Main Menu

‘সব মানুষের এমন একজন থাকে যাকে ভোলা যায় না’

১৮ মার্চ সারাদেশে মুক্তি পেয়েছে রফিক সিকদারের উপন্যাস ‘পদ্মা পারের পার্বতী’ অবলম্বনে নির্মিত ছায়াছবি ‘ভোলা তো যায় না তারে’। জনপ্রিয় নায়ক নিরবের সঙ্গে নায়িকা ছিলেন অভিষিক্ত তানহা তাসনিয়া। নিজেকে রূপালি পর্দায় দেখার অভিজ্ঞা জানাচ্ছিলেন তাসনিয়া।

পর্দায় নিজেকে দেখার অভিজ্ঞতা কেমন?
এক কথায় অসাধারণ! বিস্ময়কর! অনেক বেশি স্পেশাল। শুটিং এর সময় সবাই কোন কোন শটের প্রশংসা করছিলো আবার কোন শট মনমত না হওয়ায় বারবার নিতে হচ্ছিলো। তখন বুঝিনি কেমন অভিনয় করছি। অন্যদের বলা থেকে কতটাই আর বোঝা যায়? পর্দায় যখন নিজেকে দেখলাম তখন মিলাচ্ছিলাম। স্বপ্নের মত কেটেছে হলের পুরোটা সময়।

কখনো কি ভেবেছেন একদিন নিজেকে পর্দায় দেখবেন?
মিডিয়ায় আসার আগে কখনো ভাবি নাই। ভোলা তো যায় না তারে ছবিতে কাজ শুরু করার পর যখনি ভালো কোন চলচ্চিত্র দেখেছি, ভালো কোন চরিত্র দেখেছি তখনি মনে হয়েছে, ইশ! এখানে যদি আমি থাকতে পারতাম নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করতাম।

চলচ্চিত্রে আসার গল্পটা বলুন
নায়ক নিরব ছিলো আমার ফেইসকুব ফ্রেন্ড। ফেইসবুকে ছবি দেখে একদিন দেখা করতে চাইলেন। কেএফসিতে বসলাম আমরা। নিরব ভাই সঙ্গে করে পরিচালক রফিক সিকদারকে নিয়ে এসেছিলেন। তখনই চলচ্চিত্রে কাজের অফার পেলাম। শুনে তো পুরাই শকড! চলচ্চিত্র বলতে আমি যা জানতাম, বুঝতাম তাতে ছোটখাটো একটা চরিত্র পেতেই কতদিন ঘুরতে হয়। কত কষ্ট করতে হয়। প্রথমে মনে হচ্ছিলো স্বপ্ন দেখছি। এক্ষুনি স্বপ্ন ভেঙ্গে যাবে।

নিজেকে প্রস্তুত করলেন কিভাবে?
বাবা-মাকে রাজি করানোর পর শুরু হল চলচ্চিত্রে জন্য নিজেকে প্রস্তত করার সংগ্রাম।
পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করে পুরাটা মুখস্ত করে নিলাম। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দিনের পর দিন সংলাপ বলতে শুরু করলাম। কখনো বাবাকে সামনে নিয়ে সংলাপ বলতাম।

আমার চরিত্র একটা হিন্দু মেয়ের। হিন্দুদের বিয়ে দেখলাম। তাদের মত করে শাখা-সিঁদুর পরা শিখলাম। এভাবেই চরিত্রের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছি।

দর্শক কোন দৃশ্যে বেশি তালি দিয়েছে, হৈচৈ করেছে?
রোম্যান্টিক ও কমেডি দৃশ্যগুলোয় দর্শক বেশি হাততালি দিয়েছে। কষ্টের দৃশ্যে সুনসান নিরবতায় বুঝতে পেরেছি দর্শক আমার কষ্টের ভাগি হচ্ছেন।

চলচ্চিত্র নিয়ে ভাবনা কি?
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে একটা স্টান্ডার্ড পজিশনে নিয়ে যেতে আমার যা করার করবো।

শুটিং এর কোন বিষয়টা ভালো লেগেছে?
এই ছবির শুটিং শুরুর আগে তো কেউ আমাকে চিনতো না। শুটিং শুরু করায় সবাই আমার সঙ্গে সেলফি তুলেছে,অটোগ্রাফ নিয়েছে। এটা অনেক ভালো লাগার ছিলো। তখন মনে হয়েছে আরো আগে বুঝি ফিল্মে আসা উডিৎ ছিলো।

কার সঙ্গে কাজ করার স্বপ্ন দেখেন?
সিনিয়র-জুনিয়র সবার সাথেই কাজ করতে চাই।

দর্শকদের উদ্দেশ্যে যা বলতে চান
প্রিয় দর্শক, প্রতিটা মানুষেরই এমন একজন থাকে যাকে যতই ভুলতে চান কিন্তু ভুলতে পারেন না। আমার এই ছবিটা দেখলে তাকে নতুন করে অনুভব করতে পারবেন। হলে গিয়ে আমার ছবিটি দেখুন। সত্যিকার অর্থেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেখার মত একটা ছবি। আপনার পরিবারকে নিয়ে হলে যাওয়ার অনুরোধ রইলো। বাংলা ছবি নিয়ে আপনাদের ধারণা পাল্টে যাবে।

আপনার কথার ভিত্তিকে একটা প্রশ্ন চলে আসে! ‘সব মানুষের এমন একজন থাকে যাকে ভোলা যায় না’, আপনি কাকে ভুলতে চাইছেন না?
-হা হা হা হা আপাতত দর্শকদের ভুলতে চাইছি না।






Related News

Comments are Closed