Main Menu

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: আজ শুরু সুপার টেনের লড়াই

আইসিসি যে বিলবোর্ডগুলো বানিয়ে ভারতের প্রতিটি ভেন্যু শহরে টি২০ বিশ্বকাপের রঙ ছড়াতে চেয়েছে, সেই বোর্ডগুলোতে ক্রিকেট তারকাদের অনেকেরই ছবি আছে। কিন্তু ধর্মশালা থেকে কলকাতা- কোথাও দেখা মেলেনি মাশরাফিদের মুখচ্ছবি! আসলে এগুলো নাকি বানোনোই হয়েছে সুুপার টেনের কথা মাথায় রেখে। আরও পরিষ্কার করলে আজ শুরু হওয়া ‘বড়’দের পর্ব নিয়ে! যার পোশাকি নাম সুপার টেন। ঠিক এভাবেই ‘ছোট’-‘বড়’র লক্ষণরেখা সূক্ষ্মভাবে দেগে রেখেছে আইসিসি। দুর্ভাগ্যজনক হলো, সেখানে টেস্ট খেলুড়ে দেশ হয়েও সেই রেখার ‘ছোট’ পাড়েই বাংলাদেশকে রেখে দিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থাটি। আর সে কারণেই টুর্নামেন্টের দু’বছর আগের র‌্যাংকিংকে নিয়ামক ধরে বাংলাদেশকে এই বাছাই পর্ব খেলতে হলো।

এশিয়ার রানার্সআপ দলের এভাবে বাছাই পর্ব খেলতে দেখাটা ঠিকই চোখে লেগেছে। কথাগুলো কোনো বাংলাদেশির নয়, ধর্মশালার প্রেসবক্সে দাঁড়িয়ে ইয়ান বিশপই বলছিলেন এক পরিচিত আড্ডায়। তবে কি-না শেষ পর্যন্ত নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্টের সুপার টেনের সদস্যপদ আদায় করে নিয়েছে। ভারতীয় মিডিয়াগুলোতে এখন এমনও বলা হচ্ছে যে, বাছাই পর্ব খেলে বরং বাংলাদেশেরই ম্যাচ প্র্যাকটিসটা ভালো হয়েছে!

বোঝাই যাচ্ছে, এশিয়া কাপের রানারআপ বাংলাদেশকে কতটা সমীহের চোখে দেখা হচ্ছে মূল পর্বে। অবশ্য শুধু তো বাংলাদেশই নয়, অন্য গ্রুপে সুপার টেনে উঠেছে আফগানিস্তানও। বাছাই পর্বে তারা টপকেছে জিম্বাবুয়ের বাধা। এখানে বাংলাদেশের বিজয়কে যতটা না, তার চেয়ে অনেক বেশি চমক হিসেবে দেখা হবে আফগানদের সাফল্যকে। তা আফগানরা চমকে দিতে পারে বৈকি! বাংলাদেশের চেয়ে তাদের গ্রুপটাই বরং সহজ হয়েছে। গ্রুপ-১-এ বর্তমান টি২০ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের সঙ্গী আফগানিস্তান। আজ নাগপুরে সুপার টেনের প্রথম লড়াইটা হচ্ছে অবশ্য গ্রুপ-২ থেকে। স্বাগতিক ভারত আছে এই গ্রুপেই। তাদের বিপক্ষে নাগপুরের বিদর্ভ স্টেডিয়ামে খেলবে নিউজিল্যান্ড। এই গ্রুপেই ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গী মাশরাফির বাংলাদেশ; যে গ্রুপটাকে বাংলাদেশ অধিনায়ক বাছাই পর্ব শুরুর আগে থেকেই বলে আসছেন ‘মৃত্যুকূপ’!

