Main Menu

টঙ্গীতে নকল ও অবৈধ ভোজ্য তেলের কারখানা

রিপোর্টার, টঙ্গী : টঙ্গীর মিরাশপাড়া এলাকায় বিএসটিআই অনুমোদনহীন এবং কেমিষ্ট বিহীন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পামওয়েল তেল দিয়ে সোয়াবিন তেলসহ সরিষার তেল তৈরি করে বিভিন্ন নামী-দামী কোম্পানীর নামসহ সামী নামে লেভেল সংযুক্ত ওজনে কম বিভিন্ন পরিমাপে বোতলজাত করছে বেশ কয়েকটি চক্র।
বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, টঙ্গীর মিরাশ পাড়া এলাকায় মোঃ কামাল হোসেন, চেরাগআলী এলাকায় রুবেল মিয়া, মাঝুখানে শহিদুল ইসলাম, মিরের বাজারে রাশেদুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীরা অধিক মুনাফা আয়ের লক্ষ্যে অত্যন্ত সু-কৌশলে দীর্ঘ প্রায় ১৫/১৬ বছর যাবৎ ভিন্ন ভিন্ন নামে আবাসিক বাসা-বাড়িতে ঘর ভাড়া নিয়ে উপরোক্ত ব্যবসা পরিচালনা করছে। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী এসব ভোজ্য তেলে কারখানা স্থাপন বা পরিচালনায় বিএসটিআইয়ের অনুমোদনসহ বানিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সরকারী অনুমোদন এবং প্রতিষ্টানে উৎপাদিত তেল নির্ভেজাল স্বাস্থ্য সম্মত ভাবে বাজারজাতের ক্ষেত্রে সার্বক্ষনিক একজন কেমিষ্ট ও কাষ্টম বিভাগের কর্মকর্তার উপস্থিতি থাকার কথা থাকলেও সামী, এবাসহ এসব তেলের প্রস্তুক কারক প্রতিষ্টানে ওরকম কিছু পাওয়া যায়নি। শুধু মাত্র সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স আর বিএসটিআইয়ে করা আবেদনপত্র মুলে তারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাজার থেকে পামওয়েল তেল ক্রয় করে সেগুলো হিট মেশিনের মাধ্যমে তরল করত একধরনের কেমিক্যাল মিশ্রনের মাধ্যমে সোয়াবিন তেলের রং এবং তেলগুলো যাতে জমাট না বাধে এ ধরনের মেডিসিন ব্যবহার করে এবং বাজারজাত তেলের চেয়ে পরিমাপে কম সামী নামের লেবেল সংযুক্ত বিভিন্ন পরিমাপের সরিষা ও সোয়াবিন তেলের বোতল বাজারজাত করছে। শুধু তাই নয় এসব ভেজাল ও নকল তেল কোম্পানী গুলো রাতের অন্ধকারে হাজার হাজার লিটার তেল দেশের বিভিন্ন নামী-ধামী কোম্পানীর নামে লেবেল সংযুক্ত বোতলজাত করে কম মুল্যে বাজারে ছেড়ে থাকে। ফলে সরকার অনুমোদিত আসল ও স্বাস্থ্য সম্মত বড় বড় তেল কোম্পানী গুলোর লোকশান গুনতে হচ্ছে বছরের পর বছর আর সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে হচ্ছে বঞ্চিত। এ কারখানাটি ছাড়াও মাঝুখানে শহিদুলের তেল ও কয়েল কারখানা, মিরের বাজারে রাশেদুল ইসলামের রাশেদুল ক্যামিকেল নামে জর্দ্দা, কয়েল, মাজন, ও তেলের কারখানা রয়েছে। স্থানীয় একাধিক লোকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকার জনৈক রুবেল নামে এক ব্যক্তি এবা এগ্রো নামে এরকম একটি কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন নামী-দামী কোম্পানীর নামে নকল ও ভেজাল সোয়াবিন তেলসহ এবা সরিষার তেল ও সোয়াবিন তেল বাজারজাত করার অপরাধে গাজীপুর জেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট তাকে জরিমানাসহ সাজা প্রদান করে এবং কারখানাটি সিলগলা করে অথচ রহস্যজনক কারনে বর্তমানে চলমান এই কারখানাটির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কেউ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এব্যাপারে জানতে সামী তেল কোম্পানীর সত্বাধিকারী মোঃ কামালের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার এখানে এনামুল হক নামে একজন ক্যামিষ্ট আছে যিনি প্রতি সপ্তাহে এসে তেলের মান নির্ণয় করে থাকেন। আপনি কি করবেন ? এছাড়াও আমার মন্ত্রণালয় ও বিএসটিআইসহ যাবতীয় কাগজপত্র আছে। আমি বৈধ ব্যবসা করছি এখানে অবৈধ কিছু করছি না।
এব্যাপারে এবা তেল কারখানার মালিক রুবেলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি গত কিছুদিন আগে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছি। এসব অনুমোদন থাকলেও কিছু সমস্যা থেকেই যায় ফলে প্রশাসনসহ বিভিন্ন লোকজন বিরক্ত করে। তাই আর এ ব্যবসা করতে চাই না।
এব্যাপারে বিএসটিআই এর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কোন তেলের কারখানা স্থাপন করতে হলে প্রচুর পরিমান খোলা এবং পরিস্কার-পরিছন্ন জায়গা, পর্যাপ্ত মেশিনপত্র, কোম্পানীর নিয়োগকৃত কেমিষ্ট না থাকলে বিএসটিআই অনুমোদন দেয় না। আর বিএসটিআই অনুমোদন না দিলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়তো অনুমোদ দেয়ার প্রশ্রই উঠে না। তবে এসব ব্যবসায়ীরা আবেদনপত্রের ফটোকপি দিয়ে গোপনে দীর্ঘ সময় বে-আইনী ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে। এতে সাধারণ মানুষ যেমন প্রতারিত হয় তেমনি সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে হয় বঞ্চিত।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published.