Main Menu

এরদোগানের সমর্থনে রাজপথে হাজার হাজার মানুষ

তুরস্ক কর্তৃপক্ষ একটি সামরিক অভ্যুত্থান নস্যাৎ করার পর শনিবার প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোগানের সমর্থনে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে আসে। অভ্যুত্থানের সময় সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৬৫ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।শুক্রবার অভ্যুত্থানের পর ইস্তাম্বুলে সমর্থকদের উদ্দেশে বিজয় ভাষণ দেন এরদোগান। অভ্যুত্থানের ফলে তার ১৩ বছরের শাসন রক্তক্ষয়ী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল।

অভ্যুত্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা তুরস্কের ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লা গুলেনের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এরদোগান। তবে গুলেন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গুলেনকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন এরদোগান। অভ্যুত্থানের পর বহু সৈন্যের আত্মসমর্পণের ছবি টেলিভিশনে দেখানো হয়। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে অনেকের হাত পিছন দিকে বাধা ছিল। অনেককে আবার রাস্তায় জড়ো করে বসিয়ে রাখা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদ্রিম আঙ্কারায় তার অফিসের বাইরে বলেন, ‘পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে।’ এ সময় তুরস্কের শীর্ষ জেনারেল তার সঙ্গে ছিলেন। অভ্যুত্থানের শুরুতে তাকে জিম্মি করা হয়েছিল। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।

গত শুক্রবার রাত থেকে এরদোগানের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে সেনাবাহিনীর একাংশ। ভারী ট্যাংক নিয়ে তারা রাস্তায় অবস্থান নেয়। এ অবস্থায় এরদোগান ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) সমর্থকদের রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানান। তার ডাকে সাড়া দিয়ে গণতন্ত্র রক্ষা করতে রাস্তায় নেমে আসেন হাজারো সমর্থক। রাতভর চলে গুলি, সংঘর্ষ, বিস্ফোরণ। আকাশে ওড়ে যুদ্ধবিমান।

গতকাল শনিবার পর্যন্ত সহিংসতায় নিহত হয় ১০৪ সেনাসহ ২৬৫। আহত হয়েছে ১৪৪০ জন। অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ প্রায় তিন হাজার সেনাসদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন জেনারেলও আছেন।

শুক্রবার রাতে অভ্যুত্থানকারীরা কারফিউ জারি করলেও ক্ষমতাসীন এরদোগানের পার্টির সমর্থকরা তা অমান্য করে রাস্তায় নেমে আসে।
তবে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ থাকায় এরদোগান গতকাল শনিবার জনগণ ও নিজ দলের সমর্থকদের রাস্তায় থাকার আহ্বান জানান।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘অভ্যুত্থানের চেষ্টা যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, আমাদের সারা রাত রাস্তায় থাকতে হবে। কারণ, যেকোনো মুহূর্তে আবার নতুন করে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।’ সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে তুরস্কের বিভিন্ন রাস্তায় অবস্থান করে তার সমর্থকেরা।

এএফপি’র এক সংবাদদাতা জানান, ইস্তাম্বুলের মধ্যাঞ্চলে তাকসিম স্কয়ার, প্রেসিডেন্টের নিজ জেলা কিসিকলি, আঙ্কারার কিজিলেই স্কয়ার ও উপকূলীয় জমির নগরীতে শনিবার এরদোগানের হাজার হাজার সমর্থক ফের অবস্থান নেয়।






Related News

Comments are Closed