Main Menu

ক্যাম্পাস প্রেম

সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু করে দিনে-রাতে মোট ১০-১২ বার ক্যাম্পাস আর শহরে আসা-যাওয়া করে শাটল। ২২ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে দিতে ট্রেনের ভেতরে ভালোবাসার গল্প জমে, ভাঙে-গড়ে , কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অভি শাটলে উঠেই লুবনার জন্য সিট রাখলেন। লুবনা ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞানে পড়েন, তাঁর এক বছরের জুনিয়র। দুজনের পরিচয় হয়েছে গণজাগরণ মঞ্চে। লুবনা স্লোগান দিতেন। তাঁর সংগ্রামী মুখ দেখার জন্য প্রতিদিন প্রেসক্লাবের সামনে হাজির থাকতেন অভি। ভালোবাসার শুরু শাটলে। গরমে অতিষ্ঠ-ক্লান্ত লুবনাকে একদিন তিনি সিট ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরে নম্বর বিনিময়, ভালোবাসার শুরু। পুরনো কথাগুলো ভাবতে ভাবতেই ফোন এলো—‘সিট রেখেছ?’ ‘পেছন থেকে তিন নম্বর। গুনে গুনে সিক্সটি নাইনে বসে পড়লেন লুবনা। ততক্ষণে ট্রেন ছেড়েছে, গান শুরু হয়েছে—‘মেরিন সায়েন্সের মেয়েদের বিয়ে কইরো না/জলে ডুইবা মইরা যাইবা/টেরও পাইবা না।’ বগির আশপাশের মেয়েদের মুখে মুচকি হাসি।

ইতিহাসের তুষার বন্ধুদের সঙ্গে ঝগড়ায় ব্যস্ত। রূপা আর ওর বান্ধবীদের জন্য রাখা সিটে বন্ধুরা বসে পড়তে চাইছে। অনেক চেষ্টা করেও সিট রাখতে পারলেন না। তবে শর্ত দিলেন, রূপা এলে কিন্তু সিট ছেড়ে দিতে হবে। শর্তে রাজি বন্ধুরা মুখভর্তি হাসি নিয়ে সিটে বসে পড়ল। ক্যান্টনমেন্টে ট্রেন দাঁড়ানোর দুই মিনিটের মাথায় দলবল নিয়ে ট্রেনে উঠলেন রূপা। তুষারের বন্ধুরাও সিট ছেড়ে দিলেন। রূপার বান্ধবীরা সেগুলোতে টপাটপ বসে পড়লেন। শাটলে এসব নিত্য দেখেন ড. প্রমথেশ বড়ুয়া। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। কোনো দিন ছেলেমেয়েদের কাণ্ড দেখে মুচকি হাসেন, কোনো দিন মুখের ওপর কাগজ মেলে দেন। তাঁর কাছাকাছি বসে তখন গল্প করছিলেন শামীম আর তিথি। তিথি পড়েন জনপ্রশাসনে, শামীম আন্তর্জাতিক সম্পর্কে। এসব গল্পে-আড্ডায়-প্রেমে ফতেয়াবাদ ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে শাটল ক্যাম্পাসে পৌঁছল। সিক্সটি নাইন থেকে নেমে পড়লেন রূপা। অভিও নামলেন। পাশাপাশি হাঁটতে হাঁটতে জিরো পয়েন্টের দিকে এগিয়ে গেলেন তাঁরা। বাই বাই বলে বন্ধুদের দলে মিলে গেলেন রূপা। একটু ইতস্তত করে অভি জিজ্ঞেস করলেন, কটায় ক্লাস শেষ? ১টায়, উত্তর এলো। সমাজবিজ্ঞানের ঝুপড়িতে দেখা হবে বলে বিদায় নিলেন অভি।






Related News

Comments are Closed