Main Menu

গাজীপুরে পিকনিক স্পট গুলোতে দেহ ব্যবসা জমজমাট, প্রশাসন নির্বিকার

ক্রাইম রিপোর্টার : গাজীপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে পিকনিক স্পটে নামে গড়ে ওঠা স্পট গুলাতে অবাধে চলছে রমরমা সুন্দরী ললনাদের নিয়ে চলছে দেহ ব্যবসা । গাজিপুরের পোড়াবাড়ি থেকে শুরু করে মাওনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ঢাকা ময়মনসিংহ সড়কের উভয় পাশে যে সব পিকনিক স্পট গুলা আকর্ষণীয় চমকপ্রদ নাম দিয়ে বিশাল আকৃতির সাইনবোর্ড শুটিং স্পট ও নাটকের জন্য ভাড়া দেওয়া হবে বলে টাঙ্গানো আছে। এসব স্পটে পিকনিকের নামে চলছে রুম ভাড়া ভিত্তিক ঘণ্টা হারে দেহ ব্যবসা।
সমজের এক ধরনের খারাপ প্রকৃতির প্রভাবশালীরা এসব নিয়ন্ত্রন করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা । গাজীপুরের ভবানিপুরে গ্রীন টেক রিসোর্ট ,ইথেন গার্ডেন, রাজেন্দ্র ইকো রিসোর্ট, মেম্বার বাড়ি পাটপচা গ্রামের দিবা নিশি ও ইজ্জতপুরের মমতাজ পিকনিক স্পট , বাঘের বাজারের সাবাহ গার্ডেন, পুস্পদাম রিসোর্ট ,রাজেন্দ্রাপুরে বাঁশরী পিকনিক স্পট,ও ন্যাশনাল জাতীয় উদ্যানের ভিতরে সরকারি ভাবে তৈরি করা রেস্ট হাউসে চলছে রুম ভাড়া নানা রকম অনৈতিক অপকর্ম । এসব পিকনিক স্পট গুলাতে শুধু দেহ ব্যবসা না। দিনের বেলায় রুম ভাড়া দিয়ে চালায় এবং সন্ধার পর থেকে এলাকার উঠতি বয়সী যুবকেরা ইয়াবার মত ভয়ঙ্কর মাদক রুম ভাড়া নিয়ে সেবন করে বিভিন্ন অশীল কার্যকলাপে জড়িত হন । এসব পিকনিক স্পট গুলাতে প্রকাশ্যে স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের আনগোনা দেখা গেলে ওপিকনিক স্পটের মালিকেরা নিরবে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।এতে করে সমাজে নানা রকম অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বেড়ে চলছে ।স্হানীয় প্রশাসন একাধিক বার অভিযান পরিচালনা করে বন্ধ করে দিলে পুনরায় বীরদর্পে এই দেহ ব্যবসা করে যাচ্ছেন । হ্যাপি ডে ইন রিসোর্টে গিয়ে দেখা যায় রেস্টের জন্য রুম রুম ভাড়া দেওয়া হয় । প্রকৃত পক্ষে এরা কারা রেস্টের জন্য রুম ভাড়া নিচ্ছেন সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।অল্প বয়সী ছেলে মেয়েরা নিজেদের কে স্বামী স্ত্রী পরিচয় দিয়ে রুম ভাড়া নিয়ে প্রতিদিন শত শত মেয়েরদের ইজ্জত নষ্ট করছেন এসব স্পট গুলোতে । ভ্রাম্যমান পতিতা আসংখা জনক হারে বেড়ে যাওয়ায় দিন দিন এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । সম্প্রতি দেখা যায় গাজীপুরে বিভিন্ন এলাকায় একাধিক আবাসিক হোটেল গড়ে ওঠেন এসব হোটেল প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শত শত লোকের আনাগোনা দেখা গেলেও কিন্তু স্থায়ী ভাবে কোন রুমে কাস্টমার নাই । এসব হোটেলে যাদের প্রতিনিয়ত দেখা যাচ্ছে কেওবা পতিতার খদ্দর আবার কেওবা দালাল । এসব হোটেলের সামনে রাস্তা দিয়ে হাটতে গিয়ে পড়তে হয় বিব্রতকর অবস্থায় । এসব আবাসিক হোটেলের নামে ছোট ছোট আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনে ভিড় জমায় সমাজের নানা শ্রেণির খারাপ প্রকৃতির লোকজন । বিশেষ করে শিল্প নগরী গাজীপুরের এসব পিকনিক স্পটের অপকর্ম গুলো দ্রুত বন্ধ করা না হলে অচিরেই প্রভাব পড়বে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীর জনজীবনের ওপর । গাজীপুরে বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারি বনের জমিতে হওয়ায় নিজেরদের খামখেয়ালিমত যত্রতত্র এলাকায় সামান্য জমি কিনে বনের জমি তে এসব পিকনিক স্পট গুলা গড়ে তুলেন । গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় গড়ে ওঠা একাধিক নামধারি কিছু পিকনিক স্পটে মিনি চাইনিজ রুম করে ঘণ্টা এক হাজার টাকা খদ্দরদের ভাড়া দিয়ে অসমাজিক দেহ ব্যবসা প্রকাশ্যে চালিয়ে যাচ্ছেন ।