Main Menu

আকাশচুম্বি ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ লিফট

প্রায় দুই কোটি মানুষের শহর ঢাকা। এই শহরের অলিগলিতেও দেখা মেলে আকাশচুম্বি ভবনের। অফিস হিসেবে এসব সুউচ্চ ভবনের যেমন কদরে রয়েছে, চাহিদা রয়েছে আবাসিক ভবন হিসেবেও। সুউচ্চ এসব ভবনে ওঠানামার জন্য লিফটের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ভবনে যে লিফটগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে, তার অনেকগুলোই বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

কিন্তু লাখো মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত এসব লিফট ব্যবহার করতে হচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় সম্প্রতি কয়েকটি লিফট দুর্ঘটনা এ বিষয়টি নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে সর্বশেষ দুর্ঘটনাটি ঘটে ২৪ জুন সন্ধ্যায়।

সেদিন উত্তরার আলাউদ্দিন টাওয়ারের লিফট ছিঁড়ে অগ্নিকাণ্ডে সাতজনের মৃত্যু হয়, আহত হন বহু।

কিন্তু লিফট দুর্ঘটনা কেন ঘটছে? অনুসন্ধানে জানা যায়, দুর্ঘটনার প্রধান কারণ নিম্নমানের লিফট এবং নিয়মিত সার্ভিসিং না করানো।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি ও আইনজীবীদের ব্যবহারের জন্য মোট সাতটি লিফট চালু রয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সাতটি লিফটের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের দুটি লিফট ছাড়া বাকি পাঁচটির অবস্থা করুণ। এসব লিফটে ওঠানামার সময় আইনজীবীরা দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকেন।

মাত্র তিন মাস আগে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে ব্যয়বহুল একটি লিফট কেনা হলেও বর্তমানে তার অবস্থা করুণ। প্রতিদিনিই কোনো না কোনো সময় বিঘ্ন ঘটছে নতুন এই লিফটটিতে। সম্প্রতি সিএমএম আদালতের ৪ নম্বর লিফটটি ৯ জনকে নিয়ে উপরে ওঠার সময় হঠাৎ কেঁপে উঠে বন্ধ হয়ে যায়। পাঁচ থেকে সাত মিনিট ওই অবস্থায় লিফটে আটকে থাকতে হয় ৯ জনকে।

সচিবালয়ের লিফটগুলোরও একই দশা। স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চলছে যেন ‘আদিম কালের’ লিফটে। নেই কোনো সেন্সর, নেই টেলিফোন। আছে শুধু অপারেটর।

বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলেও লিফটের একই চিত্র। সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখার লিফটটি অনেক পুরনো। কেবল সোনালী ব্যাংক নয়, এই এলাকার অধিকাংশ ভবনের লিফটের চেম্বার প্রায় ২০-২২ বছরের পুরনো। ভবনে লিফট অপারেটর থাকলেও তারা নিজেরাও অনেক সময় লিফট পরিচালনায় হিমশিম খান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ভবনের লিফট অপারেটর জানান, লোডশেডিং হলে ১৫-২০ মিনিট লিফটের ভেতরে বসে থাকতে হয়।

চলতি বছরের মার্চে লিফট দুর্ঘটনায় রাজধানীর নিউমার্কেটে একজন মারা যান। গত সপ্তাহে কারওয়ানবাজারের জাহাঙ্গীর টাওয়ারের লিফটের চুম্বক নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক আটকে ছিলেন প্রায় পৌনে ১ ঘণ্টা। সামান্য আহতও হয়েছেন তারা।

গত ২৪ জুন রাজধানীর উত্তরায় ট্রপিক্যাল আলাউদ্দিন টাওয়ারের লিফট ছিঁড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে সাতজন মারা যান। এ ধরনের ঘটনা আগামীতে আরও বড় বিপর্যয়ের আভাস দিচ্ছে বলে আশঙ্কা অনেকের।






Related News

Comments are Closed