আসলে বাছাই রাউন্ড টপকে সুপার টেনের টিকিট নিশ্চিত করাটা একটা চ্যালেঞ্জই ছিল বাংলাদেশের জন্য। একটা সম্মানের প্রশ্ন ছিল এর সঙ্গে জড়িয়ে। যা কখনও মুখে বলেননি মাশরাফি, কিন্তু অনুভব করেছেন। ভয় ছিল তার প্রতিপক্ষ নিয়ে নয়, ধর্মশালার কন্ডিশন নিয়ে। এশিয়া কাপ খেলেই ভিন্ন এক পরিবেশে এসে খেলতে হয়েছে তাদের। তার ওপর সানি-তাসকিনকে নিয়ে কী হয় কী হয় একটা ভাবনা! শেষ পর্যন্ত সুপার টেনের টিকিট পকেটে ভরে দুশ্চিন্তামুক্ত বাংলাদেশ অধিনায়ক। ‘একধরনের রিলিফ বলতে পারেন, চ্যালেঞ্জটা কম ছিল না। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে প্রথম ম্যাচটি কঠিন ছিল। আসলে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে আমাদের কিছু সময় লেগেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছু ভালোভাবেই হয়েছে। এখন পরের রাউন্ডের জন্য প্রস্তুত আমরা।’ কলকাতা রওনা দেওয়ার আগে ধর্মশালা থেকেই বড়মঞ্চের লড়াইয়ের আভাস দিয়ে রেখেছেন মাশরাফি।

এ দিন দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে ধর্মশালা থেকে দিলি্লর বিমানে উঠে বাংলাদেশ দল। সেখান থেকে মাশরাফিরা কলকাতার উড়ানে উঠলেও তাসকিন যান অন্য রুটে। হিথ স্ট্রিককে সঙ্গে নিয়ে তাসকিন তার বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিতে যান চেন্নাই। সন্ধ্যায় কলকাতা পেঁৗছেন মাশরাফিরা। ঘণ্টা ছয়েকের এই ভ্রমণপথে ভিন্ন ধরনের এক অভিজ্ঞতা হয়েছে টাইগারদের। দিলি্ল বিমানবন্দরে সেলফি শিকারি সেখানকার নিরাপত্তাকর্মীরাও। বাংলাদেশ দলকে দেখেই তাদের সুপার টেনের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে আমভারতীয়। কলকাতায় নেমে তো পাশের বাড়ির ছেলের আদর। আজ বাদে কাল এখানেই সুপার টেনের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এর পর ২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ব্যাঙ্গালুরুতে, একই ভেন্যুতে ২৩ মার্চ স্বাগতিক ভারতের সঙ্গে। আর ২৬ মার্চ কলকাতায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামছে মাশরাফিরা। এরই মধ্যে আইসিসির অফিসিয়াল ব্রডকাস্টার স্টার স্পোর্টসের বিশেষ অ্যাসাইনমেন্ট পড়েছে টি২০-তে বদলে যাওয়া এই বাংলাদেশকে নিয়ে বিশেষ একটি অনুষ্ঠান তৈরির। কোচ হাথুরু, সাকিব, তামিমকে নিয়ে তাই আলাদা আলাদা সেশন চলছে। যার কিছুটা হয়েছে ধর্মশালায়, বাকিটা হবে কলকাতায়।

প্রথম রাউন্ডে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জয়ের পরই প্রায় নিশ্চিত হওয়া যায় সুপার টেনে খেলছেন মাশরাফিরা। কিন্তু তার পরও সরকারি হিসাব বলে কথা, আইসিসি মাশরাফিদের জন্য কলকাতা থেকে ব্যাঙ্গালুুরুর উড়ান নিশ্চিত করতে পারছিল না। কোনো কারণে ওই রাউন্ডে পা হড়কে গেলেই হয়তো আজ কলকাতার এই উড়ান দিল্লি থেকে ঢাকাতেই ফিরে যেত। তবে আইসিসি কর্মকর্তাদের এখন দৌড়ঝাঁপ দেখে মনে হচ্ছে- সুপার টেনের মঞ্চ যেন মাশরাফিদের জন্যই অপেক্ষা করে ছিল। সেখানে টি২০ ক্রিকেটের কুলীন সমাজ এখন সরকারিভাবেই স্বাগত জানাচ্ছে বাংলাদেশকে।






Related News

Comments are Closed