Main Menu

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ

॥এম.এ.ফরিদ॥
খোশ আমদেদ মাহে রমজান। আহ্লান-ওয়া সাহলান মাহে রমজান । রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস,মাহে রমজানের মাস। পবিত্র একটি মাসের নাম মাহে রমজান। এ রমজান মাসে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল। ২৭ রমজান পবিত্র লাইলাতুল কদর,কদরের রাত্রির ইবাদত হাজার রাত্রির ইবাদতের সমতুল্য। ওই রাত্রিতে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতের আশায় সারা বিশ্বের মুসলমানগন সারা রাত জেগে নফল নামাজ ও জিকির-আজগারে কাটিয়ে দেন। সারা দিন মুসলমানরা পানাহার সহ সকল প্রকার পাপ কাজ থেকে বিরত থাকেন। সন্ধ্যায় আল্লাহু আকবার ধ্বনি কানে আসার সঙ্গে সঙ্গে মুখে পানি নিয়ে রোজা ভাঙেন। রোজাদার সারা দিনের রোজা শেষে খেজুর,আপেল,আম,পিয়াজু,ছোলা,বেগুনী,জিলাপিসহ আরো নানা ধরনের বাহারি ফলমুল দিয়ে ইফতার করে থাকেন। আমাদের দেশে বেশিরভাগ হোটেল রেস্তোরাঁয় এখন রকমারি ইফতারের আয়োজন করা হয়ে থাকে । ইফতার বিক্রেতারা নানা ধরনের ইফতার সাজিয়ে ক্রেতাদের আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন। ক্রেতারাও আকৃষ্ট হয়ে হরেক রকমের ইফতারি কিনে থাকেন। তবে এসব মুখরোচক ইফতার কিভাবে তৈরি করা হয় তা আমরা কেউ ভেবে দেখি না । অনুসন্ধানে জানা যায়,ইফতারের বেশির ভাগ পদে কাপড়ের রং ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যা মানুষের স্বাস্থের জন্য অত্যান্ত ক্ষতিকর । রং দেওয়া ইফতার খেয়ে অনেক রোজাদারের পেট খারাপ হয়ে যায়। তা ছাড়া কাপড়ের রং খেলে ক্যানসার রোগের সৃষ্টি হয়। রোজাদারগন সারা দিন রোজা রেখে সন্ধ্যায় তৃপ্তি সহকারে ইফতার করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তুু আমরা কি খাচ্ছি ? তা দেখবে কে? এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী রোজার মাস এলেই ভেজাল দ্রব্য বিক্রি করতে উঠে পড়ে লেগে যায়। প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তায় তারা খাদ্যে ভেজাল ও খাবারের মধ্যে রং মেশাতে স্পর্ধা দেখাতে পারে। সারা দিন রোজা রেখে আমরা যে ফলমুল খাচ্ছি তা কতটা স্বা¯্য’্যসম্মত সেটি ভেবে দেখা দরকার। কারণ এখন প্রায় সব ফলেই ফরমালিন মেশানো হচ্ছে,তাহলে কি খেয়ে রোজাদার রোজা রাখবেন?ভেজাল প্রতিরোধে এ জন্য চাই সরকারি ও বেসরকারি উদ্যেগে নজরদারি। ভেজাল প্রতিরোধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিদিন জেলার প্রতিটি এলাকায় বাজার মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোন অসাধু ব্যবসায়ী যেন ইচ্ছাকৃতভাবে দ্রব্যমুল্যের দাম বাড়তে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সন্মানিত জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়কে এ জন্য আন্তরিক ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। আপনারাই পারেন ভেজাল মুক্ত গাজীপুর উপহার দিতে। পবিত্র রমজান মাসে নিদেনপক্ষে ভেজালবিরোধী অভিযান বাড়িয়ে দিয়ে রোজাদারদের স্বস্তি দিন। শুধু নামি-দামি হোটেল রেস্তোরাঁতে নয়, ফুটপাতের দোকানগুলোতেও অভিযান চালাতে হবে। কারণ ধনী-গরিব সবাই মানুষ। সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। তাই জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার,সিভিল সার্জন ও সিটি কর্পোরেশনের সন্মিলিত উদ্যোগে ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে হবে। ভেজাল বিরোধী অভিযান যদি পরিচালনা আপনারা না করেন তবে গাজীপুরবাসী আপনাদের ক্ষমা করবে না। এর জন্য মহান আল্লাহর কাছে আপনাদের জবাব দিতে হবে।






Related News

Comments are Closed