Main Menu

জঙ্গিবাদ নয়, প্রেমিকের হাত ধরেই ‘নিখোঁজ’ হন ইরা

প্রায় এক মাস ‘নিখোঁজ’ থাকার পর মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানায় এসে হাজির হন সরকারি শ্রীনগর কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী নুরুন নাহার ইরা।

ইরার জানান, কাউকে না জানিয়ে প্রেমিকের হাত ধরেই তিনি বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। এর মধ্যে তারা বিয়েও করেছেন। এতদিন তারা ঢাকার বাড্ডা থানা এলাকায় বসবাস করছিলেন।

ইরা গত ১৯ জুন মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার মাশুরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা কলেজ শিক্ষার্থী ইরা ‘নিখোঁজ’ হওয়ার পর তার পরিবার আশঙ্কা প্রকাশ করে, তাদের সন্তান জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় গত ১০ জুলাই মা শামীমা আক্তার শ্রীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

‘নিখোঁজ’ হওয়ার পর একদিন মোবাইল ফোনে কথা হলে শিক্ষার্থী ইরা পরিবারকে জানান, তিনি পবিত্র জায়গায় আছেন। খোঁজাখুঁজি করে লাভ নেই।

ইরার পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া একটি ছবির সূত্র ধরে মাঠে নামে পুলিশ। ছবিতে দাঁড়িওয়ালা এক যুবকের সঙ্গে ইরা ও তার আরো দুই বান্ধবী রয়েছেন। ওই যুবকের সন্ধান করতে গিয়ে দেখা যায়, তার নাম সিরাজুল ইসলাম নয়ন (৩৫)।

তিনি পাবনার বর্জনাথপুর গ্রামের আ. হামিদের ছেলে। সিরাজুল ইসলাম বর্তমানে ঢাকার গুলশান ২-এর ৭২ নম্বর সড়কের ১৫ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত আহমেদ গ্রুপের কর্মকর্তা। ২০১৫ সালে সমষপুর বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুলে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। ওই বছর এসএসসি পরীক্ষার আগে তিনি ইরাসহ আরো কয়েকজনের গাইড হিসেবে তিন মাস নিযুক্ত ছিলেন।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে পুলিশ সিরাজুল ইসলামকে শ্রীনগর থানায় হাজির করার জন্য আহমেদ গ্রুপের কর্ণধারকে অনুরোধ করলে সিরাজুল ইসলামকে ওই প্রতিষ্ঠানের একটি গাড়িতে করে কয়েকজন সহকর্মীসহ গুলশান থেকে শ্রীনগর পাঠানো হয়। সিরাজুল ইসলাম থানায় পৌঁছানোর আধা ঘণ্টা আগে ইরা থানায় এসে হাজির হন। তিনি তার জন্য অন্য কাউকে হয়রানি না করতে বলেন।

শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহিদুর রহমান জানান, তাদের আলাদাভাবে বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রথমে ইরা জানান, তিনি সিলেটে মাজারে ছিলেন। কথাবার্তা বিভ্রান্তিমূলক হওয়ায় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করার পর একপর্যায়ে ইরা জানান, সিরাজুল ইসলাম নয়ন ও তিনি গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে কাউকে না জানিয়ে বিয়ে করেন। তারা ঢাকার বাড্ডা থানা এলাকায় বসবাস করছিলেন। পরে ঢাকার পুলিশ তাদের বাড্ডার ঠিকানা নিশ্চিত করে।

মধ্যরাতে সিরাজুল ইসলাম নয়নকে তার অফিসের লোকের কাছে এবং বুধবার সকালে ইরাকে তার পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়।






Related News

Comments are Closed