Main Menu

সাড়া দিলেই পরপুরুষ হয় স্বামী

আজব এক সমাজ ব্যবস্থা! কোনো বিয়েশাদির দরকার নেই। দরকার নেই কোনো সামাজিক স্বীকৃতির। কোনো মেয়ে যদি রাতে তার ঘরে কোনো পুরুষকে আমন্ত্রণ জানায়, তাহলে সেই পর পুরুষটি হয়ে যায় এক রাতের জন্য ওই মেয়ের স্বামী। এমন রীতিই প্রচলিত আছে চীনের একটি সম্প্রদায়ে। আজব এই সম্প্রদায়ের নাম মসুও। চীনের ইউনান ও সিচুয়ান প্রদেশে এ জনগোষ্ঠীর বাস। এদের সংখ্যা চীনে ৩ লাখ ২০ হাজার। মসুও কোনো নারী কোনো পুরুষকে আমন্ত্রণ দিলে সেই পুরুষ যদি নারীর সঙ্গে থাকতে চায় এবং তাদের ঔরসে যদি কোনো সন্তান হয় তবে তাকেই স্বামী হিসেবে মেনে নেয় ওই নারী। এ ধরনের বিয়েকে ‘ওয়াকিং ম্যারেজ’ বা ‘হাঁটা বিয়ে’ নাম দিয়েছে সমাজবিজ্ঞানীরা। কারণ এ ক্ষেত্রে আমন্ত্রতি পুরুষটি রাতে হেঁটে আমন্ত্রিতের ঘরে গিয়ে রাত কাটায় এবং সকাল বেলা বেরিয়ে যায়। মসুও সম্প্র্রদায়ের পুরুষকে থাকতে হয় স্ত্রী মর্জির ওপর। স্বামী স্ত্রীর সঙ্গে বেশি দিন থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে। সন্তানের কোনো দায়িত্ব নিতে হয় না মসুও পুরুষদের। শুধু বিশেষ বিশেষ দিনে সন্তানের খোঁজ নেয় তাদের বাবা। যেমন চীনের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, সন্তানের জন্মদিন ইত্যাদি। মসুও পুরুষরা সারা দিন কোনো কাজকর্ম করে না। বিশ্রামে থাকে। শুধু রাতের বেলা স্ত্রীলোকদের সঙ্গ দেয়। এ ছাড়া মাছ ধরা ও কোনো কিছুর পাহারা দেয়ার কাজ করে এরা। এ সম্প্রদায়ের বয়জ্যেষ্ঠ পুরুষদের কাছ থেকে এসব শিখে পুরুষরা। মসুও নারীরা গৃহের সব কাজকর্ম করে। ব্যবসা-বাণিজ্য এমনকি চাকরিও করে থাকে। বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করে। সন্তান লালন পালনের কাজও করে থাকে তারা। মসুও সমাজে মেয়েদের ভূমিকাই মুখ্য। এভাবে পিতা ও স্বামীর সাহায্য ছাড়াই মসুও সমাজ গড়ে উঠেছে। টিকে আছে এই পৃথিবীতে। এ ছাড়া এ সম্প্রদায়ের স্বামী স্ত্রীরা ভাই ও বোনের সন্তানকে নিজের সন্তানের মতো দেখভাল করে।






Related News

Comments are Closed