Main Menu

প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে বিএফইউজে-ডিইউজের প্রতিবাদ

গণমাধ্যমের বেশি স্বাধীনতা দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়’ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বুধবার সিলেটে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি-জামায়াত সমর্থক বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের নেতৃবৃন্দ।
বিএফইউজে’র প্রচার সম্পাদক জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত বৃহস্পতিবার এক যুক্ত বিবৃতিতে সংগঠন দু’টির পক্ষ থেকে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির বক্তব্য অনাকাঙ্খিত ও অনভিপ্রেত। এ ধরনের বক্তব্য ক্ষমতাসীনদের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বেপরোয়া নীতিকে সমর্থন ও উৎসাহ যোগাবে।’
সিলেট জেলা আদালতে বুধবার ডিজিটাল সাক্ষ্যগ্রহণ পদ্ধতির উদ্বোধনকালে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের দেশের মিডিয়া আজ যথেষ্ট স্বাধীনতা লাভ করছে। মিডিয়াতে রাতে টকশোসহ অন্য আলোচনা হয়। কিছু কিছু প্রিন্ট মিডিয়াতে বিচার বিভাগ নিয়ে আলোচনা হয়। সবাইকে বলতে চাই, আমাদের মিডিয়া বা আমাদের লিবার্টি আছে। বেশি লিবার্টি বাংলাদেশ কিংবা বিশ্বের কোনো দেশের জনগণের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না। এর সীমাবদ্ধতা থাকা উচিত।’

বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুদ্দিন হারুন ও মহাসচিব এম আবদুল্লাহ এবং ডিইউজের সভাপতি কবি আবদুল হাই শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান বিবৃতিতে বলেন, ‘দেশের সাংবাদিক সমাজ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য লড়াই-সংগ্রাম করেছে। আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও স্বাধীন গণমাধ্যম একে অপরের পরিপূরক। গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা না থাকলে আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা যে বিপন্ন, তা বাংলাদেশে বার বার প্রমাণিত হয়েছে। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনি বাধা-নিষেধ মেনে সংবাদমাধ্যম কাজ করবে, তাও বলে দেওয়া হয়েছে। চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়েছে শর্তহীনভাবে। সংবিধান স্বীকৃত এ স্বাধীনতা কোনোপক্ষ থেকে বিঘ্নিত হলে সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব সংবিধানের রক্ষক সর্বোচ্চ আদালতের।’

সাংবাদিক নেতারা বলেন, ‘বর্তমানে দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মারাত্মক হুমকির মুখে। সত্য প্রকাশের দায়ে সম্পাদক ও সাংবাদিকদের কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে, জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতন চলছে এবং গণহারে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আমাদের বিস্মিত ও শঙ্কিত করে তুলেছে।’






Related News

Comments are Closed