Main Menu

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন মেয়র মান্নান বিনা বিচারে কারাগারে এক বছর

গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বর্তমানে বরখাস্তকৃত মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এম এ মান্নানের কারাভোগের এক বছর পূর্তি হলো ১১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। তিনি বিনা বিচারে কারাগারে একবছর ধরে রয়েছেন। ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার বারিধারার ডিওএইচএস এর নিজ বাসা থেকে মান্নানকে একই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে গাজীপুরে একটি যাত্রীবাহীবাসে পেট্রলবোমা হামলা মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেন। তারপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। এ পর্যন্ত ২১টি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এসব মামলার প্রায় সবগুলোই বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধ ও হরতালকালে গাড়ী ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, নাশকতা, বিস্ফোরক ও পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দানসহ বিভিন্ন আইনে দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে জয়দেবপুর থানায় ১৩টি, টঙ্গী মডেল থানায় ২টি, শ্রীপুর মডেল থানায় ২টি ও কালিয়াকৈর থানায় ২টিসহ মোট ১৯টি মামলার সবক’টিতেই ইতোমধ্যে জামিন পেয়েছেন। পুলিশ নতুন ভাবে জয়দেবপুর থানার আরো দুটি মামলায় ফের গ্রেফতার দেখানোয় তার বিরুদ্ধে এনিয়ে ২১টি মামলা রজু হলো।

মান্নানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ দায়েরকৃত দুটি মামলার অভিযোগে বলা হয় বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ চলাকালে গত ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি এবং একই মাসের ১১ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্রগ্রাম বাইপাস সড়কের মেঘডুবি কলের বাজার এলাকায় অবরোধকারীরা গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। ওই দুই ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পৃথক দু’টি মামলা (নং-৪০ ও ৬৮) দায়ের করে পুলিশ। পরে তদন্তে অধ্যাপক এমএ মান্নানের ইন্দনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় ওই ঘটনাগুলো ঘটানো হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই মামলা দু’টিতে তাকে গ্রেফতারের জন্য আদালতে আবেদন করেন। গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক এসএম মারুফ চৌধুরী শুনানি শেষে ওই আবেদন মঞ্জুর করে অধ্যাপক এম এ মান্নানকে গ্রেফতারের ( শ্যোন এরেস্ট) আদেশ দেন। এনিয়ে অধ্যাপক এম এ মান্নানকে ২১টি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বর্তমানে বরখাস্তকৃত মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানের বিরুদ্ধে অন্যায় ভাবে মিথ্যা মামলা গুলো দায়ের করেছে ক্ষমতাসীন দল। মেয়র মান্নান বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার অপরাধে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে জেলে রেখে সরকার তার দলীয় কাউন্সিলর দিয়ে নগরের কাজ চালাচ্ছেন। বিনা বিচারে কারগারে এক বছর আটক রয়েছেন তিনি। অতিদ্রুত তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তি দাবি করছি। তিনি আরও বলেন, মেয়র মান্নান দীর্ঘদিন যাবত হার্ট, কিডনি ও ডায়বেটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ। অধ্যাপক এম এ মান্নানের আইনজীবী মঞ্জুর মোর্শেদ প্রিন্স জানান, বরখাস্তকৃত মেয়র মান্নানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ দু’মামলাসহ ২১টি মামলা রয়েছে। সর্ব শেষ গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর হাইকোর্টের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী নাশকতার দুইটি মামলায় অধ্যাপক এমএ মান্নানের জামিন আদেশ বহাল রাখেন। পরে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানের জামিন সংক্রান্ত কাগজপত্র আদালতে পাঠানো হয়। ইতোপূর্বে তিনি আরো ১৭টি মামলার সবক’টিতে জামিনে থাকায় তার মুক্তিতে কোন বাধা ছিল না। ফের দুটি নাশকতার মামলায় তাকে শ্যোন এরেস্ট দেখানোর ফলে তার মুক্তি আটকে গেল। মামলা গুলো পরিকল্পিত ভাবে দায়ের করা হয়েছে। মেয়র মান্নান রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। আইনজীবি বলেন, তার জামিনের জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা চলছে।

গত বছরের ১৯ আগষ্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় (সিটি কর্পোরেশন-২ শাখা) সহকারি সচিব এ. কে.এম আনিছুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানকে স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ (২০০৯ সালের ৬০ নং আইন) এর ধারা ১২ এর উপধারা (১) মোতাবেক বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত নাশকতার মামলার আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ায় এ ব্যাবস্থা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানের অবর্তমানে একই বছরের ৮ মার্চ থেকে প্যানেল মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।






Related News

Comments are Closed