Main Menu

টঙ্গীতে বৃদ্ধ বাবাকে মাদকাসক্ত বানিয়ে হাসপাতালে ভর্তি

গাজীপুর প্রতিনিধি
বাবার অবশিষ্ট সম্পত্তি ছেলেদের নামে লিখে না দেয়ায় এবং লিখে দেয়া সম্পত্তি ফেরত চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টঙ্গী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি হোসেন মুক্তারকে তার দু’ছেলে অপহরণ করে ঢাকার একটি মাদকাসক্ত কেন্দ্রে ভর্তি করিয়েছে। ৭০ বছরের বৃদ্ধ হোসেন মুক্তারকে মাদকাসক্ত ও মানষিক রোগী বানানোর চেষ্টা চালাচ্ছে তার দু’ছেলে। এ ঘটনায় টঙ্গীর পুরো এলাকায় ব্যাপক চানঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ক’দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সমালোচনার ঝড় বইছে। এলাকাবাসী অসহায় এ দলিল লেখকের নিরাপত্তার দাবীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত রবিবার সকালে আউচপাড়ার মুক্তার বাড়ি রোডের একটি দোকান থেকে হোসেন মুক্তার বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির গেটের সামনে থেকে তার বড় ছেলে রফিকুল ইসলাম ও ছোট ছেলে মাজহারুল ইসলাম জোরপূর্বক একটি গাড়িতে উঠিয়ে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। এর পর থেকে তার কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার সন্তানেরা তাকে মাদকাসক্ত ও মানষিক রোগী বানিয়ে ঢাকার গুলশানে মুক্তি নামের একটি মাদকাসক্ত কেন্দ্রে ভর্তি করিয়েছে। এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ আলেক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, হোসেন মুক্তার তার মোট সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশ বিগত ২০০২ সালে দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে বন্টন করে দেন। এছাড়া চার ছেলে-মেয়েকেই তিনি পৃথক পাকা বাড়ি করে দিয়েছেন। কিন্তু ছেলেরা তাকে দেখা-শুনা না করায় এবং ছেলেরা মাদকাসক্ত ও অবাধ্য হওয়ায় তিনি তাদেরকে শাসন করেন এবং হোসেন মুক্তার ছেলে-মেয়েদের নামে দেয়া তার সম্পত্তি ফেরত চান। মামলাও করেন আদালতে। এতে ছেলে-মেয়েরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে বাকি সম্পত্তি তাদের নামে লিখে দিতে বলেন। এতে পিতা-পুত্রদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। বাকি সম্পত্তি লিখে না দিলে পিতাকে হত্যার হুমকির দেয় তার সন্তানরা। এব্যাপারে সামাজিকভাবেও একাধিক বিচার সালিশ হয় ঘটনাটি মিটমাট করে দেয়ার। কিন্তু ছেলেরা বাপের কোন কথাই মানতে নারাজ হয়। যোগাযোগ করা হলে হোসেন মুক্তারের দুই ছেলে রফিকুল ইসলাম ও মাজহারুল ইসলাম বলেন, “উনি মানসিক রোগী তাই তাকে রাজধানীর গুলশানের মুক্তি নামের মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।” ছেলেদের প্রশ্ন করা হয়, “আপনারাই নাকি মাদকাসক্ত”? এ প্রশ্নের জবাবে তারা পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, “এই সমাজে কয় জন আছে মাদক ছাড়া”? টঙ্গী আউচপাড়া মোক্তার বাড়ি রোডে স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, দলিল লেখক হোসেন মুক্তার এলাকায় হোসেন মোক্তার নামে ব্যাপক পরিচিত। তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক। তিনি এলাকার কয়েকটি মসজিদের জমির দাতা। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত নগর মাতৃসদন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য তিনি কোটি টাকার ৬ কাঠা জমিও দান করেছেন। তিনি মোক্তার বাড়ি রোডের অ্যাকসিলেন্ড স্কুলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া অসহায় দরিদ্র মানুষকে তিনি নিয়মিত সহায়তা করে থাকেন। তিনি ঘটনার চার দিন আগেও গত ২৩ মার্চ টঙ্গী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি দলিল (নং-৪২৮৬) নিবদ্ধন করেছেন। অথচ তাকে মানসিক রোগী ও মাদকাসক্ত প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছে তার সন্তানেরা। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে টঙ্গী দলিল লিখক সমিতি তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে তাদের কার্যালয়ে এক সভা করেছে। ঘটনার ব্যাপারে টঙ্গী দলিল লিখক সমিতি পুলিশকে অবহিত করলেও এখন পর্যন্ত হোসেন মুক্তারকে উদ্ধারে কোন ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। টঙ্গীর অসহায় জনদরদি বৃদ্ধ হোসেন মুক্তারের নিরাপত্তায় ও তাকে উদ্ধারে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।






Related News

Comments are Closed