Main Menu

‘জঙ্গিবাদের ব্যাধি যেন কলেজ পর্যায়ে ঢুকতে না পারে’

জঙ্গিবাদের ব্যাধি যেন কলেজ পর্যায়ে ঢুকতে না পারে সে ব্যাপারে কলেজ শিক্ষকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। একইসঙ্গে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে এই ব্যাধি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনাও শিক্ষকদের দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

রাজধানীর ফার্মেগেটে কৃষিবিদ ইনিস্টিটিউট মিলনায়তনে কলেজ অধ্যক্ষদের সঙ্গে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তির সমাবেশ’ এ শিক্ষামন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন আর রশিদ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা পরিবার সবচেয়ে বড়। দেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ শিক্ষা পরিবারের সঙ্গে জড়িত। কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ লাখ। তারা যদি বিপথগামী হয় তাহলে আমাদের আশা ভরসা শেষ হয়ে যাবে। আপনারা শিক্ষকরাও কষ্ট পাবেন। তাই যার যার কর্মক্ষেত্রে গিয়ে এ ব্যাপারে কাজ করতে হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক উন্নত বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে আমাদের শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে হবে। আধুনিক জ্ঞান-প্রযুক্তি ও দক্ষতা সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। শিক্ষার্থীরা যাতে দক্ষ ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে পারে, সেভাবে তাদেরকে গড়ে তুলতে হবে। বিশ্বমানের জ্ঞান-প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। নৈতিক মূল্যবোধ, সততা, নিষ্ঠা, মানবিকতার শিক্ষা দিতে হবে। পরিপূর্ণ দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা একটা নতুন পরিস্থিতি দেখছি। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। আমরা আজ যে সমস্যায় আছি, এটা বৈশ্বিক সমস্যা। এ থেকে উত্তরণের জন্য সারাদেশের সবাই মিল এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা শিক্ষা পরিবার যারা আছি, তারা এ পরিস্থিতিতে বসে থাকতে পারি না। বসে থাকলে চলবে না। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বুঝাতে হবে। কিছু উদাহরণ দিয়ে বুঝাতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পেছনে সময় করে তার ওপর খেয়াল রাখতে হবে। কোনো পরিবর্তন আসে কি না, খেয়াল রাখতে হবে। ক্লাসের বাইরে সভা করে হোক বা অন্যভাবে তাদের বোঝাতে হবে। শিক্ষার্থীর প্রতি শিক্ষকের আস্থা অর্জন করতে হবে। তাদের কউ বিপথগামী করতে গেলে, তারা যেন শিক্ষককে এসে জানায়। কেউ কেউ তাদের অন্যপথে নেওয়ার চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঠিক এমনভাবে মিশতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গি কার্যক্রমে যারা যুক্ত হচ্ছে তারা তরুণ প্রজন্মের। আমাদের কিছু নামিদামি প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের তৎপরতা চলছে। তারা মেধাবী উচ্চবিত্ত পরিবারের। তাদের কোনো কিছুর অভাব নেই। তাদের এই ধরনের কাজে উদ্ভুদ্ধ করে কাজে লাগনো হচ্ছে। আবার কোনো কোনো শিক্ষককেও কাজে লাগানো হচ্ছে।’

গুলশানে হামলাকারীরা ইসলামের অনুসারী হতে পারে না, মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামের সঙ্গে এদের কাজের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। কারণ গুলশানে তারা তারাবির নামাজের সময় হামলা করেছে। তারা যদি ইসলামের রীতিনীতি মানত, তাহলে তারা ওই সময় নামাজে যেত, মানুষ হত্যা করতে নয়।’






Related News

Comments are Closed