Main Menu

রাত পোহালেই শঙ্কার ভোট

প্রথম ধাপের সহিংসতার রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় দফার ৬৪৩ ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ হবে কাল (বৃহস্পতিবার)। ১ম ধাপের সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় ভোটার ও প্রার্থীদের নানা শঙ্কা বিরাজ করছে। ২য় ধাপের নির্বাচনের আগেই সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতোকিছুর পরও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ ধাপে নেয়া হয়নি বাড়তি কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

রাত পোহালেই ৪৭ জেলায় ৬৪২ ইউনিয়ন পরিষদে একযুগে শুরু হবে ভোট গ্রহণ। এ জন্য নির্বাচনী এলাকায় মাঠে টহল শুরু করেছে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও আনসারসহ প্রায় দেড় লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সঙ্গে রয়েছে নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে সব ধরণের প্রচার-প্রচারণা। বৃহস্পতিবার সকাল ৮ থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনী এলাকায় বুধবার মধ্যরাত থেকেই সব ধরণের যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের ভোটগ্রহনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নির্বাচনী পরিবেশ। প্রতিপক্ষের উপর হামলা, বাড়ি-ঘর ভাংচুর, প্রচারে বাঁধা দেয়াসহ সহিংস ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে চলছে আচরণ বিধি লংঘনের হিড়িক। কোথাও কোথাও প্রার্থী ও ভোটারদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করায় শেষ মুহূর্তে ইসিতে অসংখ্য অভিযোগ পড়েছে। এসব ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে শুধু নির্দেশনা পাঠিয়ে দায় সারছে ইসি। ওই সব ঘটনায় কমিশন সচিবালয় থেকে মনিটরিং ও দায়িদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।

২য় ধাপেও আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে পরিস্থিতি দেখে কঠোর ভূমিকা রাখার তাগিদ দিয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সামনে অপরাধ হবে, আর সেখানে তারা আঙ্গুল চুষবে- এ ধরনের কোনো বিষয় প্রশ্রয় দেব না। প্রিজাইডিং অফিসারের সামনে সিল মেরে যাবে আর তখন হা করে দাঁড়িয়ে থাকবে- সেটাও আমরা সহ্য করব না। এককথায় নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য যা যা করা দরকার সবটাই নিতে হবে।

প্রথমধাপের ভোটের আগে-পরে সহিংসতায় অন্তত ২৪ জনের প্রাণহাণির পাশাপাশি অনিয়মের সহশ্রাধিক অভিযোগ পড়েছে নির্বাচন কমিশনে। এ কারণে ২য় দফার ভোট নিয়ে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে নানা শঙ্কা বিরাজ করছে।

প্রার্থী-ভোটার ও ভোটকেন্দ্র

ইউপিতে ২য় ধাপে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের ৩১ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী চেয়ারম্যান প্রার্থী। এ ধাপে ৬৪২ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে ৩ হাজার ১১৪ জন। এরমধ্যে ১৭টি রাজনৈতিক দলের এক হাজার ৫৫৯ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে এক হাজার ৫৫৫জন। এছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ২৩ হাজার ৩৭৭ জন প্রার্থী।মহিলা সদস্য ৬ হাজার ৭৯৯ জন প্রার্থী লড়বেন।

এ ধাপে ৬ হাজার ২০৫ টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে। এসব ভোট কেন্দ্রে বুথের সংখ্যা ২৩ হাজার ২১ টি। এ হিসাবে প্রতি কেন্দ্রে ১ জন করে ৬ হাজার ২০৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার, প্রতি বুথে ১ জন করে ২৩ হাজার ২১ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং প্রতি বুথে ২ জন করে ৪৬ হাজার ৪২ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এতে মোট ভোটার ১ কোটি ১২ লাখ ১২ হাজার ৩৩৪জন।

মাঠে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

ইউপি নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে মঙ্গলবার মাঠে নামছে বিভিন্ন বাহিনীর দেড় লাখ সদস্য। একইসঙ্গে ৪৭ জেলার ৬৪৩ ইউপিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও অপরাধ তদারকিতে মাঠে রয়েছেন।

নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি

নির্বাচনের কারণে ৬৪৩ ইউপিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়। ফলে নির্বাচনী এলাকায় সকল অফিস বন্ধ থাকবে।

দ্রুত ফলাফল পাঠাতে রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশনা

ইউপি নির্বাচন ভোটগ্রহণ ও গণণা শেষে দ্রুত ফলাফল পাঠাতে রিটার্নিং অফিসারদের বিশেষ নির্দেশনা পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।বুধবার বিকেলে এ বিশেষ নির্দেশনা সকল রিটার্নিং অফিসারকে পাঠানো হয়েছে বলে ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা ও পরবর্তী সময়ে যাতে সহিংসতার সৃষ্টি না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২২ মার্চ প্রথম ধাপে ৭১২ ইউপিতে ভেট হয়েছে। আগামীকাল দ্বিতীয় ধাপের ভোট রয়েছে প্রায় সাড়ে ছয়শ’ ইউপিতে। তৃতীয় ধাপে ২৩ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ৭ মে, পঞ্চম ধাপে ২৮ মে ও ষষ্ঠ ধাপে ৪ জুন ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।






Related News

Comments are Closed