Main Menu

জগন্নাথের ছাত্র মৌলবাদ বিরোধী লেখককে কুপিয়ে হত্যা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা, যিনি মৌলবাদের বিরুদ্ধে অনলাইনে লেখালেখিতে সক্রিয় ছিলেন। বুধবার রাত ৯টার দিকে সূত্রাপুরের একরামপুরে তাকে হত্যা করা হয়।

নিহত নাজিমুদ্দিন সামাদ (২৭) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সান্ধ্যকালীন বিভাগের ছাত্র ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নাজিমের বাড়ি সিলেটে। ফেইসবুক পাতায় তিনি নিজেকে সিলেট জেলা বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গণজাগরণ আন্দোলনের সিলেটের সংগঠক হিসেবেও তিনি কাজ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

ডিএমপির ওয়ারি অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার নুরুল আমীন বলেন, রাত ৯টার দিকে সূত্রাপুরের একরামপুর মোড়ে দুর্বৃত্তরা নাজিমকে কুপিয়ে ও গুলি করে পালিয়ে যায়। তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জানা গেছে, হামলাকারীরা ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি দিয়ে তাকে আক্রমণ করেছিল।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, নাজিম উদ্দিনের মাথার মগজ ও রক্ত পড়ে আছে। সন্ত্রাসীদের চাপাতির কোপে তার মাথা দুই ভাগ হয়ে খুলি আলাদা হয়ে গেছে। কোপানোর পরও মৃত্যু নিশ্চিত করতে সন্ত্রাসীরা তার বুকে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। নিহত নাজিম কয়েক মাস আগে জবির সান্ধ্যকালীন এলএলএম কোর্স প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়। তার জন্মতারিখ ১৯৯০ সাল। এর আগে সে সিলেটে লেখাপড়া করত। সে ঋষিকেশ দাস লেনের একটি মেসে থাকত। তার গ্রামের বাড়িতে খবর পাঠানো হয়েছে। রাতেই তার ভাতিজা ঘটনাস্থলে যান। সে পুলিশকে জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে কারও পারিবারিক বিরোধ নেই। ঘটনার সময় লোকজন আতংকে দোকানপাট বন্ধ করে দেন। হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় হাজার হাজার উৎসুক মানুষ ভিড় জমায়। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে।

ওয়ারী জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার নূরুল আমিন বলেন, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত। ৪-৫ জন আগে থেকেই ওই এলাকায় ওঁৎ পেতে ছিল। নাজিম গলিতে আসামাত্রই প্রথমে তাকে কুপিয়ে জখম করে। সে মাটিতে পড়ে গেলে পরে গুলি করা হয়।

নাজিমের ফেইসবুক পাতায় লেখায় উগ্রবাদীদের সমালোচনা দেখা যায়। তিনি নিজের পরিচয়ে লিখেছেন, নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের অনুসারী নন তিনি। সাম্প্রতিক সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েও লিখেছেন তিনি। আওয়ামী লীগের এই সমর্থক নিজের দলের সমালোচনা করতেও ছাড়েননি।

গত ২ এপ্রিল এক পোস্টে নাজিম আওয়ামী ওলামা লীগ নিয়ে লেখেন, “আওয়ামী ওলামা লীগ আর বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ দুই বিপরীত মেরুর দুই বাসিন্দা। ওলামা লীগ কখনোই বাহাত্তরের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান চায়নি এবং চাইবে না।”
একদিন আগেই এক মাওলানার ‘নারীবিদ্বেষী’ ওয়াজের ভিডিও শেয়ার করে তার সমালোচনাও করেছিলেন নাজিম।






Related News

Comments are Closed