Main Menu

চাকরি ফিরে পেয়েছেন শ্যামল কান্তি, স্কুল কমিটিই বাতিল

নারায়ণগঞ্জের শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পায়নি সরকারি তদন্ত কমিটি। বরং তাঁকে অন্যায়ভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এ জন্য বিদ্যালয়ের ওই পরিচালনা কমিটি বাতিল করা হয়েছে। স্বপদে বহাল থাকছেন লাঞ্ছিত প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।ওই শিক্ষককে চাকরিতে পুনর্বহালের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাউশি’র প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা মিথ্যা। শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও বরখাস্ত করার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান।

এর আগে সকালে সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জে শিক্ষকের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা বরদাস্ত করা হবে না। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এসময় তিনি শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটন‍ায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) তদন্ত প্রতিবেদন পড়ে শোনান।

নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের কাছে গতকাল বিকেলে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কটূক্তি করার অপবাদে গত শুক্রবার (১৩ মে) স্কুল মাঠে শত শত মানুষের সামনে ওই প্রবীণ শিক্ষককে কান ধরে উঠবস করতে বাধ্য করেন স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান। শুধু তাই নয়, জনতার উদ্দেশে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতেও নির্দেশ দেন তিনি।

শিক্ষককে অপদস্ত করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সেলিম ওসমানের নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ওই শিক্ষককে কান ধরে তিনবার উঠবস করাচ্ছেন। আর এই দৃশ্য দেখে সামনের জনতা উল্লাস করছে। অনেকেই শিস দিচ্ছে। এর মধ্যে সমস্বরে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতেও শোনা যায়।।

তবে শিক্ষক শ্যামন কান্তি বলছেন, তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। এর আগেও কয়েকবার বিভিন্ন ইস্যুতে ষড়যন্ত্র করে ব্যর্থ হয়ে সবশেষ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার মিথ্যা অভিযোগ তাকে অপদস্ত করা হয়েছে।

এদিকে, শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনায় জাতীয় পার্টির স্থানীয় সাংসদ সেলিম ওসমানসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে গতকাল বুধবার (১৮মে) রুল দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। একইসঙ্গে পুলিশ সুপারকে ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ রুল জারি করেন।

এদিকে, শিক্ষক লাঞ্ছনার জন্যে সংসদ সদস্যকে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি করেছে গণসংহতি আন্দোলন। অন্যদিকে, ‘ধর্ম অবমাননা’র দায়ে শিক্ষকদের বিচার দাবি করে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া এলাকায় তৌহিদী জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ-মিছিল করেছে স্থানীয় লোকজন।






Related News

Comments are Closed