Main Menu

আইপিএল নিয়ে জুয়া, অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন ছাত্র-ছাত্রীরা

টিভি সেটের সামনে পাঁচ যুবক, প্রত্যেকের হাতে মোবাইল এবং ল্যাপটপ। একটু পর পর মোবাইল বেঁজে উঠছে। ল্যাপটপে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের নামে ছক আকাঁ। নামের পাশে বিভিন্ন ঘর বসানো হয়েছে। একেকটি ঘরে টাকার অংক বসানো। মোবাইলের অপর প্রান্ত থেকে টাকার পরিমাণ বলে দেয়া হয়, আর এক যুবক সেই ঘরে অংক বসিয়ে দেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) প্রতিদিনের খেলা শেষে চলে হিসাব-নিকাশ। কত টাকা জেতা হল আর কত হারা হল তা নিয়ে চলে দেন-দরবার। এটা গেল রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির চিত্র। আইপিএল শুরুর পর থেকে এ ধরনের দৃশ্য এখন ঢাকার সর্বত্র। ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকার আশ-পাশ এলাকাতেও। আইপিএল নিয়ে জুয়ার আসর নতুন নয়। এই লিগ শুরুর পর থেকে বাজিকরদের একটা অংশ দেশের তরুন এবং যুবকদের টেনে নিয়ে যাচ্ছে এ ধরনের নেশায়। তাছাড়া বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাজিকররা প্রতিদিন আইপিএল ম্যাচের উপর বাজি ধরছেন। একদিনে কেউ কেউ লাখপতি হচ্ছেন আবার কেউ নিঃস্ব হয়ে সর্বশ্ব খোঁয়াচ্ছেন। জেতার গল্পটি এখানে সীমিত। ঢাকার বাইরে যেমন, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া অঞ্চলে এ ধরনের কর্মকান্ড বেশি হয়ে থাকে। গত এক সপ্তাহে সরেজমিনে এসব এলাকার লোকদের জড়িয়ে থাকার প্রমান পেয়েছে পুলিশ। গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে মারাও গেছে কয়েকজন। তবুও প্রশাসন এক প্রকার অসহায়। কারণ, হঠাৎ করে অভিযান চালানোর পর অনেক জায়গায় ফের এ ধরনের আসর বসানো হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতেও এই জুয়া ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৬ এপ্রিল রংপুরের কাউনিয়ায় এক ছেলেকে পুলিশ পিটিয়ে মেরেছে। অভিযোগ ছেলেটির পরিবারের, কিন্তু পুলিশ বলছে হৃদরোগে আক্রান্ত তিনি মারা গেছেন। পরে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। রাজশাহীর বিভিন্ন জায়গায় জুয়ার জন্য কম করে হলেও ১০টি স্পট বসিয়েছে বাজিকররা। স্কুল, কলেজ, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এমনকি ছাত্রীরা এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন বলে প্রশাসনের অভিযোগ। জুয়ার টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক ছেলে-মেয়ে চুরি ডাকাতি করছে। অনেকে আত্মহত্যার পথও বেছে নিচ্ছে বলে স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া এ ধরনের কর্মকান্ড বন্ধ হওয়ার উপায় নেই বলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে।

কিভাবে আইপিএল ম্যাচ নিয়ে জুয়া হয়:
যেমন মুস্তাফিজুর রহমান এক ওভারে কত রান দিবে কিংবা কয়টি উইকেট পাবে- তার উপর ধরা হয় বাজি। কেউ ১০০ টাকা বাজি ধরলে তাকে দেয়া হয় ২০০ টাকা। যদি বড় অংকের বাজি ধরা হয়, যেমন ১০ হাজার টাকার বিপরীতে একজন পাবেন ২০ হাজার টাকা, অর্থ্যাৎ যে টাকা বাজি ধরা হবে তার দ্বি-গুন পাবেন সেই ব্যক্তি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকে এক বাজিকর সেই অভিজ্ঞতার কথাই বললেন, ‘আমরা ল্যাপটপের মাধ্যমে সব খেলোয়াড়ের বল, রান, উইকেট এগুলো ছোট ছোট ঘর তৈরি করি। এরপর আগ্রহী ব্যক্তির কাছ থেকে বাজির সম পরিমান টাকা নিয়ে অপেক্ষা করি। তিনি জিতলে আমরা তাকে ডাবল দিয়ে দেই। নয়তো পুরাটাই আমাদের থেকে যায়। তবে বেশিরভাগ সময় জুয়া জেতেন না ভুক্তভোগিরা। কিছুদিন আগে এক যুবক ২ লাখ খুঁইয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।’ এই বাজিকরের কথাতেই একটা বিষয় পরিস্কার, ঢাকার আশে-পাশে এলাকায় ছড়িয়ে গেছে আইপিএল নিয়ে জুয়া। এ ধরনের আসরে মধ্যম আয়ের মানুষেরা এবং তাদের ছেলে-মেয়েরা জড়িয়ে পড়ছে বলে জানা যায়।

এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক পরিচালক জানালেন, ‘এটি বন্ধ হবার নয়। কারণ, এখানে ১ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জুয়া হয়। আর প্রশাসন এটার উৎপত্তিস্থলও খুঁজে পাবেনা। কারণ, এ ধরনের জুয়া প্রতিটি অলি-গলিতে হয়ে থাকে। যদিও গত এক সপ্তাহে পুলিশ বেশ কিছু জায়গা সনাক্ত করেছে। ইতোমধ্যে তাদের তৎপরতায় জুয়া একটু কম হচ্ছে বলে বেশিরভাগ এলাকাবাসী জানায়। ক্রিকেটের উপর বাজি ধরার প্রক্রিয়াটি অনেক পুরানো। এরজন্য জীবন দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক হ্যানসি ক্রনিয়ে। ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ভারতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলসহ পাকিস্তানের অনেক তারকা ক্রিকেটার। এ ধরনের কর্মকান্ড বন্ধ করতে হলে ক্রিকেটারদের মানসিকতা পরিবর্তন দরকার। তবে আন্তর্জাতিকভাবে ক্রিকেট নিয়ে জুয়ার পরিধি বাড়লেও এই রোগে ছাত্র-ছাত্রীরা নিঃস্ব হয়নি। যা হয়েছে আইপিএল নিয়ে জুয়া ধরতে গিয়ে।






Related News

Comments are Closed