Main Menu

মানবকল্যাণে শান্তির ফতোয়া প্রকাশ

এক লাখ মুফতি, আলেম-ওলেমার স্বাক্ষর সংবলিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী মানবকল্যাণে শান্তির ফতোয়া প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জমিয়তুল ওলামা নামে একটি সংগঠন। শনিবার (১৮জুন) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এই ফতোয়া প্রকাশ করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান ও শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রধান ইমাম মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসঊদ।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, ‘অতীব পরিতাপের বিষয় আজ কতিপয় দুষ্কৃতিকারী নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থের উদ্দেশ্যে মহাগ্রন্থ কুরআন ও হাদীসের অপব্যাখ্যা দিয়ে ইসলামের নামে বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। মানুষের চোখে ইসলামকে একটা বর্বর নিষ্ঠুর ও সন্ত্রাসী ধর্মরূপে চিত্রিত করছে। এতে সরলমনা কেউ কেউ বিভ্রান্তির শিকার হচ্ছেন। এই উগ্রজঙ্গিবাদীরা মূলত ইসলাম ও মুসলিমদেরই শত্রু নয়, তারা মানবতার শত্রু। ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, আফ্রিকার দেশসমূহ কিভাবে ছাড়খার হয়ে যাচ্ছে তা আজ কারও অজানা নেই। প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশও আজ হুমকির সম্মুখীন।’

ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, বিষয়টি স্পষ্ট যে এদের হৃদয় বৈকল্য বিদূরিত করা না গেলে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে এদের দমন করা সম্ভব নয়। কারণ এই সন্ত্রাসীরা তো ধর্মের নামে আত্মদানে প্রস্তুত। তাদের চৈতন্যের বিভ্রম দূর করা দরকার সবার আগে। ইসলামের সঠিক ও বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা তুলে ধরে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের পক্ষে তা করা সম্ভব। মুসলিম সমাজে ফতোয়ার অর্থাৎ কুরআন হাদীসের আলোকে মুফতি ও ধর্মবেত্তাদের সুচিন্তিত পরামর্শ ও মতামতের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। ধর্মীয় ও সামাজিক সমস্যাদিতে আজও বিপুলসংখ্যক মানুষ আলিম ও মুফতিগণের দারস্থ হন এবং তাদের ফতোয়া অনুসরণ করেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ইসলাম ও মুসলিমদের কঠিন অবস্থান তুলে ধরার এবং কুরআন ও হাদীসের অপব্যাখ্যার অপনোদন করে সঠিক বিষয়টি উপস্থাপনের মানস থেকে এক লক্ষ দেশ বরেণ্য আলিম, মুফতি ও ইমামগণের দস্তখতসহ ফতোয়া সংগ্রহ ও তা প্রকাশের চিন্তা আসে।

ইমাম ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ বলেন, প্রশ্ন হতে পারে ফতোয়া কি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ ঠেকানো যাবে? আমরা দৃঢ়কণ্ঠে বলতে চাই, লক্ষ অস্ত্রের চেয়েও ফতোয়ার শক্তি অনেক ধারালো। মনো চেতনা মানবকর্মের মূল উৎস। সঠিক ফতোয়া সেই মনো চেতনাকে শুদ্ধ করে, আলোড়িত করে, মানবতাবাদী বানায়। মুসলিম সমাজে ফতোয়ার ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব অনস্বীকার্য। ধর্মের নামে যারা সন্ত্রাস করছে তারা বেহেশত লাভের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তা করছে। এটা যে বেহেশতের নয় জাহান্নামের পথ তা যখন বুঝতে পারবে নিশ্চয় তারা এ পথে পা বাড়াবে না। সুতরাং মানবকল্যাণ ও শান্তির ফতোয়ার এই বারতা সন্ত্রাস পুরোপুরি ঠেকাতে না পারলেও এতে যে তা বহুলাংশে হ্রাস পাবে তাতে সন্দেহ নেই। সন্ত্রাসের মদদদাতারা এতে হতোদ্যম হবে দ্বিধাহীনভাবে তা বলা যায়। কিন্তু যারা জাগতিক স্বার্থ সামনে রেখে অর্থ, নারী, ক্ষমতার জন্য বর্বরতাকে অবলম্বন বানিয়েছে, কুরআন পাকের ভাষায় ‘অন্তরে যাদের মরচে পড়েছে তাদের কথা স্বতন্ত্র।’

