Main Menu

সিয়াম মাস মুমিনের পাঠশালা

মানবজীবন এক অনন্ত পাঠশালা। এর ভারি ভারি সবক মুখস্থ করতে করতে সহজ মানুষ বাঁকা হয়ে যায়। বাঁকা মানুষকে সহজ করার জন্য যুগে যুগে নবী-রাসূলরা পৃথিবীতে এসেছেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে শিখিয়েছেন ধর্মের বাণী। বাঁকা মানুষ তখন ঐশী বাণীর প্রভাবে হয়ে উঠেন মুমিন মানুষ। এসব মুমিনের জন্যই বছরে একবার এক মাসের জন্য পাঠশালা খুলে দেন আল্লাহ। মাসভরে সে পাঠশালায় চর্চা হয় সিয়াম ব্রতের সাধনা।

পুণ্যময় এ মাসের জন্য মুমিনরা বহু আশায় দিন কাটান, আবেগ ও ভালোবাসায় ‘ওয়া বাল্লিগনা রমাজানা’ উচ্চারিত হয় মুখে মুখে। আবেগঘন মোনাজাত করেন তারা। হে আল্লাহ! আপনি রমজান পর্যন্ত হায়াতে বরকত দিন পৃথিবীর সব মুমিনকে।

যখন রোজা শুরু হয় তখন আল্লাহর অবারিত রহমতে ছেয়ে যায় গোটা দুনিয়া। মানুষ নিজেকে শ্রেষ্ঠতম সুন্দর করতে একটা নিয়মিত তারবিয়্যাত বা প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। প্রশিক্ষণ এমন সুচারুরূপে গ্রহণ করেন বান্দা- কোনো কিছুই তাকে রোজার বিধিবিধান পরিপালনে বাধা দিতে পারে না। সে ইচ্ছে করলেই পারে লুকিয়ে খেয়ে ফেলতে কিন্তু খায় না। আল্লাহর কথা স্মরণ করে ফিরে আসে। এ প্রশিক্ষণ আর কোথাও নেই। রমজানে রহমতের বারিধারায় স্নাত হয়ে আল্লাহর এ বান্দারা আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধন করতে সক্ষম হয়।

রহমতের দশ দিন শুরু হতেই সমাজে রমজানের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। রাস্তাঘাটে দেখা যায় কী পরিমাণ পরিবর্তন হয়েছে, রহমতের আবহে গোটা সমাজ ব্যবস্থার। মানুষ সবকিছুতে সংযত, সংযমী হয়। বেচাকেনায়, কথা বলায়, চলাফেরায়- ফলে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রহমতের ধারা বর্ষিত হয়। রহমতের বর্ষণ বরকত ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।

রোজার প্রতিদান সরাসরি মহান আল্লাহ দেবেন। তাই মানুষের আগ্রহও এর প্রতি অনেক। এক হাদিসে আছে- হজরত সাহল ইবনে সাদ (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বেহেশতে আটটি দরজা রয়েছে। একটি দরজার নাম ‘রাইয়্যান’। রোজাদার ব্যতীত ওই দরজা দিয়ে আর কেউ বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। [সহিহ বুখারি ও মুসলিম]

মুসলিম দেশের চিত্র তো এ রকম যে, রোজায় প্রতিটি পরিবারে শান্তি ফিরে আসে। কলহ নিঃসন্দেহে কমে যায়। ঝগড়াও হয় না বললেই চলে। মানুষ অন্য মাসের চেয়ে অনেক বেশি সহনশীল হয়। পরিবারের সব সদস্যের মধ্যেই আলাদা একটা সহনীয় মানসিকতার সৃষ্টি হয়। তাই বিবাদ কমে গিয়ে পরিবারে শান্তি ফিরে আসে। একে অপরের প্রতি টানও বহুগুণ বেড়ে যায়। রোজার এ রহমতের ছায়াকে পারিবারিক জীবনের প্রশান্তির একটি পাঠশালা বলা যায়।

বলা হয়েছে রোজার প্রথম দশ দিন রহমতের। রহমত কেবল এ দশ দিনের জন্য যেন না হয়। রোজাদার সারা জীবনই যেন রহমতের এ আভায় মন রাঙিয়ে রাখতে পারেন। রোজাদার চেষ্টা করলেই এ মাসে সব রকম মাগফিরাত অর্জন করতে পারেন। আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণ যেন রোজাদারের ঝুলিতে জড়ো হয় এ প্রচেষ্টাই চালাতে হবে তাকে। এসব বান্দার জন্যই রোজার প্রতিটি ক্ষণ বা মুহূর্ত পুণ্যময়। এ মাসে পুণ্য ব্যতীত কোনো মুহূর্ত নেই। সেহরি, সালাত, কোরআন তেলাওয়াত, ইফতার, তারাবি, কিয়ামূল লাইলসহ নানা রকম পুণ্যময় আমলেই ডুবে থাকে মুমিন। এজন্যই মাহে রমজানকে বলা হয় পুণ্যের মাস।

লেখক : শাইখুল হাদিস, মহাপরিচালক, জামিয়া ইকরা বাংলাদেশ ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়ার গ্রান্ড ইমাম। islahulbd@yahoo.com






Related News

Comments are Closed