Main Menu

টি২০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মেয়েরা

ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে নারী ক্রিকেটে উঠেছে নতুন সূর্য। তিনবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবার টি-টোয়েন্টির বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মেয়েরা। এবং প্রথমবার ফাইনালে উঠেই! একটু পরই একই মাঠে স্যামিদের শিরোপা লড়াই ইংল্যান্ডের সাথে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি ‘ড্রিম ডাবল’ হবে?

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মেয়েরাও বিপজ্জনক। কিন্তু ফাইনালে তাদের সম্ভাবনা খুব কম লোকেই দেখেছে। এরপর কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বিশ্বকাপের ফাইনালের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়লো অস্ট্রেলিয়া। ৫ উইকেটে ১৪৮ রান তাদের। এতো রান আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের নারীরা কখনো তাড়া করে জেতেনি। কিন্তু তরুণী ম্যাথুস ও অভিজ্ঞ অধিনায়ক টেলরের ব্যাটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট উঠলো ক্যারিবিয়ানদেরই মাথায়। ১৯.৩ ওভারে ২ উইকেটে ১৪৯ রান করে ৮ উইকেটে জিতেছে তারা। ৪৫ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৬৬ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেছেন ম্যাথুস। আর টেলর ৫৭ বলে ৫৯ রান করে দলকে জয়ের দরজায় পৌঁছে দিয়ে আউট হয়েছেন। ১২০ রানের জুটি এই দুই ওপেনারের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি, ওপেনিং জুটিতে নতুন রেকর্ড।

বাংলাদেশের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শুরুতে ৪১ রানের ইনিংসটি ছিল ম্যাথুসের ক্যারিয়ার সেরা। কিন্তু এদিন তার ব্যাটে একি আগ্রাসণ! শুরুতেই চড়াও হলেন অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর। তার সাথে পরে কাঁধে কাঁধ লাগিয়ে ছুটলেন টেলর। ক্লিয়ার হিটে ম্যাথুস প্রতিপক্ষ বোলারদের দিশেহারা করেছেন। সেই চাপের সুযোগ নিয়েছেন টেলর। ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির আগেই ম্যাথুস মেরেছেন তার ছক্কা তিনটি। বাউন্ডারি মেরে করেছেন ৩৫ বলের ফিফটিটি। তারপরই হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় পড়লেন। তাও ব্যাট করে যাচ্ছিলেন।

১২০ রানের সময় ম্যাথুসকে ফিরিয়ে সামান্য আশার আলো দেখে অস্ট্রেলিয়া। তবে ম্যাচ থেকে ক্যারিবিয়ানদের কখনো ছিটকে ফেলতে পারেনি তারা। টেলর শেষ পর্যন্ত খেলতে চেয়েছেন। ম্যাথুসের বিদায়ের সময় ২৬ বলে আর ২৯ রান দরকার ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এদিন যেন ভারতকে হারানো সেমিফাইনালের লেন্ডল সিমন্স ছিলেন ম্যাথুস! শেষে আন্দ্রে রাসেলের ভূমিকায় দিয়ান্দ্রা ডটিন! ১২ বলে যখন ১৪ রান দরকার তখন ডটিনের টানা দুই বাউন্ডারি হিসেবটা পানির মতো করে দেয়। ঝুঁকি না নিয়ে গ্রাউন্ডে খেলে শিরোপা উৎসবে মেতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৩ রান। ডটিন অপরাজিত ১২ বলে ১৮ রান করে। ম্যাচের সেরা অবশ্যই ম্যাথুস। টুর্নামেন্ট সেরা টেলর।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার এলিসে ভিলানি ও অধিনায়ক মেগ ল্যানিং ফিফটি করেছেন। তাদের ইনিংসের ওপর ভর করেই বড় সংগ্রহ পায় অস্ট্রেলিয়া। শুরুতে ওপেনার অ্যালিসা হিলিকে তুলে নিয়েছেন পরে ব্যাটিং হিরো হওয়া ম্যাথুস। এরপর অন্য ওপেনার ভিলানির সাথে ইনফর্ম ব্যাটসম্যান ল্যানিং গড়েছেন ৭৭ রানের জুটি। ঝড়ের বেগে ব্যাট করে ৩৪ বলেই ফিফটি করেছেন ভিলানি। আউট হয়েছেন ৩৭ বলে ৫২ রান করে।

সেমিফাইনালেও ফিফটি করা ল্যানিং টানা ফিফটি করলেন। তৃতীয় উইকেটে এলিসে পেরির সাথে ৪২ রানের জুটিও গড়েছেন। ৪৯ বলে ৫২ রান করে অফ স্পিনার আনিসা মোহাম্মদের শিকার হয়েছেন ল্যানিং। পেরি দুটি ছক্কায় ২৩ বলে ২৮ রান করে আউট হয়েছেন শেষ ওভারে। কিন্তু এতো রান করেও ক্যারিবিয়ান স্পিরিটের কাছে পারলো না অস্ট্রেলিয়ার মেয়েরা। শেষ হাসিটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের






Related News

Comments are Closed