Main Menu

রোজার শুরুতেই ক্রেতা সমাগম : জমে উঠেছে যমুনা ফিউচার পার্ক

রোজার শুরুতেই যমুনা ফিউচার পার্কে ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ এ শপিংমলে এখন ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়। চলছে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কেনাকাটা।

ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শোরুমগুলোতে আধুনিক সব পোশাকের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। নারী-পুরুষ-শিশুদের জুতা, সাজসজ্জার জিনিসপত্রসহ সব ধরনের পণ্য রয়েছে এ মলে। রয়েছে ইলেকট্রনিক এবং গৃহস্থালি পণ্য। বৃহস্পতিবার রোজার তৃতীয় দিনে যমুনা ফিউচার পার্ক ঘুরে দেখা যায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। মলের ভেতর-বাইরে নানা বয়সের নারী-পুরুষ-শিশুর পদচারণা।

এদিকে ঈদ সামনে রেখে নানা রঙের আলোয় সাজানো হয়েছে যমুনা ফিউচার পার্ক। ক্রেতা আকর্ষণ করতে শোরুমগুলোও আপন সাজে সেজেছে। এসব শোরুমের কর্মকর্তারা জানান, ‘ঈদ সামনে রেখে ক্রেতাদের সমাগম বাড়তে শুরু করেছে। আজ সরকারি ছুটির দিনে ক্রেতাদের উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে আশা করছি। দেশের সবচেয়ে অভিজাত এবং অত্যাধুনিক শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্ক। তাই রাজধানীসহ সারা দেশের মানুষের বিশেষ আকর্ষণ রয়েছে এ মলের ওপর।’

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে উত্তরা থেকে সপরিবারে আসা বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা মো. তাওহীদুল ইসলাম বলেন, একই ছাদের নিচে সব ধরনের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। শিশুদের জন্য রয়েছে গেম জোন। বিশাল এ মার্কেটে হাঁটাচলার পথও প্রশস্ত। সবমিলিয়ে এক অসাধারণ অনুভূতি এ শপিংমল ঘিরে। আরও কয়েকজন ক্রেতা একই ধরনের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

যমুনা ফিউচার পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি শোরুমে বাহারি পোশাকের সমাহার। ভিন্নধর্মী পোশাকের জন্য সুনাম অর্জনকারী শোরুম মেট্রো ফ্যাশনে দেখা যায় ক্রেতাদের ভিড়। হরেক রকমের পোশাকের মাঝে নিজের পছন্দেরটি বেছে নিচ্ছেন ক্রেতারা। এ শোরুমে পাকিস্তান ও ভারতীয় বাহারি বিভিন্ন ধরনের থ্রিপিস, লেহেঙ্গা, কুর্তি, পাঞ্জাবি রয়েছে। শোরুমের বিক্রেতারা জানান, ঈদ উপলক্ষে মেয়েদের জন্য এমব্রয়ডারি, জরি, পুতি, মিরর, স্টোন ও পার্ল মেটেরিয়ালের কারুকাজের পোশাক রয়েছে।

এবার নেটের পোশাকের দিকে নজর তরুণীদের। পোশাকের মান ও কারুকাজের সঙ্গে রয়েছে দামের সামঞ্জস্য। তারা আরও জানান, ওয়ান পিসের কুর্তি এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৬ হাজার ৮০০ টাকা, সিল্কের থ্রিপিস ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা, জর্জেট থ্রিপিস ৫ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার ৮০০ টাকা, কটনের থ্রিপিস ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা, স্টোনের কারুকাজের থ্রিপিস ৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মেট্রো ফ্যাশনের ম্যানেজার মো. নাজমুল মুন্সী বলেন, ‘রুচিশীল তরুণীদের চাহিদা বিবেচনায় আমরা নতুন ডিজাইন ও কারুকার্যের পোশাক এনেছি। ক্রেতাদের সাড়াও মিলছে।’

আগের ঈদের মতো এবারও নতুন কালেকশন জড়ো করেছে ক্যাটস আই ও মুনসুন। যমুনা ফিউচার পার্কের প্রথম তলায় অবস্থিত এ শোরুমে সাদা, চেক, সিল্ক ও প্রিন্টের পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে স্মার্ট ক্যাজুয়াল শার্ট। শিশুদের জন্য রয়েছে টপস, স্কার্ট, টি-শার্ট, ডিজাইন শার্ট ও প্যান্ট।

