Main Menu

রামপুরায় দুই শিশু হত্যা রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে

রামপুরায় দুই শিশু হত্যার রহস্য উদঘাটনের দ্বারপ্রান্তে পুলিশ। কী কারণে, কীভাবে এবং কারা তাদের হত্যায় জড়িত, তার সবকিছু বেরিয়ে এসেছে।

বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত সংস্থা থেকে জানানো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে শিশু দুটির মায়ের পরকীয়াকেই বেশি সন্দেহ করা হচ্ছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। আর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে বলে রামপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান।

বুধবার রাতে তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ওই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার কথা আছে। এরপরই মামলা করা হবে। কেননা এটি একটি হত্যাকাণ্ড। আর হত্যাকাণ্ডে ভুক্তভোগীর পরিবার না করলেও পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে- এটিই আইনের ভাষা। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। তবে এতটুকু বলা যায়, ঘটনার কারণ সম্পর্কে খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। এ জন্য আর বেশি দেরি করতে হবে না।’

সূত্রটি বলছে, ওই দুই শিশুর গৃহশিক্ষক এবং পরিবারের আরেক সদস্যের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকালে বাবা আমান উল্লাহ, মা মাহফুজা মালেক ও খালা আফরোজা মালেককে আটক করে র‌্যাব। তিনজনকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আবার একসঙ্গে করেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ঘটনার দুদিন আগে, ঘটনার দিন কী হয়েছিল, তার বিস্তারিত বলেছেন উভয়ই। এর মধ্যে প্রধান সন্দেহভাজন করা হয় শিশু দুটির মা মাহফুজা মালেককে। কেননা, ঘটনার সময় তিনিই বাসায় ছিলেন। প্রথমে তিনি কিছু বলতে না চাইলেও পরে ঘটনার সব খুলে বলেন। যা রেকর্ড করা হয়। একই সঙ্গে তিনি নিজের, স্বামী এবং পরিবারের আরো কিছু তথ্য দিয়েছেন। আর এসব কিছুই ঘটনাকে পরিষ্কার করে দিয়েছে কেন অবুঝ দুটি শিশুকে নির্মমভাবে এ পৃথিবী থেকে চলে যেতে হলো।

ওই বাসায় শিশু দুটির বাবার পরিচিতি এক ব্যক্তি আসতেন। তাকেও সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। তার সঙ্গে নিহত দুই শিশুর মায়ের অনৈতিক সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এই সম্পর্কের বিষয়ে ঘটনার দিন শিশু দুটি টের পাওয়ায় দুজনে মিলে ঘুমের ঘরে তাদের হত্যা করতে পারে। ওই ব্যক্তি প্রায় সময়ই ওই বাসায় আসতেন বলে প্রতিবেশীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটিয়ে চলে যেতেন। তবে ওই ব্যক্তির নাম বা পরিচয় জানা যায়নি। আবার বাসায় গৃহিণী মাহফুজা একাই থাকতেন। স্বামী ব্যবসায়িক কাজে বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকতেন। এ ছাড়া ব্যবসায়িক, পারিবারিক, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কসহ আরো বেশ কিছু কারণও এ হত্যার সঙ্গে কাজ করেছে বলে সূত্রটি জানায়।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার তিনজনের মধ্যে মা ও খালাকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হতে পারে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে পুলিশের মামলার ওপর। সে ক্ষেত্রে পুলিশও এদিন মামলা করবে বলে থানার একটি দায়িত্বশীয় সূত্র রাইজিংবিডিকে নিশ্চিত করেছে।

সোমবার সন্ধ্যার পর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইস্কাটন শাখার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ইশরাত জাহান অরুণী (১৪) এবং তার ছোট ভাই হলি ক্রিসেন্ট স্কুলের নার্সারির ছাত্র আলভী আমানকে (৬) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চায়নিজ খাবার খেয়ে ঘুমালে এ ঘটনা ঘটে বলে তাদের স্বজনরা প্রথমে প্রচার করেন। মঙ্গলবার বাসার গৃহশিক্ষক শিউলি আক্তারসহ ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে র‌্যাব।

অবশ্য এর আগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রাথমিক ময়নাতদন্তে শিশুদের হত্যার আলামত মিলেছে। এরপরই তার মা-বাবা গা ঢাকা দেন। শিশু দুটির চাচা আবুল হোসেন লাশ দুটি গ্রহণ করেন।






Related News

Comments are Closed