Main Menu

‘সততা থাকলে জোর গলায় কথা বলা যায়’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সততাই শক্তি। সততা থাকলে জোর গলায় কথা বলা যায়। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়। শুক্রবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর ৯৬তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

জাতীয় সংসদের উপনেতা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রমুখ। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

সততার কারণেই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মধ্যে পড়তে যাচ্ছিলাম, সততা ছিল বলেই তা মোকাবিলা করতে পেরেছি। পদ্মা সেতুর মতো বিশাল প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়ন বাস্তবায়ন করতে পারছি ওই একটা কারণেই। তিনি বলেন, বাঙালি জাতি হিসেবে এটা আমাদের গর্ব ও চ্যালেঞ্জ ছিল। তাই বলে ষড়যন্ত্র থেমে গেছে, তা কিন্তু না।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদা জিয়া বলেছিলেন, এই সরকারকে না হটিয়ে ঘরে ফিরবেন না। ৯২ দিন নিজের কার্যালয়ে বসে ৬৮ জন মানুষকে পোড়াল। এভাবে মানুষ পোড়ালে আল্লাহও নারাজ হন, এটা তাঁর জানা উচিত ছিল। নাকে খত দিয়ে তাঁকে ঘরে ফিরতে হয়েছিল। কাজেই এদের চরিত্র হচ্ছে অপরাধী-খুনি এদের রক্ষা করা, মদদ দেওয়া এবং তাদের নিয়ে চলা। আর নিজেরাও খুন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করা। এরা তো দেশের কল্যাণে কোনো কাজ করতে পারে না। বা বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে বিশ্বে মর্যাদার নিয়ে চলবে, এটাও বোধ হয় তাদের পছন্দ না। ওই পরাজিত শক্তি, পুরোনো প্রভুদের তারা ভুলতেই পারে না। এটা সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসতে পেরেছি বলেই তো মানুষের সেবা করতে পারছি, দেশের উন্নয়ন করতে পারছি। এই নির্বাচন রুখে দিতেও তো কম ষড়যন্ত্র হয়নি। ৫৮২টি স্কুল পুড়েছে, নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওপর আঘাত এসেছে- আরও কত কী।

‘এদিকে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তারা দেশে বাংলা ভাই ও জঙ্গিবাদের সৃষ্টি করে। শুধু তাই নয়- সে আমলে কিবরিয়া-আহসানুল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করেছে। ২১ আগস্ট দিনে-দুপুরে জনসভায় বোমা মেরে মানুষ মারা হয়েছে। এই ধরনের জঘন্য ঘটনাগুলো তারা ঘটিয়েছে’।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই ’৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে পাকিস্তানের ডুপ্লিকেট সরকার করা হয়। তখন দেশে কোনো উন্নয়ন হয়নি।

আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার সময় ‘বাংলাদেশকে ডিজিটাল’ নিয়ে ঠাট্টা করা হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব ধরনের ঠাট্টার জবাব দিয়েছি। দেশকে ডিজিটালরূপে প্রতিষ্ঠা করেছি। গ্রামে গ্রামে ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে। এছাড়া কেউ গৃহহারা থাকবে না- আমরা এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি এখন। একটি টিন হলেও আমরা গৃহহারাকে দেবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু একটি কথা বলতেন—ভিক্ষুক জাতির কোনো ইজ্জত থাকে না। আমরা কারও কাছে হাত পেতে চলতে চাই না। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াব। মাথা উঁচু করে চলব।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একজন মানুষ তাঁর দেশের মানুষকে কত গভীরভাবে ভালোবাসতে পারেন, তার উদাহরণ বঙ্গবন্ধু। বাঙালি প্রত্যেক মানুষের মনের কথা বঙ্গবন্ধু জানতেন। এ দেশের মানুষও তাঁকে মন থেকে মানতেন। বাংলার মানুষ শোষিত হোক-বঞ্চিত হোক, বঙ্গবন্ধু তা কোনো দিনই চাননি।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, আল্লাহর তরফ থেকেই বঙ্গবন্ধু হয়ত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নিয়ে এসেছিলেন। বঙ্গবন্ধু এই দেশের মানুষকে মুক্তি দিয়েছেন। বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার অবদান অনেক। পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র সৃষ্টিতেও যেমন বঙ্গবন্ধুর অবদান ছিল, ঠিক তেমনি তাদের (পাকিস্তানিদের) শোষণ থেকে বাঙালির মুক্তিতেও তার পূর্ণ অবদান।






Related News

Comments are Closed