Main Menu

প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই ক্রসফায়ার : বিএনপি

প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই মাদারীপুরে শিক্ষকের ওপর হামলায় হাতেনাতে গ্রেপ্তার হওয়া ‘জঙ্গি’ গোলাম ফাইজুল্লাহ ফাহিমকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার তাকে (ফাহিম) ক্রসফায়ারে হত্যা করল। হত্যা করা মানে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করা। এটিকে সামনে আসতে দিল না।

তিনি বলেন, উচিৎ ছিল আরো কারা জড়িত সেটা উদঘাটন করা। ফাহিমকে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে নিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া যেত। যাচাই-বাছাই করে জানা যেত, এরা প্রকৃত জঙ্গি কি না এবং থাকলে আর কারা জড়িত। এতে ঘটনাটি জনসম্মুখে উদ্ভাসিত হতো এবং জড়িতদের নামগুলো জানা যেত।

মাদারীপুর সরকারি নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীকে হত্যাচেষ্টায় রিমান্ডে নেওয়া গোলাম সাইফুল্লাহ ফাহিম শনিবার সকালে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের বলেছেন, সকাল ৭টার দিকে সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মিয়ারচরে এই ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়। ১৮ বছর বয়সি এই তরুণ নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশের দাবি।

গত বুধবার মাদারীপুরে সরকারি নাজিম উদ্দিন কলেজের গণিতের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর হামলার পর জনতা ফাহিমকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দিয়েছিল।

নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনে রিজভী পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান নিয়েও কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর ‘ক্র্যাক ডাউন’ এবং ‘অপপ্রচার চালিয়ে’ দলটিকে সমূলে বিনাশ সাধন করার চক্রান্ত নিয়ে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এর আগেও নানা দেশি-বিদেশি চক্রান্তে দলটিকে নিশ্চিহ্ন করা যায়নি। তাই চলমান দমন-পীড়ন বিএনপিকে ধ্বংস করার সরকারের শেষ প্রচেষ্টা।

রিজভী বলেন, ভোটারবিহীন সরকারের প্রধান টার্গেট হচ্ছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেই কারণেই চলমান দেশব্যাপি পুলিশি নির্যাতনের শিকার বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

সরকার জঙ্গি দমনের নামে বিএনপিসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মীদেরকে জঙ্গি হিসেবে চিত্রিত করার এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জঙ্গি দমনের নামে প্রহসনের এক চরম নাটক অনুষ্ঠিত করছে সরকারি দায়িত্বশীল লোকেরা। মামলা হচ্ছে, তদন্ত হচ্ছে, কিন্তু কুপিয়ে হত্যাকারী প্রকৃত অপরাধীরা অধরাই থেকে যাচ্ছে। হত্যা রহস্যের কোনো কূল-কিনারাই বের হচ্ছে না। অথচ সরকারি বাহিনী ক্ষুধার্ত নেকড়ের মতো গ্রাম, শহর, নগর, বন্দরে হামলা করেছে।

তিনি বলেন, দেশব্যাপি জঙ্গি দমনের নামে বিএনপির সাধারণ সমর্থকদের থেকে শুরু করে, নেতা-কর্মীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেলে পুরেছে। সাধারণ নিরীহ নিরাপরাধ মানুষও সরকারের গ্রেপ্তাারি অভিযান থেকে রেহাই পায়নি।

বিদেশি কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসহ সবাই সরকারের গণগ্রেপ্তারের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে দাবি করে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আটককৃত সন্দেহভাজন জঙ্গিরাও প্রকৃত জঙ্গি কি না এবং বছরব্যাপি চাঞ্চল্যকর খুনগুলোর সঙ্গে তারা জড়িত কি না, এটা নিয়ে জনমনে সংশয় আছে। কারণ কোনো খুনেরই তদন্তে এখন পর্যন্তু অগ্রগতি নেই।

তিনি বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য শুভ নয় বলেই তাদের জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান এখন জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ জঙ্গিরা তাদের কর্মকা-ের গতি হ্রাস করেছে বলে মনে হয় না। ইতিমধ্যে রামকৃষ্ণ মিশনে আইএসের হুমকি, মন্দিরের সেবায়েতকে হুমকি, বরিশালে একজন শিক্ষককে আঘাত করা ইত্যাদি ঘটনাতে মনে হয় উগ্রবাদী চক্র বহাল তবিয়তেই তাদের মহা পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত আছে।






Related News

Comments are Closed