Main Menu

সিলেটে প্রতিপক্ষের হামলায় যুবক খুন

সিলেট নগরীর রায়নগরে মঙ্গলবার মধ্যরাতে প্রতিপক্ষের হামলায় বিপ্লব রায় বিকল (২৮) নামে এক মুদি দোকানীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত বিকল শহরতলীর মেজরটিলা ভাটপাড়া এলাকার প্রয়াত বিজয় লালের পুত্র। এ ঘটনায় বিকলের আরো তিন বন্ধু আহত হয়েছেন। তারা হচ্ছেন-রায়নগর ১৯ নম্বর গলির হরিলাল দাসের পুত্র শুভ লাল দাস (২০) ও তার সহোদর অনন্ত লাল দাস (২৮) এবং রায়নগর সেবক ১৩৩ নম্বর বাসার স্বপন দে’র পুত্র প্রীতম দে (২৬)। এ ঘটনার জন্য ১৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা জাবেদ সিরাজের সহোদর জমসেদ সিরাজ ও তার সহযোগীদের দায়ী করেছেন নিহতদের স্বজনরা। জমসেদ আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
এ ঘটনার ব্যাপারে দু ধরণের বক্তব্য পাওয়া গেছে। নিহতের স্বজনদের বক্তব্য হচ্ছে-ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বিকলের মৃত্যু হয়েছে।
তবে, অন্য পক্ষের বক্তব্য হচ্ছে-জমসেদ সিরাজের সম্মুখে পায়ে পা তুলে বসায় এ ঘটনা ঘটেছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, গত ৪ ফাল্গুন সুপ্তাকে বিয়ে করেন বিকল। বিয়ের এক মাসের মাথায় স্বামী হারালেন সুপ্তা।
ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫ নং ওয়ার্ডের কর্তব্যরত নার্স অনিতা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে বিকলের মৃত্যু হয়েছে। রাত দেড়টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুবেল তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিকলের বুকের বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানান তিনি।
বিকলের বন্ধু শুভলাল দাস জানান, রাত ১১টার দিকে বিকল ও প্রীতম পূর্ব মিরাবাজার এলাকার দাদা পীর (র.) মাজার এলাকায় আড্ডা দিচ্ছিল। এ সময় জমসেদ সিরাজ বিপ্লবকে ডেকে নেয়। সেখানে বিপ্লবের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জমসেদ ও তার সহযোগীরা তাদেরকে মারধর করতে থাকে। খবর পেয়ে প্রীতম, শুভ ও অনন্ত ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে যাওয়ার পর তাদেরকেও মারধর করে জমসেদ ও তার সহযোগীরা। মারধরে গুরুতর আহত হলে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাদেরকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিকলসহ চারজনকে ভর্তি করা হয় ওসমানী হাসপাতালের ৫ নং ওয়ার্ডে। সেখানে বিকলের শরীরে দুই ব্যাগ রক্ত পুশ করা হলেও তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এক পর্যায়ে রাত দেড়টার দিকে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আহত অনন্ত লাল দাস জানান, এ হামলায় জমসেদ সিরাজ ছাড়াও তার সহযোগী কবির, জীবন ও রুবেল অংশ নেয়।
মঙ্গলবার রাতে ওসমানী হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, আহতদের নিয়ে প্রথমে জমসেদ সিরাজ ওসমানী হাসপাতালে যায়। বিকলের মৃত্যু ঘটলে এক পর্যায়ে সে হাসপাতাল থেকে চম্পট দেয়।
জানা গেছে, ৪ ভাই ও এক বোনের মধ্যে বিকল ছিল দ্বিতীয়। তাদের গ্রামের বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলার লহরী গ্রামে। আগে তারা নগরীর রায়নগর এলাকায় ভাড়াটে হিসাবে বসবাস করতেন। গত তিন মাস ধরে মেজরটিলা এলাকায় সপরিবারে বসবাস করছেন তারা।
খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে কোতয়ালী থানার ওসি সোহেল আহমদসহ পদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি জানান, রায়নগরে জাবেদ সিরাজের ভাইয়ের সাথে ছাত্রলীগের অপর একটি দু’গ্রপের মারামারি হয়েছিল। এ নিয়েই মূলত এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।






Related News

Comments are Closed