Main Menu

‘অন্তর মম বিকশিত করো অন্তরতর হে’

রাজধানীতে বৈশাখ উদযাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রায় এবার সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান নিয়ে মূল প্রতিপাদ্য ঠিক হয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা থেকে নেওয়া, ‘অন্তর মম বিকশিত করো অন্তরতর হে’।

একই সঙ্গে ষাটের দশক থেকে ঢাকার রমনার বটমূলে ছায়ানটের বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান মধ্যবিত্ত নাগরিকের উপস্থিতি আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে গতিসঞ্চার করেছিল। যা পরবর্তীতে পয়লা বৈশাখের অন্যতম অনুষঙ্গে পরিনত হয়েছে।

চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেনের কথায়, “প্রতিবারই আমরা শুভ কামনা নিয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করি। এবছর আমাদের মূল ভাবনার জায়গাটা সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়। যার ফলে এখন মায়ের হাতে সন্তান, সন্তানের হাতে মা খুন হচ্ছে। সেই সঙ্গে ধর্ম ব্যবসায়ীদের আস্ফালনসহ নানা অবক্ষয় চলছে।”

“আমরা এসব থেকে মুক্তি চাই, আলোর দিকে যেতে চাই।”

এক বছর আগে বাংলা নতুন বছর বরণে সবার উৎসবে ছায়া ফেলেছিল যৌন নিপীড়নের ঘটনা; তারপর পুরো বছরজুড়ে শিশুহত্যা, পারিবারিক সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে এবার অবক্ষয় রোধের ডাকই আসতে যাচ্ছে বৈশাখ বরণের নানা কর্মসূচিতে।

উগ্রবাদীদের তৎপরতার মধ্যে লেখক-প্রকাশক, বিদেশি, ভিন্ন মতবালম্বী হত্যার মধ্যেও এই সময়ে সামাজিক অবক্ষয়গুলো বড় হয়ে চোখে ধরা দিয়েছে এসব কর্মসূচি আয়োজকদের মধ্যে।

গতবারের নারী লাঞ্ছনার ঘটনায় পহেলা বৈশাখে ‘নিরাপত্তার জন্য’ উদযাপনের অনুষ্ঠানে সরকারের কড়াকড়িও প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে অনেকের মনে। এবারের বর্ষবরণ উৎসব কারও কারও কাছে প্রতিরোধের আহ্বান নিয়েও আসছে।

এসব মিলিয়েই ১৪২৩ বঙ্গাব্দকে বরণের প্রস্তুতি এখন বাংলাদেশজুড়ে, বুধবার চৈত্রসংক্রান্তির নানা আয়োজনে ১৪২২ সালকে বিদায় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় তা।

চারুকলার শোভাযাত্রা আয়োজক শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ক খালিদ হাসান রবিন বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ের শিশু নির্যাতন এবং মা ও শিশুর সম্পর্কের দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে শোভাযাত্রার শুরুতেই থাকবে টেপা পুতুলের আদলে মা ও শিশুর কাঠামো, যার উচ্চতা হবে ২০ থেকে ২৫ ফুট।”

হত্যা-ধর্ষণ আর শিশুহত্যার প্রেক্ষাপটে মা ও সন্তানের সম্পর্ককে প্রাধান্য নিয়ে বৃহস্পতিবার মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হবে রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে।

বিভিন্ন লোকজ অনুষঙ্গ ও কাঠামোকে সঙ্গী করে শোভাযাত্রাটি চারুকলার সামনে থেকে বের হয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের (সাবেক হোটেল রূপসী বাংলা) সামনে ঘুরে আবার চারুকলার সামনে ফিরে শেষ হবে।

প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানীতে নতুন সূর্যের সঙ্গে রমনা বটমূলে গেয়ে উঠবে ছায়ানট। এই প্রভাতী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে।

এক যুগের বেশি সময় আগে বোমাহামলার বেদনাদায়ক সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবারও রমনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা থাকবে, তার মহড়াও ইতোমধ্যে হয়েছে। বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরাও।

শাহবাগে ঢাকা শিশু পার্কের সামনে এবং ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরেও অনুষ্ঠান থাকছে বরাবরের মতোই।






Related News

Comments are Closed