Main Menu

ইউপি নির্বাচন: উৎসবের আমেজেও সহিংসতার শঙ্কা

প্রথম ধাপে ৭২১ ইউনিয়নে এই ভোট ঘিরে পাড়ায় মহল্লায় উৎসবের আমেজের মধ্যেও উঁকি দিচ্ছে সংঘাতের শঙ্কা। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টাও বাকি নেই। মঙ্গলবার এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ১৪টি রাজনৈতিক দল। তবে তৃণমূলে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের এ ভোটে স্বাভাবিকভাবেই মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগের নৌকা ও বিএনপির ধানের শীষের মধ্যে। দেশের চার সহস্রাধিক নির্বাচন উপযোগী ইউপিতে ছয় ধাপের ভোটের শুরু হচ্ছে কাল মঙ্গলবার, শেষ হবে ৪ জুন। প্রথম ধাপের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনকেন্দ্রিক সংঘর্ষে অন্তত ৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে; আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ।

প্রথম ধাপে ৭৫২ ইউপির তফসিল ঘোষণার পর ক্ষমতাসী দল আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। আর দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপির তৃণমূলের সমর্থকরাও মুখিয়ে আছেন দীর্ঘ সাত বছর পর দলীয় প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য।

ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থনে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, বাড়ি-ঘর ভাংচুর এবং প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এসেছে। চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিহত হওয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ‘ব্যাপক প্রবণতার’ কথা মুখে বললেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি ইসিকে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বিঘ্ন পরিবেশের আশ্বাস দিলেও এসব কারণে পর্যবেক্ষক মহলে রয়েছে উদ্বেগ।

ভোট সামনে রেখে ইতোমধ্যে ৩৪ জেলার ১০২ উপজেলার নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছে গেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ব্যালট পেপারসহ নির্বাচী সামগ্রী কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাবে সোমবারের মধ্যে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা চলবে ভোটগ্রহণ; নির্বাচনী এলাকায় থাকবে সাধারণ ছুটি।

পুলিশ মহাপরিদর্শক জানিয়েছেন, ইউপি নির্বাচন নিয়ে এ পর্যন্ত ২০৮টি সহিংস ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ৫৫টি সাধারণ ডায়েরি ও ১৪৩টি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯৫ জনকে। তবে সরাসরি কোনো প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বা তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়নি।

এদিকে ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ‘সব ধরনের ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ। এ পর্যন্ত ‘কিছু বিচ্ছিন্ন’ ঘটনা ঘটলেও ভোটের সময় তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বলে আশা করছেন তিনি।

এ নির্বাচন কমিশনার সাংবাদিকদের বলেছেন, “সংঘাত-সংঘর্ষ হলেই ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমরা বলে দিয়েছি, কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।

“এটা মুখের কথাই নয়। অনিয়ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ ছাড় দিলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভোটের পরিবেশ ভালো রাখতে সবার সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, “দল ও প্রার্থীদের সহিষ্ণুতা দেখানোর অনুরোধ করছি। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের বলেছি, অনিয়ম মুখ বুজে সহ্য করবেন না। ভোটে কর্মকর্তাদের ভয়-ভীতি ও লাঞ্ছিত করা হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

“ভোটারদের প্রাতি আহ্বান জানাই, আমরা নির্বিঘ্ন পরিবেশ তৈরি করব। আপনারা নির্ভনে কেন্দ্রে আসবেন। যাকে খুশি ভোট দেবেন।”

ইউপি ভোটের প্রার্থী ও সমর্থকসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন আইজিপি এ কে এম শহিদুল হকও। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও আনসারের এক লাখ ৮০ হাজার সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

গণ্ডগোল হলে ছাড় দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করে দিয়ে প্রার্থী ও সমর্থকদের জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশপ্রধান।

এমন পরিস্থিতিতে ভোটের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্রতীর নির্বাহী পরিচালক শারমিন মুরশিদ বলেন, “আমরা এবার ইউপি ভোটের পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তৃণমূলে ভোটের পরিবেশ আগের তুলনায় জটিল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, দলীয়ভাবে ভোট হওয়ায় অনেককে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে ঝরে পড়তে হয়েছে।”

ভোটের আগে সহিংসতা হওয়ায় ভোটের দিন তা কী রূপ নেবে- সেই শঙ্কা প্রকাশ করেন এ নির্বাচন পর্যবেক্ষক।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অধীনে ২০১১ সালে ইউপি ভোটের পরিবেশ ভালো ছিল। বিএনপি শাসনামলে ২০০৩ সালের ইউপি নির্বাচনে হয়েছিল চরম সহিংসতা।

“মানুষের মধ্যে ছোট পরিসরের এ নির্বাচনে গ্রামে-পাড়ায় উৎসাহের কমতি নেই। কিন্তু প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে ভোট হওয়ায় গোলযোগের শঙ্কা থাকছেই। নির্বাচন কমিশনও উদ্যোগী হয়ে সন্তোষজনক পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি,”






Related News

Comments are Closed