Main Menu

যে দেশের সকল মানুষ ধনী

ইউরোপের ছোট্ট একটি দেশ লুক্সেমবার্গ। পশ্চিম ইউরোপে অবস্থিত দেশটির আয়তন মাত্র ১ হাজার বর্গমাইল। দেশটিতে ৫ লাখেরও কম মানুষ বাস করে এবং মাথাপিছু বার্ষিক আয় প্রায় ৪৬ লাখ টাকা। ২০০৬ সালের জাতিসঙ্ঘের রিপোর্টে তাদের আয়ের এ পরিসংখ্যান দেয়া হয়।

যেখানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় মাত্র ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা। যাদের বার্ষিক আয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ কেমন হতে পারে ভাবুন। আর তাদের পারিবারিক সম্পত্তির পরিমাণ নিশ্চয়ই আরো অনেক বেশি। তা অবশ্যই আমাদের দেশের কোটিপতিদের চেয়ে কম নয়।

বাংলাদেশে যারা কোটিপতি তাদের ধনী বলা হয়, সে অর্থে লুক্সেমবার্গের প্রত্যেকটি মানুষই ধনী। অত্যধিক উন্নত সত্ত্বেও তাদের অথনৈতিক প্রবৃদ্ধি সে হারে কমছে না।

জাপানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেমন এখন দুই অঙ্কের কোটায় ওঠা সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে এ দেশটি ব্যতিক্রম। তাহলে সহজে যেটা অনুমেয় তারা আকাশছোঁয়া উন্নতি লাভ করবে। যে ধরনের উন্নতি আমরা কল্পনাও করতে পারি না। লুক্সেমবার্গে মুদ্রাস্ফীতি নেই।

বেকারত্ব নেই বললেই চলে। বেকার থাকলেও তারা রয়েছে রাজার হালে। সরকারি নানা সামাজিক সেবা তাদের আরাম-আয়েশকে নিশ্চিত করেছে। উপোস থাকার কথা চিন্তাই করা যায় না। দেশটির অর্থনীতির মূল ছিল স্টিল ইন্ডাস্ট্রি।

গত শতাব্দির ষাটের দশকে এর ব্যাপক প্রসার ঘটে। ক্রমান্বয়ে রসায়ন, রাবার এবং অন্য কয়েকটি শিল্পের বিকাশ স্টিল শিল্পের আয়কে ম্লান করে দেয়। বিগত শতাব্দীর শেষ দু’টি দশকে দেশটির সেবা খাতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে তাদের দারুণ সম্পর্ক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিবেশী দুটো দেশ বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডের সাথে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক সম্পর্ক তাদের উন্নতির অন্যতম চূড়ায় নিয়ে যায়।

তার ওপর দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে বাণিজ্য সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে। উন্নত জীবনমানের বিচারে তারা বিশ্বের চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত উন্নত। টেলিকমিউনিকেশন সুবিধা এতটা উন্নত যা চিন্তাও করা যায় না। ফিক্সড ফোনের সংখ্যা এবং জনসংখ্যা প্রায় সমান। তার ওপর সেলফোন তো রয়েছেই।

লুক্সেমবার্গ একটি সেকুলার দেশ। ধর্মবিশ্বাসীদের ব্যাপারে কোনো পরিসংখ্যানের তত্ত্ব-তালাশ দেশটিতে নিষিদ্ধ। ধারণা মতে, দেশটির ৮৭ শতাংশ মানুষ রোমান ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের। বাকিদের মধ্যে খ্রিস্টানদের অন্যান্য সম্প্রদায়, ইহুদি এবং মুসলিম রয়েছে।

লুক্সেমবার্গের সংস্কৃতি সমৃদ্ধিতে সরকার ইতিহাস-ঐতিহ্য আর উন্নত সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে জাদুঘরগুলো অন্যতম। এগুলো হলো ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব হিস্ট্রি অ্যান্ড আর্ট, হিস্ট্রি মিউজিয়াম অব দ্য সিটি অব লুক্সেমবুর্গ, গ্রান্ড ডিউক জ্যঁ মিউজিয়াম অব মডার্ন আর্ট অন্যতম।

এছাড়া ইউরোপীয় সামরিক শক্তির স্মারক ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব মিলিটারি হিস্ট্রি। ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে লুক্সেমবার্গ শহরটিই ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে। শহরটি ২০০৭ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপিয়ান ক্যাপিটাল কালচারের খেতাব পেয়েছে। শিল্প এবং শিল্পীর দারুণ কদর রয়েছে লুক্সেমবার্গে।

দেশটির গণমাধ্যম অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছে। তাদের রেডিও ও টেলিভিশন সেবা পুরো ইউরোপ ভোগ করে। দেশটি ইউরোপের সবচেয়ে বৃহৎ স্যাটেলাইট অপারেটর। সংবিধান জনগণের মত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছে। সংবাদপত্রেরও ব্যাপক প্রচলন রয়েছে সেখানে। টেলিভিশন ও রেডিও দেশটির বিনোদনের প্রধান মাধ্যম কিন্তু জনগণের যাবতীয় মতামতের প্রতিফলন ঘটায় সংবাদপত্র।






Related News

Comments are Closed