Main Menu

কমলগঞ্জের চা বাগান শ্রমিকরা নানা সমস্যায়

কমলগঞ্জ সংবাদদাতা : চা বাগানে কর্মরত শ্রমিক পরিবারগুলোর সদস্যদের অধিকাংশই নিম্নমানের খাবার গ্রহণ করছেন। স্বল্প মজুরিতে ৮/১০ জনের পরিবার চালাতে নিম্নমানের আটা, চাল খেয়ে কোনোমতে দিন অতিবাহিত করছেন। এসব খাবার খেয়ে হুমকিতে পড়ছে মানবস্বাস্থ্য। ফলে পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়সহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন চা শ্রমিকরা।

ব্যক্তি মালিকানাধীন দুই-একটি চা বাগান ছাড়া ডানকান ব্রাদার্স, ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি), বাংলাদেশ চা বোর্ড, এমআর খানসহ বিভিন্ন চা বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য রেশনিং হিসাবে নিম্নমানের আটা, চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। মৌলভীবাজারে প্রায় ৩ লাখ চা শ্রমিক রয়েছেন। নিয়মিত রয়েছেন প্রায় ২ লাখ চা শ্রমিক। প্রতিটি শ্রমিক পরিবারে রয়েছেন ৫/৭ জন সদস্য। একজনের আয় দিয়েই চালাতে হয় পুরো পরিবার। দৈনিক ৮৫ টাকা মজুরি পেয়ে চা শ্রমিকদের ঠিকমতো তিন বেলা খাবার যোগানো সম্ভব হয় না বলে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন। ফলে স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে শ্রমিকরা ভগ্নস্বাস্থ্য ও দুর্বল। চেহারাও ফ্যাকাশে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই শ্রমিকরা সেকশন ও টিলায় দাঁড়িয়ে কাজ করেন। সকালে নিম্নমানের আটা দিয়ে তৈরি রুটি ও লাল চা, দুপুরে চায়ের কচি পাতা, আলু ও মরিচ গুঁড়া করে ভর্তার সাথে সকালে ঘর থেকে নিয়ে আসা রুটি এবং রাতে ভাতের সাথে সবজি কিংবা মরিচ লবণ দিয়েই অধিকাংশ সময়ে খাবার চলে। মাছ-মাংস তাদের ভাগ্যে জোটে না বললেই চলে। শ্রমিকরা নিম্নমানের চাল-আটা নিয়ে অনেকবার আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু বাগান কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কর্ণপাত করছেন না।

শমশেরনগর চা বাগানের লাখপতিয়া রবিদাস, লাছিয়া রবিদাস ও লক্ষ্মী রবিদাসসহ চা বাগানের কয়েকজন নারী শ্রমিক বলেন, আমাদের খাবার কি সবাই খেতে পারবে। কি করবো, লাল রুটি দিয়ে ভর্তা করে খেয়েই জীবন কাটাই। আর পেটে ব্যথা ও ডায়রিয়া দেখা দেয়। এরপরও আমাদের এগুলোই খেতে হয়।






Related News

Comments are Closed