এতে করে উঠটি বয়সের যুব সমাজ দিন দিন অপকরমের দিকে দাবিতে হচ্ছে বলে এলাকাবাসী দাবি করেন । সরেজমিনে দেখা যায় ইন্দ্রাপুরস্থ সাফারি পার্কের মেইন গেইটের সাথে একটু দক্ষিন পাশে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ছোট ছোট টিনের বাড়ি তৈরি করে দেহ ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সন্ধান পাওয়া গেছেন । গাজীপুরে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা এসব পিকনিক স্পটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে হুমকির মুখে পড়বে সাধারন যুব সমাজ স্কুল পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীসহ সমাজের নানা শ্রেণির মানুষ। বিশেষ করে এসব পিকনিক স্পটগুলো নিয়মিত প্রশাসন কর্তৃক তদারিকি না থাকার নিজেরা ইচ্ছামত অপকর্ম চালাচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানান। এই সব পিকনিক স্পটের যেমন ভাবে নাই সরকারি আয়কর অন্যদিকে নাই সুস্থ তদারিকি । গত কিছু দিন আগে কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রীকে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও শালীনতা হানি করলে এই ব্যপারে শ্রীপুর থানায় নিয়মিত মামলা হলে অদ্যবদি সেই ধর্ষককে আটক করতে পারেনি পুলিশ । শুধু তাই নয় এভাবে অনেক স্কুল , কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীর জীবনে নানা বিপর্যয় নেমে আসলে নিজেদের মান সম্মানের ভয়ে গোপন রাখেন এই অপকর্মের খবর। আবার অনেক মান সম্মানি ব্যক্তিরা ও এসব স্পটে নিয়মিত আসা যাওয়া করে অনেকে ব্লাক মেইলের স্বীকার হচ্ছে বলে জানা গেছেন। স্থানীয়দের কয়েক জনের সাথে কথা বলে জানাযায় গাজীপুরে হাতে গোনা দুয়েকটি পিকনিকস্পট ছাড়া বাকী সকল স্যুটিং স্পটেই প্রশাসন কে ম্যানেজ করে চলছে স্যুটিংয়ের নামে দেহ ব্যবসা। তারা আরো জানান যে পুলিশের মাসোহারার টাকা পৌছাতে দেরি হলেই কেবল পুলিশ অভিযান চালায়।গাজীপুরের বিভিন্ন শুটিং ও পিকনিক স্পট শুটিং ব্যবসার আড়ালে চলছে রমরমা অসামাজিক কার্যকলাপ। স্থানীয়রা এটাকে ‘ফুর্তি বাণিজ্য’ হিসেবে অবহিত করেন। দিনের বেলা কিছু স্পটে শুটিং চললেও সন্ধ্যার পর ঢাকা থেকে আসা এক শ্রেণীর সুন্দরী তরুণীর মিলনমেলায় পরিণত হয়। সেই সঙ্গে চলে অশালীন অঙ্গভঙ্গিসহ উদ্দাম নৃত্য ও বিভিন্ন নেশাদ্রব্য সেবন, কলগার্লদের বেহায়াপনাসহ বিভিন্ন অসামাজিক আমোদফুর্তি। এসব শুটিং স্পটে টাকা হলেই আমোদফুর্তির কমতি নেই। বিভিন্ন সময় রঙ-বেরঙের পোশাক ও মেকাপে সজ্জিত হয়ে দামি গাড়িতে চড়ে আসে সুন্দরী তরুণীরা। স্পটগুলো ঘুরে জানা যায়, এখানে কম বয়সী ও সুন্দরী তরুণীদের চাহিদা অনেক বেশি। সপ্তাহব্যাপী নানা অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি স্পটগুলোতে প্রতি বৃহস্পতি ও শুক্রবার বিকেল থেকেই চলে রমরমা বাহারি জলসা । এসব অপকর্মের প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা । স্পটগুলোকে অসামাজিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করলেও তেমন কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকরা জানান তাদের সন্তানদের নিয়ে চরম আতংকের মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয়ভাবে অপকর্ম প্রতিরোধের চেষ্টা করা হলে তাদের ওপর নেমে আসে বিভিন্ন ধরনের মামলা, হামলা, নির্যাতন এমনকি হত্যার হুমকি পর্যন্ত। শুটিং স্পটের মালিক ও এর পরিচালনাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা তাদের অসামাজিক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেও কুলিয়ে উঠতে পারছেন না। অসামাজিক ব্যবসার স্পটগুলো মধ্যে রয়ছে গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর, পুবাইল, পিরুজালী, রাজেন্দ্রপুর, হোতাপাড়া, গজারিয়াপাড়া পুষ্পদামসহ শতাধিক পিকনিক ও শুটিং স্পট রয়েছে। এসবের বেশির ভাগ স্পটেই চলছে অসামাজিক ব্যবসা। শ্রীপুর এলাকায় রয়েছে শান্তিকুঞ্জ, মমতাজ শুটিং স্পট, সিগালসহ অন্তত ১০টি স্পট। এছাড়া জেলার কালিয়াকৈরে রয়েছে সোহাগপল্লী, আনন্দ রিসোর্ট, রাঙ্গামাটি ওয়াটার ফ্রন্ট, দিপালী, গুল বাগিচা, শিল্পীকুঞ্জসহ কয়েকটি রিসোর্ট ও শুটিং স্পট।
বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী প্রেমিকযুগল ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রেমিকজুটি এসব শুটিং ও পিকনিক স্পটে লুকোচুরি করে প্রেম নিবেদন এবং অসামাজিক কাজ করতে এসে পুলিশ, স্থানীয় প্রভাবশালী ফিটিংবাজদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব খুইয়ে সামাজিকভাবেও হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একটি অসাধুচক্র এসব স্পটে মোটরসাইকেলে ঘুরে ঘুরে মোটা অংকের ফিটিং বাণিজ্য করে থাকে।এই চক্রের পরিচিত কেউ আশপাশে না থাকলে তারা ছিনতাইকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে আগন্তুকের টাকা-পয়সা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার লুটে নেয়। প্রেমিকযুগলের আপত্তিকর ছবি মোবাইলে ধারণ করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্লাকমেইলও করা হয় বলে এক প্রেমিকজুটি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান নিজেদের আপত্তিকর ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায়ের পরে ছেড়ে দেন বলে জানান ।
ফিটিংচক্র প্রেমিকযুগলকে আটকে রেখে তাদের আত্মীয়-স্বজনকে মোবাইলে খবর দিয়ে ডেকে এনে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগও রয়েছে। এই প্রতারকচক্র প্রেমিক যুগলকে মওকামত ধরা মাত্রই চড় থাপ্পড় দিয়ে প্রথমে কাবু করে ফেলে। পরবর্তীতে চলে বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর ফটোসেশনের কাজ। অনেকেই সুস্থ বিনোদন বা ঘুরতে গিয়েও এসব ফিটিংবাজদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারান।
শুটিং স্পটগুলোতে যা নিষিদ্ধ
দিনের পর দিন বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকান্ডের কলংক মোচনের লক্ষ্যে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার মতো পুবাইল এলাকার বাসিন্দারা বেশ সোচ্চার হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ করে ও রেহায় পাচ্ছে না বলে জানান । সরে জমিনে গিয়ে পিকনিক স্পটগুলোতে আইনের বহাল রক্ষক হিসাবে দেখা যাই নিম্নরুপ
নোটিশে উল্লেখ রয়েছে- (১) শুটিং, পিকনিক স্পট, পার্ক ও রিসোর্টের মধ্যে কোনো ধরনের অসামাজিক কর্মকান্ড চালানো যাবে না। (২) মাদক বিক্রি ও সেবন করা যাবে না। (৩) রাস্তাঘাট, গাছতলা, বনজঙ্গল ও ঝোপঝাড়ে ছেলেমেয়েদের অশালীনভাবে ঘোরাফেরা করা যাবে না। এসব আদেশ অমান্যকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু বাস্তব দৃশ্য ভিন্ন দিব্যি চলে অসমাজিক বেহায়পনা ও কোটি টাকার মাদক বেচাকেনা ব্যবসা। দেশের বড় বড় মাদক ব্যবসায়ী এখন লেনদেনের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন গাজীপুরের শুটিং স্পটগুলোকে। যেহেতু মাদক ব্যবসার পাশাপাশি ভালো আমোদ ফুর্তির সুব্যবস্থা রয়েছে। মাদকের বড় বড় ডিলার প্রতি মাসে এসব স্পটে কোটি কোটি টাকা লেনদেন করে বলে জানা গেছেন । এছাড়াও সন্ধ্যা হলেই এসব স্পটে বসে জমজমাট মাদক সেবন ও জুয়ার বড় হাট। অচিরেই এই সব পিকনিক স্পট মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ও বন্ধের জন্য জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।.

Share Button





Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.