Main Menu

কান্দিল হত্যায় অংশ নেয় আরো একজন

পাকিস্তানের সমালোচিত মডেল কান্দিল বালুচ হত্যা মামলায় নয়া মোড় তৈরি হয়েছে। এ মডেলের মৃত্যু পর তার ভাই মোহম্মদ ওয়াসিম স্বীকার করেছিলেন ২৬ বছর বয়সি কান্দিলকে হত্যা করেছেন তিনি।

কিন্তু গত শনিবার এ হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের পলিগ্রাফ টেস্ট করার পর পুলিশ জানতে পেরেছে ওয়াসিমকে সঙ্গে নিয়ে কান্দিলকে হত্যা করেছেন তার কাজিন হক নওয়াজ।

পাকিস্তানের একটি সংবাদমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ১৬ জুলাই কান্দিলকে হত্যার সময় ওয়াসিম এ বিতর্কিত মডেলের হাত-পা ধরে ছিলেন এবং হক নওয়াজ তাকে গলা টিপে হত্যা করে।

প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, হত্যার আগে কান্দিল এবং তার বাবা-মাকে ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়। একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, অভিযুক্তদের জবানবন্দি ভিডিও এবং লিখিত নেওয়া হয়েছে। তদন্তে আরো জানা গেছে, কান্দিলের বড় ভাই সৌদি আরব প্রবাসী আরিফ পরিবারের সম্মান রক্ষার জন্য এ মডেলকে হত্যা করতে ওয়াসিমকে চাপ সৃষ্টি করছিল। এরপর ওয়াসিম এবং হক নওয়াজ পরিকল্পনা করে কান্দিলকে হত্যা করে।

কান্দিল বালুচের প্রকৃত নাম ফৌজিয়া আজিম। তবে কান্দিল নামেই সবার কাছে বেশি পরিচিত ছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন খোলামেলা ভিডিও এবং সাহসী বক্তব্য দিয়ে প্রায়ই সমালোচিত এবং বিতর্কিত হয়েছেন কান্দিল বালুচ। মৃত্যুর সপ্তাহ তিন আগে ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন অথরিটির কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন বালুচ। তিনি জানিয়েছিলেন, তার জীবন হুমকির মুখে। তাকে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

মারা যাওয়ার আগে গত রমজান মাসে একটি হোটেল কক্ষে মুফতি আবদুল কাভি নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দিয়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছিলেন কান্দিল। এ বিষয়ে সোশ্যাল সাইটে লিখেছিলেন, ‘মুফতি কী করে নিজেকে ইসলামের অভিভাবক বলেন? উনি তো ইসলামের নামে কলঙ্ক। উনি অনুরাগীদের সামনে এক রকম, আলাদা থাকলে আর এক রকম। একটি টিভি শোয়ের প্যানেলে আমাদের আলাপ হয়েছিল। সেখানে আমার ফোন নম্বর আলাদা করে চেয়েছিলেন। আমার সঙ্গে একেবারেই সম্মানজনক ব্যবহার করেননি। ফলে এই লোকটাকে আমি এক্সপোজ করতেই চেয়েছিলাম।’

এই ধর্মগুরু মুফতি আবদুল কাভিকেও সন্দেহের আওতায় রেখেছে পুলিশ। কান্দিলের মা আনোয়ার আজিমও অভিযোগ করেছেন, খুনের পেছনে মুফতির উস্কানি ছিল। পুলিশ ইতিমধ্যেই মুফতির লিখিত জবানবন্দি নিয়েছে।

জবানবন্দি দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে না আসায় ১৪ পয়েন্টের প্রশ্ন পাঠিয়ে আবদুল কাভির জবানবন্দি নেওয়া হয়।

পাকিস্তানের দক্ষিণ পাঞ্জাবের দেরা গাজী খান জেলার শাহ সদর দিনে আদিবাসী এলাকায় বেড়ে উঠেছিলেন কান্দিল বালুচ। বাস হোস্টেস হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু তার। এরপর মডেলিংয়ে যোগ দিয়ে নিজের নাম বদলান তিনি।






Related News

Comments are Closed