নারীদের জন্য রয়েছে টপস, প্যান্ট ও বিভিন্ন ধরনের পোশাক। নারী ও পুরুষের জুতো পাওয়া যায় এ শোরুমে। ক্যাটস আই ও মুনসুনের যমুনা ফিউচার পার্ক আউটলেট ইনচার্জ সাইফুদ্দিন জানান, ‘ক্রেতাদের স্বার্থ বিবেচনায় পাঞ্জাবি দুই হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা এবং শার্ট ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দর রাখা হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে আমাদের বেচাকেনা ভালো চলছে।’

রঙ বাংলাদেশ শোরুমে রয়েছে শাড়ি, কামিজ, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি, শার্ট, টি-শার্টসহ বিভিন্ন পণ্য। এ শোরুমে প্রতিটি কামিজ ৯৫০ টাকা থেকে ৯ হাজার টাকা, থিমেটিক শাড়ি ১ হাজার ৩৫০ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা, টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি ৮৭০ টাকা থেকে ৮ হাজার টাকা এবং শার্ট ৪৮০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শোরুমের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, ‘প্রতিদিন ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে, বিক্রিও ভালো হচ্ছে। আশা করছি ক্রমেই বিক্রি বাড়বে। ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় আমাদেরও পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।

‘কে-ক্রাফট’ এনেছে মসলিন, সিল্ক, কটন, হাফ সিল্ক, এন্ডি কটনে কাপড়ের ওপর বিভিন্ন ধরনের কারুকার্যের শাড়ি। নারীদের জন্য রয়েছে কামিজ, লন কুর্তি, ফতুয়া। বাচ্চাদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি, পায়জামা, শার্ট। মেয়ে শিশুদের জন্য রয়েছে টপস, স্কার্ট, লং স্কার্ট, ফ্রগ। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের নতুন পণ্যের বাহার সাজিয়েছে আড়ং, রিচম্যান, আর্টিজন, জেন্টেল পার্ক, ইনফিনিটি, নবরূপা, সাদাকালো, দেশী দশ, ইয়েলো, এস্টেসি, আর্টিস্টি কালেকশন, গ্রামীণ, টেক্সমার্ট, ফিট এলিগেন্স, লিভাইস।

মার্কেটের জুতার দোকানগুলোর মধ্যে বাটা, গ্যালারি এপেক্স, জিলস, লট্টো ইত্যাদি দোকানের প্রতি ক্রেতাদের অধিকতর ভিড় চোখে পড়ার মতো। এছাড়া শিশুদের জন্য রয়েছে কিডল্যান্ড, বেবিশপ এবং টক্সেমার্ট জুনিয়রসহ বেশ কিছু শোরুম। এছাড়াও রয়েছে বিশাল ফুডকোর্ট। এখানে পছন্দের খাবার খেতে পারছেন ক্রেতারা।

ক্রেতাদের জন্য বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রয়েছে বিভিন্ন অফার। ক্যাশ ব্যাক, বিশেষ ডিসকাউন্ট আর কুপনের নানা উপহার ক্রেতাদের মনে জাগিয়েছে শপিংয়ের ভিন্ন স্বাদ। ঈদের কেনাকাটায় পোশাকের পাশাপাশি সুগন্ধির রয়েছে বিশেষ চাহিদা। যমুনা ফিউচার পার্কে রয়েছে সুবিশাল পরিসরে বেশ কিছু পারফিউমের দোকান। যেখানে পাওয়া যাচ্ছে পৃথিবীর বিখ্যাত সব পারফিউম। এসব পারফিউমের সুগন্ধ শুধু মন ভোলাবে না, বাড়াবে আভিজাত্যও। তাই পোশাক-আশাকের সঙ্গে পারফিউম কিনতে ভুল করছেন না ক্রেতারা।

এ শপিংমলেই আছে টাইম জোনের সুবিশাল শোরুম। যেখানে আছে পৃথিবীর বিখ্যাত সব ব্র্যান্ডের ঘড়ি। টাইটান, সিটিজেন, ক্রিডেন্স, রাডো কি নেই এখানে। তাই পছন্দের ঘড়ি নিতে ভিড় দেখা গেছে টাইম জোনের শোরুমেও।






Related News

Comments are Closed