Main Menu

উড়ালপঙ্খী দিনরাত্রি

যান্ত্রিকতায় পড়ে দিনগুলো কেমন উড়ে উড়ে যাচ্ছে। উড়ে উড়ে না হোক, হেঁটে হেঁটে কাছের বন্ধুরাও কেমন দূরে সরে যাচ্ছে! দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন ওদের সঙ্গে। দূরে সরে যাচ্ছে কাছের মানুষগুলো। দূরে সরে যাচ্ছেন আপনি নিজেও! ফলে, মন খারাপ করে মুষড়ে পড়ছেন আপনি। বলি, এই দূরত্বের কারণ কী, ভেবে দেখেছেন? পাশের মানুষরা কখনও ভেবেছেন? বলেছেন তাদের ভাবতে? এর জন্য নিশ্চয়ই উদ্যম ও আত্মবিশ্বাসের অভাবই দায়ী?

রূপকথার মোড়কে

এমন যারা আছেন, তাদের একটা গল্প শোনানো যাক। রূপকথার মতো গল্প। এক দেশে ছিলেন এক রাজা। একদিন সেই রাজার পতন হলো তার শত্রুর হাতে। ফলে সিংহাসন হারালেন তিনি। কিন্তু রাজা বলে কথা। এক মুহূর্তের জন্যও বিচলিত না হয়ে, ভেঙে না পড়ে সিংহাসন পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে মত্ত হলেন তিনি। কিন্তু তার শত্রু যে ব্যাপক শক্তিমান! ফলে বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলেন সিংহাসন হারানো রাজা। তাই বলে দমে গেলেন না। শত্রুর সঙ্গে লড়াই হলো আবারও। অনেক অনেকবার। কিছুতেই কিছু হয় না।

একদিন রাজা খেয়াল করলেন, এক মাকড়সা বারবার কড়িকাঠে ওঠার চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছে। তবুও সে হাল ছাড়ছে না; বারবার সেটি চেষ্টা করেই যাচ্ছে। অবশেষে মাকড়সাটি কড়িকাঠে উঠতে সফল হলো। এমন দৃশ্য দেখে অনুপ্রাণিত রাজা আবার নতুন উদ্যমে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেন। অবশেষে সিংহাসন পুনরুদ্ধার করতে সক্ষমও হলেন তিনি।

কী, বুঝলেন কিছু? নাকি স্রেফ রূপকথা বলেই মনে হলো? বলি, এটি কিন্তু রূপকথা নয়। সত্য ঘটনা। স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুস ছিলেন সেই উদ্যমী ও আত্মবিশ্বাসী মানুষটি।

জীবনের ক্যানভাস

বলি, আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে সত্যিকারের জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়াটা ভেতরের গল্প এতটা মুখরোচক নয়। গল্পের আঙিনা কিংবা জীবনের চলন্ত ক্যানভাস, যেখানেই হোক আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা এতটা সহজ নয়। কিন্তু জয় তো করতে হবে, বাধা ডিঙিয়ে যেতে হবে এগিয়ে। নইলে জীবন থেমে থাকবে। শৈশব থেকে প্রৌঢ়ত্ব পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ধাপে পেরিয়ে আসতে হয় অনেক বাধার দেয়াল।

হয়তো একটি দেয়াল পেরিয়ে পেছনে তাকালে সেই বাধাকে খুবই হাস্যকর মনে হবে; কিন্তু তা উপভোগের সময় কই? পরক্ষণেই মাথা তুলে দাঁড়াবে আরেকটি দেয়াল। সেটিকেও টপকে যেতে হবে। বড্ড বেশি প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস, এই বাধা টপকানোর যুদ্ধে জয়ী হতে। ‘বাধার অপর পাশে আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে সুন্দর কিছু, যেখানে পেঁৗছলে ভালো থাকা যাবে বর্তমান অবস্থা থেকে’- এমন দৃঢ়সংকল্প সবসময়ই সঙ্গে রাখতে হবে। কিন্তু যদি এমন স্বপ্ন মনের কোণে উঁকি দিয়ে না যায়? খুব সহজেই বলা যায়, তাহলে সামনে ধূসর সময়।

আঁধার তাড়িয়ে আলো

জীবন প্রবহমান। প্রতিনিয়ত বয়েই চলছে। এই বয়ে চলা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আঁধারকে তাড়িয়ে আলো নিয়ে আসতে চাই জোর প্রচেষ্টা। মাকড়সার কড়িকাঠে ওঠার দৃশ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজার যুদ্ধজয়ের এমন গল্পের মাধ্যমে নিজেকে অনুপ্রাণিত করে নিতে পারেন। কিন্তু গল্পের মুগ্ধতায় বসে থাকলে চলবে না, ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে কাজে। ব্যর্থতা আসতে পারে, তবে মনে রাখতে হবে, উদ্যমী মানুষের জন্য অপেক্ষা করে আছে সাফল্য।

পথ হারানোর ঝুঁকি

আজকের এই আধুনিক সময়ে জেট প্লেনের মতো ছুটে চলা জীবনের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই তাকে জয় করতে হবে। প্রচণ্ড গতিময় সময় পথ হারানোরও থাকে ঝুঁকি। তারুণ্যের জন্যই যেহেতু পথ পাড়ি দেওয়ার তাড়না সবচেয়ে বেশি, তাই আত্মবিশ্বাসের রসদ তাদের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়। পড়াশোনা থেকে ভালোবাসা কিংবা কর্মক্ষেত্রের পিচ্ছিল রাস্তায় হোঁচট খাওয়ার ঝুঁকি থাকে সবচেয়ে বেশি।

হোঁচট খাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে পড়ে গিয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস থাকাই সবচেয়ে জরুরি যে কারও জন্য। এখানেই বোধহয় ভুল হয়ে যায় সবার। উঠে দাঁড়ানোর সময়টিতে ধরে রাখতে হবে সংকল্প, তাহলেই বিজয় অবশ্যম্ভাবী।

কবে উঠে দাঁড়াচ্ছেন

পৃথিবী চলছে তার আপন গতিতে। একই গতিময়তা লেগে থাকে জীবনের গায়ে। তবু নিজের জন্য নিজেকে বদলে নিতে হয়। তাই বলে একেবারে সবাইকে দূরে ঠেলে? কখনো নিজেকে ভুলে? আপনি নিজের নির্দিষ্ট ট্র্যাক থেকে ছিটকে পড়তে চাইলে কেউ সাহস না জোগালেও মাকড়সার কাছ থেকে সাহস খুঁজে নেন। নিজের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে উঠে দাঁড়ান। আরে, সেই কবিতাটি শোনেননি, ‘একবার না পারিলে দেখো শতবার…’।

আমাদের জীবন থেকেই তো বেরিয়ে আসে কবিতা। এই কবিতার পিঠে ভর করে আপনি কবে উঠে দাঁড়াচ্ছেন? এখনই!






Related News

Comments are Closed