Main Menu

রাবি শিক্ষককে গলা কেটে হত্যা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

আজ সকাল সাড়ে ৭টায় রেজাউল করিমের বাড়ি থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে আসার পরই দুজন যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাকে ঘাড়ে কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

অধ্যাপক রেজাউল লেখালেখিতে করতেন, যুক্ত ছিলেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গেও। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের জন্য শালবাগান এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন রেজাউল করিম। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে তাকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর দুজন দুর্বৃত্তকে রেলগেট এলাকা দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।

পেছন থেকে রেজাউলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তার ঘাড়ের বাম পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাদত হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে।

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার দরগাবাড়ি এলাকায় এই শিক্ষকের পৈত্রিক বাড়ি। নগরীর শালবাগানের সপুরা এলাকায় থাকতেন তিনি। নিহতের ভাই সাজিদুল করিম বলেন, অধ্যাপক রেজাউল ‘কোমলগান্ধার’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক এবং ‘সুন্দরম’ নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপদেষ্টা ছিলেন।

তার ভাইকে কেউ কখনও কোনো ধরনের হুমকি দিয়েছিল কি না, তা জানাতে পারেনি সাজিদুল করিম। ‘সুন্দরম’ এর সভাপতি হাসান জাবর বলেন, ‘স্যার খুব ভালো সেতার বাজাতেন। তিনি শালবাগানে একটি গানের স্কুল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিলেন।’

লাশ উদ্ধার ও ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি শাহদাত। রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার সুশান্ত চন্দ্র রায় জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুই বছর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে খুন হন আরেক অধ্যাপক এ কে এম শফিউল ইসলাম। সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শফিউলকে হত্যার পর জঙ্গিদের দায় স্বীকারের খবর এলেও পরে পুলিশের তদন্তে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার ধারণাটি নাকচ করা হয়।

পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়, ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন অধ্যাপক শফিউল। তারও বেশ আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুজন শিক্ষক অধ্যাপক এম ইউনুস এবং অধ্যাপক এস তাহের হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।






Related News

Comments are Closed