Main Menu

চতুর্থ ধাপের ইউপি ভোট আগামীকাল

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে ব্যাপক সংঘাত, অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগের পর আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হবে চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন। গতকাল বৃহস্পতিবার (৫মে) মধ্যরাতে ৭২৫ ইউনিয়ন পরিষদের সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার প্রাচারণা শেষ হয়েছে। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে সকল রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের। তবে অধিকাংশ ইউপিতে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে দেখা মেলেনি বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীদের। কিন্তু তাদেরও নির্বাচনী প্রচারণা থেমে ছিলো না। গোপনে গোপনে ভোটাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করেছে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা।

এদিকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে ব্যাপক সংঘাতের পরে চতুর্থ ধাপের নির্বাচন সামনে রেখেই সংঘাত-সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে। বিভিন্ন ইউপিতে নির্বাচনী সহিংসতা অব্যাহত থাকায় ভোট নিয়ে নানা শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন প্রার্থীরা। সুষ্ঠু ভোগগ্রহণ নিশ্চিত করতে বেশ কিছু ইউপি প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হলেও প্রার্থীদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে চতুথ ধাপের ভোট গ্রহণে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে ইসি।

এদিকে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ নির্বাচন কমিশনও। যদিও ইসি ভোটারদের অভয় দিয়ে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এদিকে গতকাল বৃহম্পতিবার সকাল থেকেই নির্বাচনী এলাকায় নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। নির্বাচনী অপরাধের সাজা দিতে সঙ্গে থাকছেন নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা। যদিও বিভিন্ন মহল থেকে নির্বাচনে সহিংসতা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি সদস্য মোতায়েনের দাবি উঠেছে। এ ধাপের ৭২৫টি ইউনিয়ন নির্বাচনের জন্য ৪৭ জেলায় ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য সামগ্রী পাঠিয়েছে কমিশন। আজই কেন্দ্রে কেন্দ্রে তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, চতুর্থ ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের ৩৩ প্রার্থী। প্রথম ধাপে ৫৪ জন, দ্বিতীয় ধাপে ৩৪ জন, তৃতীয় ধাপে ২৯ জন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে এ ধাপে তিন হাজার ২৪৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ১৬টি রাজনৈতিক দলের এক হাজার ৭২৩ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন এক হাজার ৫২২ জন। চতুর্থ ধাপে ৭২৪ ইউপিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট ইউপিতে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নেই। বিএনপির ১০৬ ইউপিতে নেই কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। বাকি ৬১৯ ইউপিতে প্রার্থী রয়েছে দলটির।

ইসি সূত্র জানায়, গতকাল মাঠে নামছে পুলিশ-র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সব নির্বাচনী এলাকায় ৫ মে থেকে ৮ মে পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এক্ষেত্রে মাঠে থাকবে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন সংস্থার ফোর্স। সাধারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রভেদে ১৭ থেকে ২০ জনের ফোর্স মোতায়েন থাকবে। এ ক্ষেত্রে কেবল ভোটের দিনই কেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে প্রায় দেড় লাখ ফোর্স।

এছাড়া নির্বাচনী উপজেলায় নির্বাহী ও বিচারিক হাকিমও থাকছেন তদারকিতে। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে ভোটে সংঘর্ষ-গোলযোগে প্রাণ গেছে অর্ধশতর বেশি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি ‘ভিজিলেন্স’ ও ‘অবজারভেশন’ টিমের কার্যক্রম বাড়ানো, নির্বাহী হাকিমদের তদারকি দৃশ্যমান করার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল বাড়ানোর এবং বিধি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে গত বুধবার মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভোটের আগের রাত থেকে ৩২ ঘণ্টা সব ধরনের যান চলাচল নিষিদ্ধ করেছে ইসি। নির্বাচন কমিশনের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোট গ্রহণের পূর্ববর্তী দিন থেকে ভোট গ্রহণের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। এ ছাড়া ভোট গ্রহণের আগের মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।






Related News

Comments are Closed