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষিত সামনে নিয়ে গত ১৭ ডিসেম্বর পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে পুলিশ হেড কোয়ার্টারে দেশখ্যাত ধর্মীয় নেতাদের এক সভা হয়। এতে বিভিন্ন জেলার ৪০ জন আলিম ও মুফতি উপস্থিত ছিলেন। এতে প্রথম আমি এ বিষয়ে একটা প্রস্তাব তুলে ধরি। সবাই এর গুরুত্ব অনুধাবন করেন এবং এতে একমত পোষণ করেন। এতে আমি খুবই উৎসাহিত হই। গত ২ জানুয়ারি আলিম ও মুফতিগণের প্রতিনিধিত্বশীল অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার উদ্যোগে ইকরা বাংলাদেশ ময়দানে আলিম ও মুফতিগণের একটা সম্মেলন আহ্বান করি। উক্ত সম্মেলনে ৩ শতাধিক প্রখ্যাত আলিম মুফতি ও ইমাম অংশগ্রহণ করেন। এতে ইস্তিফতা ও ফতোয়ার একটা খসড়া পেশ করা হয়। দিনব্যাপী বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনার পর কিছু সংশোধনীসহ খসড়াটি সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত করা হয় । আমাকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের ‘এক লক্ষ আলিম, মুফতি ও ইমামগণের ফতোয়া ও দস্তখত সংগ্রহ কমিটি’ নামে একটা পরিষদ গঠন করা হয়। ৩ জানুয়ারি দস্তখত সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। আর গত ৩১ মে এক লক্ষ দস্তখত সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ হয়।

জঙ্গিবাদ বিরোধী ফতোয়ার দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। তিনি বলেন,জঙ্গিরা যে চেতনা থেকে বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে সেগুলো অপনোদনের চেষ্টা করা হয়েছে। ব্যাখ্যাসহ সবিস্তার দলিল-প্রমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। মহিলা আলিম ও মুফতিগণেরও সমর্থন নেওয়া হয়েছে। এটি আজ পর্যন্ত কোনও ফতোয়ায় করা হয়েছে কি না জানা নেই।

ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ জানান, ফতোয়া সংগ্রহ কমিটি এই বিষয়ে প্রদত্ত দারুল উলূম দেওবন্দ ভারত, মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী, ইসালামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা- ঢাকা, চরমোনাই জামিআ রশিদিয়া ইসলামিয়া, শায়খ যাকারিয়া রিসার্চ সেন্টার – ঢাকা,বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়াসহ বিশেষ কতিপয় ইসলামী প্রতিষ্ঠানের ফতোয়াও সংগ্রহ করে সেগুলো পত্রস্থ করা হয়েছে।

জানা গেছে, এক লক্ষ মুফতি, ওলামা, আইম্মার ফতোয়ার সমর্থনে ঢাকা বিভাগে ২৮ হাজার ৫৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২০ হাজার ৬৮১ জন, খুলনা বিভাগে ১৪ হাজার ২৫০ জন, রংপুর বিভাগে ৯ হাজার ৭৭০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮ হাজার ৮৯২ জন, রাজশাহী বিভাগে ২ হাজার ২শ’ জন, বরিশাল বিভাগে ১ হাজার ৪৫০ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৬ হাজার ২২৫ জন মুফতি, ওলামা, আইম্মার দস্তখত করেছেন।






Related News

Comments are Closed