Main Menu

গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নিজামীর সাথে দেখা করেছেন তার ছেলে ও আইনজীবী

স্টাফ রিপোর্টার : গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে মানবতা বিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর সাথে দেখা করেছেন তার ছেলে ও আইনজীবী।

দুপুর ১টার দিকে কারাগার পার্ট- ২ এর ফটক দিয়ে নিজামী পুত্র ব্যাষ্টিার নাজিবুর রহমান এবং মশিউল আলমসহ কয়েকজন আইনজীবী কারাগারের ভেতওে প্রবেশ করেন।

কাশিমপুর কারাগার পার্ট- ২এর জেল সুপার প্রশাসন্ত কুমার বনিক সাংবাদিকদের বলেন- সকাল ৯টার দিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে লাল কাপড়ে মোড়ানো নিজামীর মৃত্যু পরোয়ানা ও পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি এসে পৌছায়। পরে সকাল ১০টা ০৫ মিনিটে কনডেম সেলে গিয়ে তাকে পরোয়ানা ও রায় পড়ে তাকে শোনানো হয়। তাৎক্ষণিক ভাবে নিজামী জেল সুপারকে জানান- তিনি তার আইনজীবীদের সাথে কথা বলে আপিল বিভাগে রায় পুনর্বিবেচনার জন্য রিভিউ আবেদন করবেন।

মৃত্যু পরোয়ানা জারির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দেশের এই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকরের আইনি প্রক্রিয়া। আর আসামি সে পরোয়ানা শোনার পর শুরু হয়েছে রিভিউয়ের দিন গণনা। আইন অনুসারে নিজামী রিভিউ আবেদন করতে পারবেন ১৫ দিনের মধ্যে, যার শেষ দিন আগামী ৩০ মার্চ।
মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) বিকেলে ১৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। অন্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

রায়টি রাতে বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গেলে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন চেয়ারম্যান বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হক এবং বিচারিক প্যানেলের সদস্য বিচারপতি শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।

রাতেই সেটি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়, ঢাকার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা প্রশাসক) কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত ০৬ জানুয়ারি নিজামীর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সংক্ষিপ্ত আকারে চূড়ান্ত রায় দেন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। রায়ে বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ একাত্তরে গণহত্যা ও ধর্ষণের দায়ে আলবদর বাহিনীর শীর্ষনেতা নিজামীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ডাদেশ বহাল রাখেন সর্বোচ্চ আদালত।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নিখিল পাকিস্থানের সভাপতি হিসেবে পাকিস্থানি বাহিনীর সহযোগী কিলিং স্কোয়াড আলবদর বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন নিজামী। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা ছাড়াও সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটি (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) হিসেবে আলবদর বাহিনী ও ছাত্রসংঘের অপরাধের দায়ও তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত হয়েছে রায়ে।






Related News

Comments are Closed