Main Menu

মানুষের ভালোবাসা সবচেয়ে বড় পাওয়া

সুজানাকে একটু ভিন্ন ভাবনার তারকাদের তালিকায় ফেলা যায়। কারণ তিনি অনেক বেছে বেছে কাজ করেন। ব্যক্তি জীবনে এই তারকা বেশ ধার্মিক। নামাজ রোজার কারণে রমজান মাসে কোনো শুটিং করেন না। মানুষকে ভালোবাসেন। প্রতিবন্ধীদের নিয়ে তার কাজ এরইমধ্যে অনেককে প্রভাবিত করেছে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রকিব হোসেন

ঈদের অবসর কেমন কাটলো?
ঈদ মানেই আমার কাছে রান্না-বান্না। সকালটা আমার এই কাজ করতে করতেই কেটে যায়। সবাই আমার রান্না খেতে পছন্দ করে। বিশেষ করে আমার হাতের গরুম মাংস ও বিরিয়ানি খেতে তো অনেকে পাগল। আমিও প্রিয়জনদের রান্না করে খাওয়াতে ভালোবাসি। সেদিন বাসায় অনেকে আমার রান্না করা গরুর মাংস খেয়ে বলেছে, এটা নাকি তাদের খাওয়া জীবনের সেরা গরুর মাংস। এরপর মন থেকে তারা আমাকে দোয়া করেছেন।

সারাদিন কি রান্না করেই কেটেছে?
না, না, সকালে রান্না ও অতিথি পর্ব শেষ করে আমি চলে গিয়েছি উত্তরায়। সেখানে প্রতিবন্ধীদের সঙ্গে আমার ঈদের অবসর কেটেছে। সত্যি বলতে কী, ওখানে গেলে আমার মনটা ভালো হয়ে যায়। ওরা আমাকে এত ভালোবাসে যে, আমি ওদের মাঝেই অনেক প্রশান্তি খুঁজে পাই। আমি মনে করি, মানুষের ভালোবাসা আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।

আপনার এই মহৎ কাজটিকে কেউ কেউ নেতিবাচকভাবে দেখেন। এটা নিয়ে আপনার ভাবনা কেমন?
আমি তা সহজভাবেই দেখি। কারণ প্রতিটি কাজকেই একদল মানুষ ইতিবাচকভাবে দেখে, আরেক দল নেতিবাচকভাবে দেখে। আমরা বলি না যে, আমাদের পাঁচ আঙ্গুল সমান না। আমি ইতিবাচক মানুষগুলোর কথাকে আমলে নেই। আমার এই কাজ দেখে এরইমধ্যে কেউ কেউ প্রতিবন্ধীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। এটা আমাকে আলোড়িত করে। যারা আমার কাজকে নেতিবাচকভাবে দেখেন, আমি তাদের নিয়ে ভাবি না। কারণ কেউ তো আমাকে বলেনি যে, তুমি প্রতিবন্ধীদের জন্য কাজ করো। আমি মন থেকেই এই কাজটি করছি। আবার কেউ যদি বলে এই কাজ করো না, তাহলেও আমি তা বন্ধ করে দিব না। মানুষের জন্য কাজ করার এই প্রেরণা আমি পেয়েছি আমার বাবার কাছ থেকে। আমি বিশ্বাস করি আমার এই কাজের মাধ্যমে আমার বাবার আত্মা শান্তি পায়।

এবার ঈদের কাজ নিয়ে কথা বলতে চাই। একাধিক চ্যানেলে আপনার অভিনীত একটি ঈদ ধারাবাহিক প্রচার হচ্ছে। এর দর্শক সাড়া কীরকম?
‘রিদম অব লাইফ’ নামের এই ধারাবাহিকটিতে আমার বিপরীতে অভিনয় করেছেন সঙ্গীত তারকা শাফিন আহমেদ। রিয়েল লাইফের গল্প নিয়ে এটি নির্মিত হয়েছে। নাটকটিতে অভিনয়ের জন্য আমি দর্শক মহল থেকে দারুণ সাড়া পেয়েছি। আসলে এ ধরনের গল্প নিয়ে আমাদের দেশে খুব কমই কাজ হয়। গল্পের ভিন্নতার কারণে নাটকটি দর্শকদের আকর্ষণ করেছে। এছাড়াও তৌকীর আহমেদের বিপরীতে ‘চট্টমেট্রো’ নামের একটি নাটকেও আমি অভিনয় করেছি।

আপনাকে একটু কমই অভিনয় করতে দেখা যায়। এর কারণ কী?
এটা সবাই জানে যে, আমি একটু কমই কাজ করি। কারণ নাটক বা বিজ্ঞাপনচিত্রের ব্যাপারে আমি অনেক চুজি। আমি বরাবরই কোয়ালিটিকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছি। সংখ্যাটা আমার কাছে মূখ্য নয়। আমি একটি ভালো কাজের জন্য প্রয়োজনে ছয় মাস বা এক বছর অপেক্ষা করবো কিন্তু মানহীন কাজ করবো না। আমি বিশ্বাস করি, ভালো কাজ কম হলেও তা বেশি করে আলো ছড়ায়। মাঝে ভালোবাসা দিবসের একটি নাটকে অভিনয় করেছিলাম। এতে আমার বিপরীতে ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান। এই কাজটির জন্য আমি দর্শকদের মাঝ থেকে প্রচুর সাড়া পেয়েছি। ছেলে মেয়ে সবাই আমার কাজটির প্রশংসা করেছে। একজন বলেছে, আপু নাটকটি দেখলে মন ভালো হয়ে যায়। এটা কিন্তু কম কথা নয়।

ঈদে তো অনেকে অনেক অনেক নাটক করে। আপনি মাত্র দুটি নাটকে কাজ করেছেন। ভক্তদের জন্য এটা কম হয়ে গেল না?
তা ঠিক। আমার ভক্তরা দেখা হলে বা ফেসবুকে এটা নিয়ে বেশ অভিযোগ করে থাকেন। ঈদের আগে আমার কাছে অনেক নাটকে কাজের প্রস্তাব এসেছিল। আমি বেছে বেছে কাজ করি বলে তা ফিরিয়ে দিয়েছি। আবার কিছু নাটকের শুটিং রোজার মধ্যে পড়ায় স্ক্রিপ্ট ভালো লাগার পরও তা করতে পারিনি। কারণ আমি রোজার মাসে কোনো শুটিং করি না। এই মাসটি নামাজ রোজা নিয়েই কাটিয়ে দেই। তবে আগামী ঈদুল আযহার নাটকে কাজের সংখ্যা একটু বাড়িয়ে দিব ভাবছি।






Related News

Comments are Closed