Main Menu

ফেডারেল রিজার্ভের বিরুদ্ধে ‘প্রয়োজনে’ মামলা

বাংলাদেশ ব্যাংকের নামে সুইফট (সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন) মেসেজিং সিস্টেমে যাওয়া ‘ভুয়া’ অনুরোধ পাওয়ার পর ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপিন্স ও শ্রীলঙ্কার দুটি ব্যাংকে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম মানা হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে আজমালুল হক কিউসিকে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক এবং সংশ্লিষ্ট তিন ব্যাংকের কোনো গাফিলতি ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখে ‘প্রয়োজনে’ মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

চুরির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই ফেডারেল রিজার্ভের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এ ঘটনা তাদের নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে ঘটেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুরোধ পাওয়ার পর নিয়ম মেনেই তারা ‘যথাযথ’ পদক্ষেপ নিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বুধবার বলেন, “সংশ্লিষ্ট তিন ব্যাংক স্ব স্ব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে কী না- সেটি যাচাইয়ে কাজ করবেন আজমালুল হক কিউসি। এক্ষেত্রে যদি কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হয়- তাও তিনি নেবেন।”

রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন দেয়, যাতে অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কর্তব্যে অবহেলা ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং সরকার গঠিত তদন্ত কমিটিও কার কোথায় গাফিলতি তা খতিয়ে দেখছে।

ইতিহাসের অন্যতম বড় এই রিজার্ভ চুরির ঘটনাটি ৪ ফেব্রুয়ারি ঘটলেও তা বাংলাদেশের মানুষ জানতে পারে প্রায় এক মাস পর ফিলিপিন্সের তদন্তকারীদের বরাতে দেশটির একটি ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদনের সূত্র ধরে।

এরপর ফিলিপিন্সের তদন্তে বেরিয়ে আসতে থাকে একের পর এক তথ্য। জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে একশ কোটি ডলার সরাতে মোট ৩৫টি অনুরোধ পায় নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ।

এর প্রথম চারটি অনুরোধে তারা ফিলিপিন্সের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের কয়েকটি অ্যাকাউন্টে ৮১ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করে। এরপর স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তরিত হয়ে ওই টাকার প্রায় অর্ধেক চলে যায় ক্যাসিনোর জুয়ার টেবিলে। বাকি টাকার কোনো হদিস ফিলিপিন্সের তদন্তকারীরা পাননি। বাংলাদেশের টাকা ফেরত পাওয়ার কোনো আশাও তারা দেখাতে পারেননি।

আর পঞ্চম আদেশে শ্রীলঙ্কায় প্যান এশিয়া ব্যাংকিং কর্পোরেশনে একটি ‘ভুয়া’ এনজিওর অ্যাকাউন্টে ২০ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হলেও বানান ভুলে সন্দেহ জাগায় শেষ মুহূর্তে তা আটকে যায়।






Related News

Comments are Closed