশ্য প্রহরীকে এলোপাতারি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে সশস্ত্র ডাকাত দল।
এ নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গত ৬ মাসে ২০টি দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে ওইসব ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কাউকে আটক করতে না পারায় এ উপজেলায় দিনের পর দিন ডাকাতির ঘটনা বেড়ে চলেছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
ক্রেডিট ইউনিয়নের সভাপতি প্রদীপ এ গমেজ দুই নৈশ্য প্রহরী বরাদ দিয়ে জানান, বুধবার দিবাগত আনুমানিক রাত ২টার দিকে ৩০/৩৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ক্রেডিট ইউনিয়নের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। দুই নৈশ্য প্রহরী মুকুল কস্তা ( ৫৫) ও আশীষ কস্তার (৩২) হাত-পা বেঁধে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। পরে মূল কলাপসিপল গেইটের তালা ভেঙ্গে অফিসে ঢুকে এবং অফিসের ভৌল্ড ভেঙ্গে সাত লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ডাকাত দল অফিসের বেশ কিছু ল্যাপটপসহ মূল্যবান ফার্নিচার ভাংচুর করে। সশস্ত্র ডাকাত দল অফিসের ৭টি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ভাংচুর করে ক্যামেরার রেকর্ড নিয়ে যায়। এ ঘটনায় আহত দুই নৈশ প্রহরীকে জরুরী ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকার একটি হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ক্রেডিট ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক তপন ফিলিপ রড্রিক্স বলেন, ক্রেডিট ইউনিয়নের অফিসে সংগঠিত ওই ডাকাতির ঘটনায় নগদ টাকাসহ প্রায় ১৫/১৬ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আগামীকাল (আজ) শুক্রবার খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সাধু আন্তনির তীর্থোৎসব। আর এত বড় অনুষ্ঠানের ঠিক এতদিন আগে এমন ঘটনা খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীদের ভাবিয়ে তুলেছে।
স্থানীয়রা জানায়, গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে চলতি বছরে ফেব্রুয়ারীর ০৪ তারিখ পর্যন্ত উপজেলার নাগরী, জামালপুর, মোক্তারপুর ও জাঙ্গালীয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ২০টি দুধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ওইসব ঘটনায় কমপক্ষে ৮০/৮৫ জন আহত হয়েছে। আর সংগঠতি ওই ২০টি ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত দল নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ কয়েক কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, সংগঠতি ওই ডাকাতির ঘটনাগুলোর ব্যাপারে থানা পুলিশ ডাকাতির মালামাল উদ্ধার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে এর কোনটির ব্যাপারে ভূক্তভোগীদের মামলা না করতে নিরুৎসাহিত করে। কিন্তু বাস্তবে ডাকাতি হওয়া মালামাল তো উদ্ধার হয়ইনি বরং মামলা না নিয়ে ডাকাতদের আটক না করার কারণে এ উপজেলায় ডাকাতের উৎপাত অনেক বেড়েছে। সূত্র আরো জানায়, উপজেলায় ডাকাতির কোন ঘটনা ঘটলেই থানা পুলিশ এটাকে সাজানো ঘটনা অথবা চুরি বলে চালিয়ে দেওয়ার পায়তারা করে। ফলে প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। আর দিনের পর দিন এলাকার সাধারণ মানুষ থাকে ডাকাত আতঙ্কে।
এ ব্যাপারে বিকেল ৪টায় কালীগঞ্জ থানায় গিয়ে এবং মুঠো ফোনে একাধীকবার কল করেও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুস্তাফিজুর রহমানকে পাওয়া যায়নি বলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানার অধীনে নাগরী ইউনিয়নের উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এইআই) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.