Main Menu

ড্রেজার সংকটে নাব্যতা হারাচ্ছে নদী

সারাদেশের চার শতাধিক নদ-নদীতে বছরে প্রায় ৩ কোটি টন পলি জমে মানচিত্র হারিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে গত ৪৪ বছরে প্রায় ১৩২ কোটি টন পলি জমছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, নদ-নদী সংরক্ষণ বিষয়ক টাক্সফোর্স সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। নদীর প্রবাহ ফেরাতে ৮ লাখ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ২০০টি ড্রেজার প্রয়োজন বলেও জানায় তারা। বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, ১৯৬২-৬৭ পর্যন্ত নেডকোর সমীক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশে নদীপথের মোট দৈর্ঘ্য ছিল ২৪, ১৪০ কিলোমিটার। ১৯৮৭-৮৮ সালের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী বর্ষাকালে বাংলাদেশে নদীপথের দৈর্ঘ্য মাত্র ৬০০০ কিলোমিটার এবং শুষ্ক মৌসুমে ৩৮২৪ কিলোমিটার। ১৯৮৭-৮৮ সনে ডাচ ডিএইচভি’র করা পনৗপথ জরিপের পর প্রায় ২৮ বছর প্রয়োজনীয় অর্থাভাবে নৌপথের জরিপ হয়নি।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নদ-নদীর নাব্যতা রক্ষায় দুটি মন্ত্রণালয় কাজ করলেও ড্রেজার সঙ্কটে সুষ্ঠুভাবে কাজ সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩৫টি ড্রেজার থাকলেও বেশিরভাগই বিকল হয়ে আছে। আর নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১০টি ড্রেজারের মধ্যে ২টির অবস্থা খারাপ। তবে প্রতিষ্ঠান ২০টি ড্রেজার সংগ্রহের কাজ চলছে। সূত্র জানায়,দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথে নৌযান ও ফেরি চলাচল উপযোগী রাখতে বছরে অন্তত এককোটি ঘনমিটার পলি খনন করা জরুরী। নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দশটি খননযন্ত্র দিয়ে ৫০ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করতে পারে। বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়,বর্তমান ১০টি ড্রেজারের কর্মক্ষমতা ৫০ লাখ ঘনমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) ৩৫টি ড্রেজারের মধ্যে গড়ে ২ লাখ ঘনমিটার হিসেবে ৭০ লাখ ঘনমিটার (প্রতি ঘন মিটার ১ দশমিক ৯৫ টন হিসেবে) ১৩৫ দশমিক ৫০ লাখ টন এবং প্রাইভেট সেক্টরের ২০ টি আধুনিক ড্রেজারের মাধ্যমে প্রতিটি ৮ লাখ টন হিসেবে ১ পকাটি ৬০ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করতে পারে। দুটি মন্ত্রণালয় এবং পবসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৬৫টি ড্রেজারের মাধ্যমে ৫৪৫ লাখ বা ৫ দশমিক ৪৫ কোটি টন পলি অপসারণ করা যায়। বিআইডব্লিউটিএর প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) আব্দুল মতিন বলেন, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদনদী সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু দেশে এখনো ড্রজারের সংখ্যা নয়। এ কারণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও উৎসাহিত করা হচ্ছে ড্রেজার সংগ্রহ করার জন্য। তিনি বলেন, ‘পলি জমে নদী মরে যাচ্ছে। নদীর নাব্যতা উন্নয়নের জন্য পড্রজিং করা হয়ে থাকে। কিন্তু পলি অপসারণ করার জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ে বর্তমানে মাত্র ৫টি প্রকল্প রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাইদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় মাদারীপুর-চরমুগুরিয়া- টেকেরহাট- গোপালগঞ্জ নৌপথ খনন প্রকল্পসহ ১২টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প পনওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ড্রেজিংয়ের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিআইডব্লিউটিএর অধীনে বর্তমানে ১০টি ড্রেজার আছে, যার মধ্যে ২টি ১৯৭২ সালে, ৫টি ১৯৭৫ সালে এবং ৩টি ২০১১ সালে পকনা। ১৯৭২ পথকে ১৯৭৫ সালে সংগৃহীত ৭টি ড্রেজার দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এগুলোর অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল অনেক আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। অপরদিকে ২টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১১ সালে ৩টি নতুন ড্রেজার সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়া নতুন ১৪টি ড্রেজার ক্রয়ের বিষয়টি চলমান। আগামী ৫ বছরে দেশের ৮১টি পনৗরুটর প্রায় ২৬৪৮.১০ লাখ ঘনমিটার পলি ড্রেজিং করতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজার দ্বারা ৪৯৯.০০ লখ ঘনমিটার, প্রাইভেট ড্রেজার দ্বারা ২১০৪.০০ লক্ষ ঘনমিটার এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের ড্রেজার দ্বারা ৪৫.১০ লাখ ঘনমিটার পলি ড্রেজিং করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পলি অপসারণের বিভিন্ন ক্ষমতার ৩০টি ড্রেজার ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার কোটি। তিনি আরও বলেন, সরকার নদী পথকে সচল করার পাশপাশি মৃতপ্রায় নদী রক্ষার জন্য কাজ করছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে যমুনা নদীর প্রশস্ততা কমিয়ে আনাসহ দু’তীর সংরক্ষণে ১৩ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা (১ ডলার ৭৯ টাকা হিসেবে) দেবে বিশ্বব্যাংক। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।






Related News

Comments are Closed