Main Menu

মাগুরায় ৪ বছরের ‘বৃদ্ধ শিশু’!

মাগুরায় নব-দম্পতির সংসারে প্রথম সন্তান শিশু বায়েজিদ। এখন তার বয়স মাত্র চার বছর। কিন্তু চেহারা ও শারীরিক অবয়ব দেখে মনে হয় ৭০-৮০ বছরের বৃদ্ধ। তার মুখের ও শরীরের চামড়া ঝুলে গেছে।

বায়েজিদের বাবার নাম লাভলু শিকদার ও মা তৃপ্তি খাতুন। তাদের বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খালিয়া গ্রামে।

মা তৃপ্তি খাতুন জানান, স্বাভাবিক শিশুরা ১০ মাসে হাঁটা শিখলেও বায়েজিদ সাড়ে তিন বছরে হাঁটতে শিখেছে। আবার তিন মাস বয়সে তার সবগুলো দাঁত উঠেছে। সে স্বাভাবিক চলাফেরা ও খাওয়াদাওয়া করতে পারে। কথা বলা এবং সবকিছু মনে রাখতে পারে।

শিশুটির দাদা হাসেম শিকদার জানান, একমাত্র ছেলে লাবলু শিকদারকে আপন খালাতো বোন তৃপ্তি খাতুনের সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের এক বছরের মাথায় মাগুরা মেটারনিটি হাসপাতালে তাদের একটি পুত্রসন্তান হয়। জন্মের সময় চামড়াবিহীন বিকট চেহারা ছিল তার। ওই সময় তাকে দেখে মানুষ আঁতকে উঠত। শিশুটিকে দেখতে ৮০ বছরের বৃদ্ধের মতো লাগত।

লাভলু শিকদার বলেন, ‘অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি। ৩-৪ লাখ টাকা ব্যয় করেছি। কোনো অসুখ ধরতে পারেননি চিকিৎসকরা। অনেক কষ্টে টাকা-পয়সা সংগ্রহ করে কয়েক জায়গায় চিকিৎসা করিয়েও কোনো ফল পাইনি। চিকিৎসকরা বিদেশে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’

‘জিনগত সমস্যার’ কারণে বায়েজিদের এমন হতে পারে বলে মনে করছেন মাগুরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন কনসালটেন্ট ডা. দেবাশীষ বিশ্বাস।

তিনি বলেন, এ ধরনের শিশু সম্ভবত আমাদের দেশে প্রথম দেখা গেল। এর আগে দেশে প্রজোরিয়া রোগে আক্রান্ত এক রোগীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। যে জন্মের এক মাস পর ধীরে ধীরে বৃদ্ধদের মতো হতে থাকে। তবে বায়েজিদের মা-বাবার ভাষ্যমতে, জন্ম থেকেই শিশুটি চেহারা ও শারীরিক অবস্থা বৃদ্ধদের মতো।

বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করেন ডা. দেবাশীষ।

এদিকে, বাবা-মা দু’জনেই তাদের একমাত্র সন্তানের সুস্থতার জন্য সরকারসহ বিভিন্ন মহলের সহযোগিতা চেয়েছেন।






Related News

Comments are Closed