Main Menu

অবরোধে অনড় খুলনার পাটকল শ্রমিকরা

প্রধানমন্ত্রীর টাকা বরাদ্দ প্রদানের ঘোষণা এবং দুই সপ্তাহের মজুরি নিয়ে কাজে যোগদানের বিষয়ে পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের হুঁশিয়ারিতেও ধর্মঘট ও অবরোধ কর্মসূচিতে অটল রয়েছে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত সাত পাটকলের শ্রমিকরা। সবকিছুকে উপেক্ষা করে পাটকল শ্রমিকরা দ্বিতীয় দফায় শুরু হওয়া অবরোধ কর্মসূচি তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত রেখেছেন।

বুধবার ভোর ছয়টা থেকে আবারো লাগাতার রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছেন শ্রমিকরা। অন্যান্য দিনের মতো তারা নগরীর নতুন রাস্তা মোড়সহ খুলনা-যশোর মহাসড়কের তিনটি স্থান এবং রেলপথে অবস্থান নিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। কোন প্রতিশ্রুতি এবং হুমকি-ধামকি নয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে পিছপা হবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।

এদিকে, ঢাকায় অবস্থানরত রাষ্ট্রায়ত্ত সাত জুট মিল সিবিএ-ননসিবিএ ঐক্য পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বুধবার দুপুর আড়াইটায় পাটমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। বৈঠক ফলপ্রসু হলেই কেবল আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। অন্যথায় কোন চাপ প্রয়োগ করে আন্দোলন থামানো যাবে না বলে ঘোষণা তাদের।
এদিকে, টানা অবরোধের কারণে প্রতিদিনের মতোই খুলনা-যশোর মহাসড়কে যানজট দেখা দিয়েছে, বন্ধ রয়েছে রেল যোগাযোগ। ফলে এ সড়কে চলাচলরত হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে ভুগছেন। বিকল্প পথে চলাচল করছে পথচারীরা।

এর আগে সোমবার সরকার শ্রমিকদের বকেয়াসহ পাট শিল্পের উন্নয়নে সরকার এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিলে খুলনার জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল আহসান শ্রমিকদের অবরোধ তুলে নেয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু তারা পাটমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় অটল থাকেন। এছাড়া মঙ্গলবার পাট শ্রমিকলীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর পাট প্রতিমন্ত্রীর দুই সপ্তাহের মজুরি নিয়ে কাজে যোগ না দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণায় শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, পাট শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে মিলগুলোকে পূর্ণাঙ্গ উত্পাদনমুখী করতে পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়, পে-কমিশনের মত অবিলম্বে শিল্প শ্রমিকদের জন্য মজুরি কমিশন বোর্ড গঠন, ২০১৩ সালের ১ জুলাই ঘোষিত ২০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান এবং খালিশপুর, দৌলতপুর, কর্ণফুলী জুট মিলের শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ীকরণসহ সব পাওনা পরিশোধ- এই পাঁচ দফা দাবিতে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত সাত পাটকলের শ্রমিকরা গত ৪ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন। পাশাপাশি ৫ এপ্রিল থেকে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। মধ্যে ৭ এপ্রিল থেকে তিনদিন স্থগিত থাকার পর ১১ এপ্রিল থেকে পুনরায় অবরোধ চলছে। এতে পাটকলগুলো অচল হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন পাটকলগুলো কোটি কোটি টাকার লোকসান গুণছে।






Related News

Comments are Closed