Main Menu

অলিম্পিকের উদ্বোধন আজ

২০১৬ অলিম্পিক শুরু হওয়ার দু’দিন আগে গেমস মশাল রিওতে পৌঁছার পর দেখা গেল ব্যাপক বিশৃংখলা। শয়ে শয়ে মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছে অলিম্পিকের বিরুদ্ধে। অর্থনৈতিক মন্দা ও বেকারত্বে ব্রাজিলের দুর্দশা চরমে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জিকা ভাইরাসের আতংক। তাই বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে অলিম্পিকের বিলাসিতায় গা ভাসানোর বিরুদ্ধে তারা। তাদের ক্ষোভ এমনই বিক্ষোভে রূপ নেয় যে, কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে হয় পুলিশকে।

এ চিত্র অবশ্য রিও’র শিল্পাঞ্চলের। এ শহরের সব বাসিন্দাই যে অলিম্পিক-বিরোধী, এমনটি ভাববার কোনো কারণ নেই। অনেকেই স্বাগতও জানিয়েছে অলিম্পিক মশালকে। রাগ-হতাশা, ক্ষোভ-বিক্ষোভ একপাশে সরিয়ে রেখে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আজ।

রিও ডি জেনিরোর বিখ্যাত মারাকানা স্টেডিয়ামে ২০১৬ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক পর্দা উঠবে। কেউ বলতে পারবে না, পর্দায় থাকতে দাও। পর্দা উঠিও না। রিও অলিম্পিকের গরিমা অন্য কারণে। ইতিহাসে এই প্রথম দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দেশ গেমসের আয়োজক হয়েছে। তাই তো রাজনৈতিক টানাপোড়েন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং জীবনযুদ্ধে ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়া ব্রাজিল আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্মরণীয় করে তুলতে গত পাঁচ বছর এবং ৪০০,০০০ ঘণ্টা ব্যয় করেছে এর প্রস্তুতিতে।

কী থাকবে বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে শুরু হতে যাওয়া অনুষ্ঠানে? ঐতিহ্যবাহী অলিম্পিক শপথের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশের পতাকা উত্তোলন, এক হাজারেরও বেশি অ্যাথলেটের মার্চপাস্ট এবং ব্রাজিলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরিচালক লিওনার্দো কায়েতানো বিবিসি ব্রাজিলকে বলেছেন, ‘একঅর্থে গোটা ব্রাজিলকে তুলে ধরা হবে রিও ২০১৬ অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। আমরা দেখাব ব্রাজিলের মানুষ কিভাবে দু’হাত বাড়িয়ে গোটা বিশ্বকে সাদরে স্বাগত জানায়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশে থাকছে ‘উদ্যান’। এই গ্রহের সর্ববৃহৎ সবুজ প্রকৃতি পরিবেষ্টিত ব্রাজিল। এ বিষয়টি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’ ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী বৈচিত্র্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা গুরুত্ব পাবে। উদ্বোধনী মঞ্চ আলো করবেন ব্রাজিলের সুন্দরী সুপার মডেলরা।

রিও’র বস্তি নিয়ে ২০০২ সালে নির্মিত ‘সিটি অব গড’ খ্যাত নন্দিত চলচ্চিত্রকার ফার্নান্দো মেইরেলেস চোখ ধাঁধানো বিনোদন-পর্বের বিন্যাস করেছেন। যে অংশে ছয় হাজার স্বেচ্ছাসেবী ৭৮ হাজার দর্শকের সামনে নৃত্য পরিবেশন করবেন। সারা বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের নয়ন জুড়াবে সেই পর্ব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করবেন অভিনেত্রী জুডি ডেনচ এবং ফার্নান্দা মন্টেনেগ্রো। গান গাইবেন কায়েতানো ভেলোসো, গিলবার্তো গিল, এলজা সোরেস এবং আরও অনেকে। এই এলজা সোরেস হচ্ছেন ব্রাজিলের প্রয়াত ফুটবলার গারিঞ্চার স্ত্রী। তার বয়স এখন ৭৯। ব্রাজিলে একসময় তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন এই গায়িকা। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘এত বড় অনুষ্ঠানে জীবনে এর আগে কখনও গাইনি। আর কখনও গাইবও না।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আরেকটি চমকপ্রদ পর্ব হল, সাবেক সুপারমডেল বান্ডচ্যান। ক্যাটওয়াকের মাধ্যমে মঞ্চ আলোকিত করবেন তিনি। এখানে দেখানো হবে এক ছিনতাইকারীর কবলে পড়েও তাকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিচ্ছেন এই সুন্দরী। এই খবর আগেই ফাঁস হওয়ায় ব্রাজিলে সমালোচনা হচ্ছে। রিও শহরে ছিনতাই একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

অলিম্পিকের মতো সুবিশাল মঞ্চে নিজেদের কুৎসিত রূপ দেখানোটা রিওবাসীর মোটেও পছন্দ নয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, দিনশেষে মানবতার জয়ই উপজীব্য। অনুষ্ঠানে নৃত্য-গীত এবং থ্রিডি প্রোজেকশনের মাধ্যমে এই গ্রহকে সবার বাসযোগ্য করে তোলার জন্য শান্তির পথে পা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হবে। সেই সঙ্গে অরণ্যাচারী ব্রাজিলীয়রা কিভাবে বন-বাঁদাড়ের জীবন থেকে অট্টালিকার শহরের বাসিন্দা হল, সেই রূপান্তরের চিত্রও তুলে ধরা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কার হাতে থাকবে গেমসের মশাল, তা প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলেই মশাল বহন করবেন।






Related News

Comments are Closed